
ভূমি সেবা উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মানুষের দিনকাল। সেই সঙ্গে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে অফিসগুলোতে কমে গেছে জনভোগান্তি।
রোববার (২ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এ তথ্য পাওয়া যায়। তবে ত্রিশাল উপজেলাকে ভূমিহীন উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করার লক্ষ্যে খাসজমি উদ্ধার করে মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষ্যে ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। খাস জমি উদ্ধার কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষদের যেভাবে হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সেই হয়রানি এখন আর নেই। আবেদন করলেই হচ্ছে জমি খারিজ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২৮ কার্য দিবসের মধ্যে আবেদনকৃত জমি খারিজ করার কথা থাকলেও, দীর্ঘ সময় আটকে ছিল খারিজ। সেই সঙ্গে অফিসের দৈনন্দিন কাজেও পড়েছিল ভাটা। বলা চলে মুখ থুবড়ে পড়ে ভূমি সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম। বিপাকে পড়েছিল উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। খাজনা-খারিজ অভাবে ব্যাহত হচ্ছিল জমি ক্রয়-বিক্রয়ে। বর্তমানে পাল্টে গেছে সেই অবস্থার। গতি এসেছে ত্রিশালের ভূমি অফিসের সকল কার্যক্রমে।
গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন ৩৬তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। তিনি যোগদানের ফলে দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে এসেছে গতি। বর্তমানে নিজ দপ্তরে বসেই জমি খারিজসহ অফিসের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঠিক ভূমিকায় বিগত সময়ের অপেক্ষমাণ সকল খারিজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে যারাই জমি খারিজের জন্য আবেদন করছেন তাদেরটাই দ্রুত সময়ের মধ্যে খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে।
ভূমি অফিসের সেবার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো- খারিজ, ভিপি, ভূমিহীনদের মাঝে জমি বন্দবস্ত, মিসকেস, জলমহাল ইজারাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। এ ছাড়াও পাশের ভালুকা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় পালন করতে হচ্ছে অতিরিক্ত দায়িত্ব।
উপজেলা ভূমি অফিসে জমি খারিজ করতে এসেছিলেন উপজেলার সলিমপুর গ্রামের সাইফুল রহমান। এ সময় তিনি বলেন, আমাকে দীর্ঘ দিন ভূমি অফিসে আসতে হয়েছে। নতুনভাবে এসিল্যান্ড দায়িত্ব নেওয়ায় সরকারি মূল্যে খুব সহজেই ক্রয়কৃত জমির খারিজ পারতে পারলাম।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ আরটিভি নিউজকে বলেন, আমি যোগদানের পর থেকেই লোকজনের যে সকল জমির খারিজসহ কার্যক্রম জমা ছিল, সেগুলো ছাড় করে দিয়েছি। সেই সঙ্গে লোকজন যেন হয়রানীমুক্ত সেবা পায়, সে ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ভূমি অফিসের কাজের পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা। খাস সম্পত্তি উদ্ধার করা। সরকার ত্রিশাল উপজেলাকে শতভাগ ভূমিহীন উপজেলায় ঘোষণা করবেন বলে ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে।




