
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মাদরাসার সভাপতির পদ নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আরটিভি নিউজকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এম এ আজিজ।
এর আগে আড়াইবাড়ী গ্রামের শিল্পপতি বদিউল আলম জামালকে আরবী বিশ্ববিদ্যালয় রেজিষ্টার কর্তৃক আড়াইবাড়ী ইসলামিয়া সাঈদিয়া কামিল মাদরাসায় সভাপতি নির্বাচিত করায় প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার দুপুরে ক্ষুব্দ হয়ে আড়াইবাড়ী গ্রামবাসীর ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই মাদরাসার গভর্নিং কমিটির সভাপতি ছিলেন বর্তমান কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড মো. রাশেদুল কাওসার ভূইয়া জীবন। তিনি একাধারে ৪টি এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সভাপতি থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার। গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের পক্ষে মো.গোলাম কবির এ বিষয়ে অভিযোগ করলে আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার মো. রেজাউল হক গত ২৯ নভেম্বর ৭০৬৭ নং স্মারকে আদেশ বলে বর্তমান সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার জীবনকে সভাপতি মনোনীত না করে শিল্পপতি বদিউল আলম জামালকে সভাপতি নির্বাচিত করেন। এতে তারা সংক্ষুব্দ হন স্থানীয় বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে মাদরাসা অধ্যক্ষ ড. সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, বিষয়টা আমাদের জন্য বিব্রতকর হয়ে দাড়িয়েছে। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভূইয়া জীবন সভাপতি ছিলেন। দাতা সদস্য গোলাম কবির অভিযোগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার নাম বাদ দিয়ে শিল্পপতি বদিউল আলম জামালকে সভাপতি মনোনীত করেন।
এ বিষয়ে শিল্পপতি বদিউল আলম জামাল জানান, আমি গত বুধবার দুবাই থেকে এসে শুনেছি আমাকে সভাপতি করা হয়েছে। আমার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে সেটাও আমি জানতাম না।
উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভূইয়া জীবন বলেন, আইনমন্ত্রী আমাকে ডিও দিয়ে এই মাদরাসার সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনমন্ত্রী এবং আমাকে না জানিয়ে অন্যজনকে সভাপতি নির্বাচিত করা সমিচীন হয়নি।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এম এ আজিজ, কসবা পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি মো. সফিকুল ইসলাম সরকার, সাধারন সম্পাদক মো. রুস্তম খা, আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া মিলন, তারেক মাহমুদ, এমদাদুল হক পলাশ প্রমুখ। বিক্ষোভকারীররা মো. বদিউল আলম জামালকে জামাত-শিবিরের লোক বলে শ্লোগান দেন এবং বদিউল আলমকে সভাপতি হিসেবে মাদরাসায় ঢুকতে দেবেনা বলে মানববন্ধনে ঘোষণা দেন।




