ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সাহস দেখাতে বললেন মাইক্রোসফটে চাকরি পাওয়া রাজিব

সাফায়িত সিফাত, কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২২, ০৬:৪৬ পিএম
রাজিব পাল

মাইক্রোসফট-গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাওয়া অনেক তরুণেরই স্বপ্ন থাকে। ক্যাম্পাস জীবনে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় এমন স্বপ্ন বুনেছিলেন রাজিব পালও। তবে তার ক্ষেত্রে সেটা আর অন্যদের মতো স্বপ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটের আমন্ত্রণে আগামী ১৫ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির আয়ারল্যান্ড অফিসে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাজিব চন্দ্র পালের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গোহট গ্রামে। পরিবারে তিন-ভাইবোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ।

মাইক্রোসফটে সুযোগ পাওয়ার পেছনের গল্প থেকে শুরু করে তার ভবিষ্যৎ ভাবনা সম্পর্কে জানতে রাজিব চন্দ্র পালের সঙ্গে কথা বলেছেন আরটিভি নিউজের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সাফায়িত সিফাত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টে যোগ দিতে যাচ্ছেন। কেমন লাগছে?

রাজিব পাল : সত্যিই অসাধারণ। আমি বিশ্বাস করি আমার মতো এমন আরও অনেকেই আছেন, যারা গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনে কাজ করার সামর্থ্য রাখেন। তবে প্রথম হিসেবে নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। এই আনন্দ প্রকাশ করার মতো না।

স্বপ্ন দেখার শুরুটা কীভাবে হলো?

রাজিব পাল : মূলত, স্বপ্নটা শুরু হয় কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হওয়ার পর। যখন আমরা নানান প্রোগ্রামিং কনটেস্টে অংশগ্রহণ করতে থাকি, তখন থেকেই টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর নাম শুনি। বলতে গেলে আমার কনটেস্টে অংশগ্রহণের সময় থেকেই এমন স্বপ্নের সূচনা।

বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে বিভাগে আপনার বেশ পরিচিতি আছে। এ সম্পর্কে আরও জানতে চাই

রাজিব পাল : আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে প্রতিটি কনটেস্টেই অংশগ্রহণ করতাম। অন্যদেরও অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করতাম। ছোট কিংবা বড়, কোনো কিছুই বাদ দিতাম না। এটা অনেকটা নেশার মতো কাজ করত। আমার মতে প্রোগ্রামিং কনটেস্ট, প্রব্লেম সল্ভিং এবং এই ধরনের সফলতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

প্রতিটি সাফল্যের পেছনে সংগ্রাম কিংবা ত্যাগের গল্প লুকিয়ে থাকে। আপনার সাফল্যের পেছনের গল্পটা জানতে চাই।

রাজিব পাল : বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহমুদুল হাসান রাজু স্যার আমাদেরকে দিনের পর দিন কনটেস্টের উপকারিতা বুঝিয়ে গেছেন। এরপর আমি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একটা বড় সময় শুধু এ কাজেই ব্যয় করি। অনেক রাতজাগা, পরীক্ষার আগের দিনও অন্য কোথাও গিয়ে কনটেস্টে অংশগ্রহণ করা, এসব আমি আনন্দ নিয়ে করতাম। তবে আমার বিভাগের সব স্যারই আমাকে যথেষ্ট অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। আমার সাফল্যের পেছনে আমার বিভাগকেই দেখি।

নিয়োগ প্রক্রিয়াটা কেমন ছিল?

রাজিব পাল : লিংকডইনে আমি মাইক্রোসফটের একটা জব পোস্ট দেখি। তারপর সরাসরি আবেদন করে ফেলি। দুই-তিন দিন পর একটা ই-মেইল পাই। এতে একটা কোডিং টেস্টের কথা বলা থাকে এবং তার জন্য একটা মিনিমাম সময় বেঁধে দেওয়া হয়। আমি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোডিং টেস্ট সম্পন্ন করি। তারপর সপ্তাহখানেক পর চারটা অনলাইন ইন্টারভিউয়ের ই-মেইল পাই। ইন্টারভিউতে সিস্টেম ডিজাইন, লো লেভেল ডিজাইন এবং আরেকটা কোডিং টেস্ট থাকে। সর্বশেষ ইন্টারভিউ দিই মাইন্ড সেট এবং কোলেবোরেশানের ওপরে। তারপর তিন-চার সপ্তাহ পর আমাকে অফার লেটার দেওয়া হয়।

অনেকেরই এমন সুযোগ পাওয়ার স্বপ্ন থাকে। আপনি সেটা ইতোমধ্যে পেয়েছেন। তারপর নিজেকে কোথায় দেখতে চান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

রাজিব পাল : সম্প্রতি কোনো কিছুতে লিড দেওয়ার একটা প্রবণতা আমার ভেতর তৈরি হয়েছে। আপাতত একজন লিডার হিসেবেই নিজেকে দেখার ইচ্ছা।

স্বাভাবিকভাবে এখন দেশের চেনাজানা গণ্ডি পেরিয়ে আয়ারল্যান্ডে স্থায়ী হতে হবে। কিন্তু সেখানেও পরোক্ষভাবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন বলা যায়। এ বিষয়গুলো কীভাবে দেখছেন?

রাজিব পাল : অনেক বাংলাদেশি সেখানে আছে। সমাজ, সম্প্রীতি এবং দেশের মান বজায় রেখে চলা ছাড়া আর তেমন কিছুই দেখছি না।

মাইক্রোসফট-গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশিদের তুলনায় ভারত বা পার্শ্ববর্তী বেশকিছু দেশের লোকবল তুলনামূলকভাবে বেশি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পিছিয়ে থাকার পেছনে কারণ বা মূল চ্যালেঞ্জটা কী বলে আপনি মনে করেন? সঠিক লক্ষ্য ঠিক করতে না পারা, দক্ষতার অভাব নাকি অন্য কিছু?

রাজিব পাল : আজকাল অনেক ছেলে-মেয়ে বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছে। দেশের জনসংখ্যা বিবেচনা করলে আমরা ভালোই এগিয়ে আছি। তবে এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে। দক্ষতার অভাব আছে বলে আমি মনে করি না। শুধু সাহস করে ইন্টারভিউটা ফেইস করাটাই দরকার।

বর্তমানে সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচুর সময় ব্যয় করে। কিন্তু আপনি ফেসবুক ব্যবহার করেন না বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় নন। এর পেছনে কি সময়ের অপচয় রোধ বা কিংবা মূল কাজে ফোকাস করার মতো বিশেষ কোনো কারণ আছে?

রাজিব পাল : একটা সময় আমি অনেক সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সক্রিয় ছিলাম। কিন্তু সময় এবং ফোকাস নষ্ট হওয়ার কারণে আমি সবকিছু থেকেই বিরত থাকি। বিশেষ করে গত কয়টা মাস আমাকে একেবারে কেউই খুঁজে পায় নাই। যদিও এটা ঠিক না, কিন্তু এমন একটা স্বপ্নের জন্য আমি তা করতে বাধ্য হই।

মাইক্রোসফটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন। বহির্বিশ্বে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে উপস্থাপন করতে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

রাজিব পাল : আমার জুনিয়র ভাই ও বন্ধুদের সবাইকে আমি উৎসাহিত করি। আমি আমার জার্নি এবং পরিকল্পনা তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করব। আমি চাই আমার মতো তাদেরও সাফল্য আসুক। তাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমি তাদের সঙ্গে থাকব।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিভাগের বিশেষ কোনো স্মৃতি...

রাজিব পাল : বিভাগের প্রতিটা সময়ই আমার কাছে বিশেষ ছিল। তবে ২০১৭ সালে আমরা একটা কনটেস্ট আয়োজন করি। এই কনটেস্টের প্রতিটি সময়ই আমার কাছে অন্য রকম ছিল।

অনুজদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী?

রাজিব পাল : ভয় ব্যাপারটা দূর করতে হবে। অধ্যয়নরত যারা আছে, তাদের বলব অলগোরিদম ডাটা স্ট্রাকচার নলেজ বাড়াতে হবে। একাডেমিক পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে হবে। ভালো প্র্যাকটিস, প্রবলেম সলভিং দক্ষতা, অ্যাকাডেমিক কিছু নলেজ এবং ভয় কাটানোর ক্ষমতা থাকলে অবশ্যই এই ধরনের টেক জায়ান্টে কাজ করা যে কারও পক্ষে সম্ভব।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন আরটিভির বার্তা সম্পাদক তাবিবুর রহমান তালুকদার। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ও হিমালয় গ্রুপের সহযোগিতায় ভূঞাপুর, গোবিন্দাসী ও পাথাইলকান্দি বাজারে গরীব, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়। এ সময় কম্বল পেয়ে খুশি হন ওই এলাকার গরীব-দুস্থ ও অসহায় মানুষরা। আরটিভির টাঙ্গাইল প্রতিনিধি কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা মুফাসসির পরিষদের সভাপতি মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এলেঙ্গা শাখা ব্যাবস্থাপক মো. হাফিজুর রহমান, ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহআলম প্রামানিক, সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলাম তালুকদার, নীড় ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুফতি মাওলানা ফজলুর রহমান। এ সময় তারা বলেন, সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে। সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই প্রতি বছর আমরা দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ
প্রেমিকাকে না পেয়ে মোবাইল টাওয়ারে প্রেমিক
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে হতাশায় নাফিজ (১৮) নামে এক তরুণ মোবাইল ফোনের টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।  শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে দৌলতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন বিকেলে ওই ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের পিপলস ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যা চেষ্টা করা ব্যক্তি হলেন, উপজেলার মথুরাপুর এলাকার ইহান সর্দারের ছেলে নাফিজ।  স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকেলে আত্মহত্যার জন্য নাফিজ ওই টাওয়ারে উঠেন। এ সময় খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নাফিজের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ নানা রকম মতবিনিময় করেন। পরে তাকে ফিরে আসতে অনুপ্রেরণা জোগায়। এ সময় ঘণ্টাখানেক চেষ্টার পর তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।  তারা আরও জানান, এলাকার অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি মেয়েকে ভালোবাসেন নাফিজ। প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। লাফিয়ে পড়তে সাহস না হলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় তাকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে তাকে আত্মহননের হাত থেকে রক্ষা করে পুলিশ। এ বিষয়ে ওসি মজিবুর রহমান জানান, প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে নাফিজ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে কৌশলে তাকে বুঝিয়ে উদ্ধার করা হয়। 
প্রেমিকাকে না পেয়ে মোবাইল টাওয়ারে প্রেমিক
‘নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত’
র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন বলেছেন, নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও আমাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে গুলশান ২ নম্বর মোড়ে নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এম খুরশীদ হোসেন বলেন, নতুন বছরে জঙ্গিরা নতুন করে আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। তবে কোনো সংকট তৈরি হলে সেটি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুতি রয়েছি। আমরা সবসময় শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত। গুলশান নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এ এলাকায় দূতাবাস, ফাইভ স্টার হোটেল, সমাজের উচ্চবিত্তদের বসবাস। সবকিছু বিবেচনা করে আমরা বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছি। র‍্যাব প্রধান বলেন, ডিএমপি থেকে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সবাইকে মেনে চলার অনুরোধ করছি। উন্মুক্ত স্থান ও ছাদে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। তবে ফাইভ স্টার হোটেলের অনুষ্ঠানে বাধা নেই। মাদকসেবন ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ঠেকাতে আমরা মাঠে আছি। সারাদেশে মানুষ উৎসব করবে। কিন্তু নিয়মের মধ্যে থেকে তা করতে হবে। সারা বিশ্বের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নববর্ষের ভিন্ন আয়োজন থাকে। তেমনি আমাদের দেশেও গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মানুষের চাপ বেশি থাকে। এজন্যই আমরা এসব এলাকাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তিনি বলেন, তরুণরা গুলশানকেদ্রিক। তারা বিভিন্নভাবে এ এলাকায় আসতে চায়। আমরা কাউকে নববর্ষ উদযাপনে বাধা দিচ্ছি না। আমরা আধুনিকতা পছন্দ করি। কিন্তু এর নামে বেহায়াপনা করলে সেটাও সমাজ মেনে নেবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমরা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। আমরা পারিবারিকভাবে এটি পালন করতে উৎসাহ দিচ্ছি।
‘নতুন বছরে জঙ্গি মোকাবিলায় র‌্যাব প্রস্তুত’
বাসের ধাক্কায় খালে প্রাইভেটকার, অতঃপর...
মাদারীপুরের ঘটকচর এলাকায় বাসের ধাক্কায় খালে পড়ে ডুবে গেল একটি প্রাইভেটকার। এ সময় প্রাইভেটকারে থাকা তিন যাত্রীসহ চালক আহত হয়েছে।  শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম মওলা রসুল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন বিকেলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ঘটকচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  আহত চালক চাপাইনবাগঞ্জের গোমস্তপুর উপজেলার সোনাপাড়া গ্রামের মিরাজ মণ্ডলের ছেলে জামিরুল ইসলাম মণ্ডল। স্থানীয়রা জানান, একটি পরিবারের তিন সদস্য শনিবার বিকেলে বরিশাল থেকে একটি ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকারযোগে ঢাকা যাচ্ছিল। এ সময় প্রাইভেটকারটি যখন ওই এলাকায় পৌঁছায়, তখন পিছন থেকে যাত্রীবাহী পরিবহন প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটি পাশের একটি খালে পড়ে ডুবে যায়।  তারা আরও জানান, প্রাইভেটকারটি থেকে তিন যাত্রী ও চালককে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। যাত্রীদের মধ্যে শিশু ও মহিলা ছিল। আহতদের বাড়ি ভোলা জেলায়। তারা ঢাকা যাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় চিকিৎসক দেখিয়ে যাত্রীরা চলে যায়। এরপর হাইওয়ে পুলিশ গিয়ে প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে।  ওসি মো. গোলাম মওলা রসুল জানান, শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। খালে পানি কম থাকায় বড় ধরণের দুর্ঘটনা থেকে যাত্রী ও চালক রক্ষা পেয়েছে। পরিবহনটিকে আটক করা যায়নি। 
বাসের ধাক্কায় খালে প্রাইভেটকার, অতঃপর...
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
ঢাকায় গণমিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আট হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) করা এসব মামলায় মোট ৮ হাজার ২০২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ ও চারটি থানা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর মৌচাকে জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় পুলিশের ওপর হামলা করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। হামলায় ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় রমনা থানায় করা মামলার এজাহারে ৯১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত তিন হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯ জনকে। শাজাহানপুর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত ৯০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। রামপুরা থানায় করা মামলায় ৩০২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাত চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে জামায়াতের উত্তরার আমিরসহ তিনজনকে। খিলগাঁও থানায় করা পুলিশের ওপর হামলা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। তবে অজ্ঞাতদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই জনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে, শনিবার দুপুরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে জামায়াতের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্য মেনে নেব না। তারা অতীতে যে নৈরাজ্য চালিয়েছিল তা নতুন করে আর করতে দেওয়া হবে না। বগুড়ায় চাঁদে সাঈদীকে দেখা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের খুন করা হয়েছে। গাইবান্ধায় আগুন দেওয়া হয়েছে, পুলিশ সদস্যদের আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে। অতীতে তারা যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় আবার পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না। যত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তাই নেওয়া হবে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, অবৈধভাবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে পুলিশের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করে। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশের ১১ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। এ সময় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জামায়াতের অতীত ইতিহাস ফিরে আসুক এটা আমরা মেনে নেব না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ প্রস্তুত ছিল। তারা প্রথমে বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল বের করার তথ্য প্রচার করেছে, সেখানে আমাদের পুলিশ ছিল। সেখানে তারা মিছিল বের করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের বাধায় মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর তারা মৌচাক-মালিবাগ এলাকায় মিছিল বের করে। আপনারা জানেন ওই এলাকা তিন থানার মোড়, ফলে প্রত্যেক থানা নিজ নিজ এলাকায় প্রস্তুতি নেয়। এ সুযোগে তারা বিচ্ছিন্নভাবে একত্রিত হয়ে মিছিল বের করে। মৌচাকে পুলিশ তাদের বাধা দিলে সেখানে সংঘর্ষ হয়। জামায়াতের আমির গ্রেপ্তার আছে, কিন্তু হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে বাইরে থাকা শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকেই আমাদের অভিযান চলছে।
জামায়াতের ৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১৫
আরও পড়ুন
একাদশে ভর্তির সুযোগ পেল ১২ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী
৮০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সমমনা পরিষদের সংবর্ধনা 
রাজধানীতে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল শিক্ষার্থীর মরদেহ
অতীতের কোনো সরকার শিক্ষার জন্য তেমন কিছুই করেনি : প্রধানমন্ত্রী