
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পরকীয়া প্রেমিকের হাতে খুন হয়েছেন সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী তানিয়া।
শনিবার দিনগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার চৌধুরীবাড়ী কলাবাগ এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত প্রেমিক ইকবালকে পুলিশ আটক করেছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে নিহত তানিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন।
নিহতের পরিবার আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০০৫ সালে পুরানবন্দর এলাকার তাজুল ইসলামের মেয়ে তানিয়া আক্তারের বিয়ে হয় কলাবাগ এলাকার বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী নূর হোসেনের। তাদের দুইটি মেয়ে সন্তানও রয়েছে। দেড় বছর আগে নূর হোসেনের বাড়ির নির্মাণ কাজের সময় তানিয়ার সঙ্গে টাইলস মিস্ত্রী ইকবাল মিয়ার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক হয়।
ইকবাল মিয়ার স্ত্রী জর্ডান প্রবাসী। দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে তিনি একই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ইকবাল মিয়া তানিয়াকে জিম্মি করে বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা আদায় করে। বাড়ির অন্যান্য সদস্যরাও বিষয়টি জানতো।
শনিবার রাতে ইকবাল মোবাইল ফোনে তানিয়ার কাছে টাকা চায়। তানিয়া টাকা নেই বলে জানায়।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইকবাল রাত দুইটার দিকে তানিয়ার বাসায় ঢুকে তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
এসময় তানিয়ার গোঙানির শব্দে তার মেয়ে নুসরাত জেগে উঠে ইকবালকে পালিয়ে যেতে দেখে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তানিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এদিকে রাতেই পুলিশ ঘাতক ইকবাল মিয়াকে তানিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ আটক করে।
বন্দর থানার ওসি মো. আবুল কালাম আরটিভি অনলাইনকে জানান, আটককৃত ইকবালের কাছ থেকে তানিয়ার মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইকবালের জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
জেবি/এসএস




