
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সাগর উপকূলে আটকে যাওয়া এতিমখানার নামে আনা জাহাজের (রয়েল বাড) মালিকানা দাবি করে অননুমোদিত উপায়ে কাটার কারণে গিয়াস উদ্দিন, মাহবুব ও কামাল মেম্বার নামে তিন ব্যক্তিকে ২৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম। বুধবার (২ মার্চ) পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ে শুনানি শেষে এই আদেশ দেন পরিচালক মফিদুল ইসলাম।
এর আগে সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ‘এতিমখানার নামে আনা জাহাজ গিলে খাচ্ছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট’শিরোনামে আরটিভি অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ওই দিন বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এ সময় সময় জাহাজ কাটার বিষয়ে নানা অনিয়ম দেখতে পেয়ে তারা জাহাজের মালিক দাবি করা গিয়াস উদ্দিন, মাহবুব ও কামাল মেম্বার নামের তিন ব্যক্তি ও ভাটিয়ারী শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিককে নোটিশের মাধ্যমে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মফিদুল ইসলাম বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে জাহাজ না কাটার কারণে জাহাজের মালিকানা দাবি করা তিন ব্যক্তিকে ২৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে নোটিশ পেয়েও ভাটিয়ারী শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিকপক্ষের কেউ হাজির হননি। তাদের পুনরায় নোটিশ করা হবে। এরপরও হাজির না হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পরিচালক মফিদুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে যান্ত্রিকত্রুটির কারণে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর সাগর উপকূলে আটকে যায় ‘রয়েল বাড’ নামে ঢাকার কোন এক এতিমখানার মালিকানাধীন একটি জাহাজ। এরপর থেকে বিগত ২৯ বছর ধরে একই জায়গায় জাহাজটি আটকে আছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জাহাজটির মালিকানা দাবি করে এটিকে কেটে নিয়ে যাচ্ছিল। অথচ ‘ভাটিয়ারী শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড’ নামের যে শিপ ইয়ার্ডের মাধ্যমে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল তাদের লাইসেন্সও নবায়ন ছিল না। অন্যদিকে তারা কাটছে না জানিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায়ভারও নিতে রাজি না বলে জানিয়েছিল ভাটিয়ারী শিপ ইয়ার্ডের মালিকপক্ষ। ফলে এ নিয়ে জটিলতা ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
কামাল মেম্বার বলেন , আমাকে কোন রকম জরিমানা করা হয়নি। জরিমানা করা হয়েছে ইয়ার্ড মালিককে । ইয়ার্ডের কাগজপত্র আপডেট করা হয়নি তার জন্য।




