ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল, নেই শৃঙ্খলা

সাইফুর রহিম শাহীন, কক্সবাজার

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৯:০১ পিএম

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও উপ-সড়কে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। চলাচলে নেই কোন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা। এই মহাসড়ক ও পার্শ্ববর্তী উপ-সড়ক যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণ হারাচ্ছে যাত্রী ও পথচারীরা। গত তিন মাসে অন্তত শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। হাজারো মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছে। এভাবে থমকে যাচ্ছে বহু পরিবার। আর যেসব মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন অথবা পঙ্গুত্ব বরণ করেন তাদের পরিবারের খবর কেউ রাখে না!
কার্যকরী পদক্ষেপ নিলে এসব সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে আসতো। লবণের পানি, সড়কের উপর দৈনন্দিন বাজার, ফিটনেস বিহীন গাড়ি, নিষিদ্ধ তিন চাকার গাড়ি ও সড়ক ছোট হওয়াকে দুর্ঘটনার কারণ বলে দায়ী করেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়রা জানান, পলিথিন দিয়ে লবণ পরিবহনের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে একাধিকবার চিঠি দেয়া হলেও এখনও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার কোটি কোটি টাকায় রাস্তা তৈরি করছে আর লবণ পানিতে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লবণ পরিবহনের কারণে বিকাল থেকে ভোর পর্যন্ত এই সড়ক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। অন্যদিকে ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা। ফলে অকালে ঝরছে মানুষের প্রাণ। বিশেষ করে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে লবণবাহী ট্রাক থেকে পানি পড়ে পিচ্ছিল হচ্ছে প্রতিদিন। এ কারণে পিচ্ছিল সড়ক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলায় সামান্য পরিমাণ লবণবাহী ট্রাক চলাচল করলেও সন্ধ্যার পর বেশি সংখ্যক চলাচল করে। লবণ আর ধুলোয় জমাট বেঁধে আস্তরণ তৈরি হয় এবং সড়ক হয়ে উঠে তেলতেলে।
এ সময় কোন যানবাহন প্রয়োজনের সময় ব্রেক করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এভাবে গত তিনমাসে সড়ক দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
পরিবহণ শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার প্রধান কারণ চালকের বেপরোয়া গতি। দুর্ঘটনার আরও একটি অন্যতম কারণ হলো, ঘুমের ঘোরে গাড়ি চালানো। বিশ্রাম ব্যতীত গাড়ি চালানোর ফলে তাদের চোখে অনেক সময় ঘুম চলে আসে। ফলে ঘটে যায় মারাত্মক দুর্ঘটনা।
চকরিয়া-বদরখালী সড়ক, পেকুয়া-চকরিয়া সড়ক, ঈদগাঁও-চৌফলদন্ডী সড়ক, গোমাতলী-ইসলামপুর সড়ক, কালিরছড়া থেকে নাপিতখালী পর্যন্ত মহাসড়কের অবস্থা খুবই বিপজ্জনক। আবার বেশ ক’জন পথচারীদের মতে, মহাসড়কে শুধু লবণ পানির কারণে সড়ক বিপজ্জনক হওয়ায় দুর্ঘটনা বেড়েছে। এসবের পরও খোলা ট্রাকে লবণ পরিবহন দমানো যাচ্ছে না। পিচ্ছিল হওয়া ছাড়াও লবণ পানি পড়ে মহাসড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে হারবাং, বরইতলী, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা ও খুটাখালী ইউনিয়নের বিশাল এলাকা মহাসড়কের মধ্যে পড়েছে। এসব ইউনিয়নের ২০টি স্পটে সড়ক দখল করে দৈনিক বাজার বসার কারণে গাড়ি চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায় সময় দূরপাল্লার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ছোট গাড়িগুলো প্রধান সড়কে চলাচলে নিষিদ্ধ করলেও এসবের তোয়াক্কা করছে না গাড়ি চালকরা। এছাড়াও পর্যটন শহর কক্সবাজার মৌসুম হওয়ায় গাড়ি চলাচল বাড়ছে। এসব কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
খোলা ট্রাকে করে লবণ পরিবহন কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না। এ কারণে এলাকার লবণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। খোলা লবণ পরিবহন বন্ধে সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় লবণ পরিবহনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার এম এম রকিবুর রাজা।
৮ ফেব্রুয়ারি সকালে কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় পিকআপের ধাক্কায় একই পরিবারের ৫ সহোদর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। ৫ সন্তানের মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে গেছে সদ্য বিধবা মা ও স্বজনরা। নিহতরা পিতার মৃত্যুর দশম দিন ধর্মীয় রীতিনীতি পালন শেষে ফেরার পথে উপজেলার মালুমঘাট এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এর আগের দিন সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া এলাকায় শ্যামলী যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক সংঘর্ষে চালক-হেলপারসহ ৩ জন নিহত হয়েছে। এ সময় গাড়ি দুটিতে থাকা অন্তত ৩০ যাত্রী আহত হয়েছে।
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহা সড়কের চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মালুমঘাট ও দোহাজারি হাইওয়ে থানার অন্তর্গত মহাসড়কে বেশকিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিসংখ্যান তার কাছে নাই বলে দাবি করেন তিনি।
তবে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ইনচার্জ শাফায়েত হোসেন জানান, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কিছু স্থানে আঁকা-বাঁকা সড়ক, সরুপথ, অদক্ষ চালক ও ছোট সড়কগুলোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
তিনি আরও বলেন, সোমবার ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় পিকআপের ধাক্কায় একই পরিবারের ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে; পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনারোধে মহাসড়কে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা ।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ হলেও নিয়মের তোয়াক্কা না করে চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এ ছাড়া নছিমন ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলে এ সড়কে। অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে চলে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাক। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন আরটিভির বার্তা সম্পাদক তাবিবুর রহমান তালুকদার। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ও হিমালয় গ্রুপের সহযোগিতায় ভূঞাপুর, গোবিন্দাসী ও পাথাইলকান্দি বাজারে গরীব, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়। এ সময় কম্বল পেয়ে খুশি হন ওই এলাকার গরীব-দুস্থ ও অসহায় মানুষরা। আরটিভির টাঙ্গাইল প্রতিনিধি কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা মুফাসসির পরিষদের সভাপতি মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এলেঙ্গা শাখা ব্যাবস্থাপক মো. হাফিজুর রহমান, ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহআলম প্রামানিক, সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলাম তালুকদার, নীড় ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুফতি মাওলানা ফজলুর রহমান। এ সময় তারা বলেন, সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে। সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই প্রতি বছর আমরা দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ
প্রেমিকাকে না পেয়ে মোবাইল টাওয়ারে প্রেমিক
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে হতাশায় নাফিজ (১৮) নামে এক তরুণ মোবাইল ফোনের টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।  শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন বিকেলে ওই ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের পিপলস ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যা চেষ্টা করা ব্যক্তি হলেন, উপজেলার মথুরাপুর এলাকার ইহান সর্দারের ছেলে নাফিজ।  স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেলে আত্মহত্যার জন্য নাফিজ ওই টাওয়ারে উঠেন। এ সময় খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নাফিজের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ নানা রকম মতবিনিময় করেন। পরে তাকে ফিরে আসতে অনুপ্রেরণা জোগায়। এ সময় ঘণ্টাখানেক চেষ্টার পর তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।  তারা আরও জানান, এলাকার অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি মেয়েকে ভালোবাসেন নাফিজ। প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। লাফিয়ে পড়তে সাহস না হলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় তাকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে তাকে আত্মহননের হাত থেকে রক্ষা করে পুলিশ। এ বিষয়ে ওসি মজিবুর রহমান জানান, প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে নাফিজ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে কৌশলে তাকে বুঝিয়ে উদ্ধার করা হয়। 
প্রেমিকাকে না পেয়ে মোবাইল টাওয়ারে প্রেমিক
‘নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত’
র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন বলেছেন, নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও আমাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে গুলশান ২ নম্বর মোড়ে নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এম খুরশীদ হোসেন বলেন, নতুন বছরে জঙ্গিরা নতুন করে আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। তবে কোনো সংকট তৈরি হলে সেটি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুতি রয়েছি। আমরা সবসময় শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত। গুলশান নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এ এলাকায় দূতাবাস, ফাইভ স্টার হোটেল, সমাজের উচ্চবিত্তদের বসবাস। সবকিছু বিবেচনা করে আমরা বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছি। র‍্যাব প্রধান বলেন, ডিএমপি থেকে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সবাইকে মেনে চলার অনুরোধ করছি। উন্মুক্ত স্থান ও ছাদে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। তবে ফাইভ স্টার হোটেলের অনুষ্ঠানে বাধা নেই। মাদকসেবন ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ঠেকাতে আমরা মাঠে আছি। সারাদেশে মানুষ উৎসব করবে। কিন্তু নিয়মের মধ্যে থেকে তা করতে হবে। সারা বিশ্বের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নববর্ষের ভিন্ন আয়োজন থাকে। তেমনি আমাদের দেশেও গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মানুষের চাপ বেশি থাকে। এজন্যই আমরা এসব এলাকাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তিনি বলেন, তরুণরা গুলশানকেদ্রিক। তারা বিভিন্নভাবে এ এলাকায় আসতে চায়। আমরা কাউকে নববর্ষ উদযাপনে বাধা দিচ্ছি না। আমরা আধুনিকতা পছন্দ করি। কিন্তু এর নামে বেহায়াপনা করলে সেটাও সমাজ মেনে নেবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমরা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। আমরা পারিবারিকভাবে এটি পালন করতে উৎসাহ দিচ্ছি।
‘নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত’
বাসের ধাক্কায় খালে প্রাইভেটকার, অতঃপর...
মাদারীপুরের ঘটকচর এলাকায় বাসের ধাক্কায় খালে পড়ে ডুবে গেল একটি প্রাইভেটকার। এ সময় প্রাইভেটকারে থাকা তিন যাত্রীসহ চালক আহত হয়েছে।  শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম মওলা রসুল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন বিকেলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ঘটকচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  আহত চালক চাপাইনবাগঞ্জের গোমস্তপুর উপজেলার সোনাপাড়া গ্রামের মিরাজ মণ্ডলের ছেলে জামিরুল ইসলাম মণ্ডল। স্থানীয়রা জানান, একটি পরিবারের তিন সদস্য শনিবার বিকেলে বরিশাল থেকে একটি ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকারযোগে ঢাকা যাচ্ছিল। এ সময় প্রাইভেটকারটি যখন ওই এলাকায় পৌঁছায়, তখন পিছন থেকে যাত্রীবাহী পরিবহন প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটি পাশের একটি খালে পড়ে ডুবে যায়।  তারা আরও জানান, প্রাইভেটকারটি থেকে তিন যাত্রী ও চালককে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। যাত্রীদের মধ্যে শিশু ও মহিলা ছিল। আহতদের বাড়ি ভোলা জেলায়। তারা ঢাকা যাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় চিকিৎসক দেখিয়ে যাত্রীরা চলে যায়। এরপর হাইওয়ে পুলিশ গিয়ে প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে।  ওসি মো. গোলাম মওলা রসুল জানান, শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। খালে পানি কম থাকায় বড় ধরণের দুর্ঘটনা থেকে যাত্রী ও চালক রক্ষা পেয়েছে। পরিবহনটিকে আটক করা যায়নি। 
বাসের ধাক্কায় খালে প্রাইভেটকার, অতঃপর...
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
ঢাকায় গণমিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আট হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) করা এসব মামলায় মোট ৮ হাজার ২০২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ ও চারটি থানা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর মৌচাকে জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় পুলিশের ওপর হামলা করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। হামলায় ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় রমনা থানায় করা মামলার এজাহারে ৯১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত তিন হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। শাজাহানপুর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত ৯০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। রামপুরা থানায় করা মামলায় ৩০২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে জামায়াতের উত্তরার আমিরসহ তিনজনকে। খিলগাঁও থানায় করা পুলিশের ওপর হামলা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। তবে অজ্ঞাতদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই জনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে, শনিবার দুপুরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে জামায়াতের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্য মেনে নেব না। তারা অতীতে যে নৈরাজ্য চালিয়েছিল তা নতুন করে আর করতে দেওয়া হবে না। বগুড়ায় চাঁদে সাঈদীকে দেখা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের খুন করা হয়েছে। গাইবান্ধায় আগুন দেওয়া হয়েছে, পুলিশ সদস্যদের আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। অতীতে তারা যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় আবার পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না। যত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তাই নেওয়া হবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, অবৈধভাবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে পুলিশের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করে। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশের ১১ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। এ সময় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জামায়াতের অতীত ইতিহাস ফিরে আসুক এটা আমরা মেনে নেব না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ প্রস্তুত ছিল। তারা প্রথমে বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল বের করার তথ্য প্রচার করেছে, সেখানে আমাদের পুলিশ ছিল। সেখানে তারা মিছিল বের করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের বাধায় মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর তারা মৌচাক-মালিবাগ এলাকায় মিছিল বের করে। আপনারা জানেন ওই এলাকা তিন থানার মোড়, ফলে প্রত্যেক থানা নিজ নিজ এলাকায় প্রস্তুতি নেয়। এ সুযোগে তারা বিচ্ছিন্নভাবে একত্রিত হয়ে মিছিল বের করে। মৌচাকে পুলিশ তাদের বাধা দিলে সেখানে সংঘর্ষ হয়। জামায়াতের আমির গ্রেপ্তার আছে, কিন্তু হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে বাইরে থাকা শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকেই আমাদের অভিযান চলছে।
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
আরও পড়ুন
কক্সবাজার সৈকতে ‘থার্টি ফার্স্ট নাইটের’ আয়োজন নিষেধ
বাড়ির পাশের গর্ত থেকে মিলল ইয়াবা, গ্রেপ্তার ৩ 
খাল থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ১৮ কি.মি এলাকাজুড়ে যানজট