
টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তিস্তার পানি আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলের মানুষজন আবারো নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি তিস্তার উজানে ভাঙন তীব্র হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা, হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার বৈরাতি ও আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা কলতারপাড় চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে ফের পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
তিস্তা তীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দফায় দফায় বন্যা আর তিস্তার ত্রিমুখী ভাঙনে জেলার ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার পরিবার সীমাহীন দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
তারা জানান, হামারগুলার ভিতি কায়ো দেখে না বাহে, হামার বাচি থাকার চাইতে মরায় ভালো।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী চরের বয়োবৃদ্ধ মফিজুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘দুমুঠো ভাতেই জোটে না কপালে হামারগুলার বাহে?’
১৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কৃষিতে উন্নয়ন ঘটবে। কিন্তু এটি এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তেমন কোনো কাজে আসছে না বলে অভিযোগ ওঠছে। প্রতিনিয়ত উজান থেকে ধেয়ে আসা বালু ও পাথরের কারণে তিস্তা ব্যারেজ ও তার আশপাশের এলাকায় শুস্ক মৌসুমে দেখা দেয় পানি শূন্যতা এবং বর্ষা মৌসুমে দেখা দেয় অকাল বন্যা। ফলে প্রতিনিয়ত বন্যা, খরা আর নদী ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হয় তিস্তা পারের মানুষকে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, তিস্তার পানি আবারো বাড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেবি/এসএস




