
উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে টানা দুইদিন মেঘলা আকাশ আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির পর শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর থেকে আবারও চিরচেনা রূপে আবির্ভূত হয়েছে শীত। ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে চারদিক। তাপমাত্রা আবার এক ঘরে নেমে এসে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলছে। ডিসেম্বর মাসের তিন সপ্তাহ ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে এই জেলায়।
গতকাল রাত থেকে প্রচন্ড শীতের সাথে ঠান্ডা বাতাসে কাবু হয়ে যাচ্ছে মানুষের সাথে পশুপাখিও। শুক্রবার সকাল ছয়টায় ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি এবং সকাল নয়টায় তাপমাত্রা কমে গিয়ে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রী সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। গতকাল তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৩ ডিগ্রী।
স্থানীয়রা আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, পৌষের শীত আর হিমেল বাতাসে জবুথবু অবস্থায় দূর্ভোগে দিন কাটছে ছিন্নমুল ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা। ভোরে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে চারদিক। তখন কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। সন্ধ্যা থেকে সকাল দশটা পর্যন্ত শীত নিবারণের জন্য আগুন পোহাতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। কুয়াশার সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।
দিনের বেলা সূর্য উঠলেই ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে যায় তবে ঠান্ডার প্রকোপ বেড়ে যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে ঝলমলে কুয়াশা মিশ্রিত রোদ উঠলেও উত্তাপ ছড়ায় না। এতে শীতের পোশাক ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। ভর দুপুরেও শীতের পোষাক মুড়িয়ে চলাফেরা করতে হয় পঞ্চগড়ে। শহর থেকে গ্রামঞ্চলের দিকে শীতের তীব্রতা বেশি।
শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের সাহেব বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায় শীতের তীব্রতায় ঘর থেকে বের হচ্ছেনা মানুষ। সকাল আটটার দিকে সূর্য উঠলেও কৃষকরা দেরিতে বাসা থেকে বের হচ্ছে। শীত নিবারণের জন্য বাড়িতে বাড়িতে খড় দিয়ে আগুন পোহাচ্ছে।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণী আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগাড়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমে যেতে পারে । বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে জানুয়ারি মাসে।
এমআই




