
বিকাশ চন্দ্র দেবনাথ (২৬) জয়পুরহাট সদর উপজেলার আমদই গ্রামের কৃষক তপন চন্দ্র দেবনাথের ছেলে। বিকাশ বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে পরিসংখ্যান বিভাগে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। এক বছর আগে একদিন হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানান তার দুটি কিডনিই নষ্ট। দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন, না হলে মৃত্যু নিশ্চিত।
এ কথা শুনে তার মা শ্রীমতী বাসন্তী রানী দেবনাথ ও কৃষক বাবা শ্রী তপন চন্দ্র দেবনাথ পরিবারের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। এমন খবরে বিকাশকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার দরকার হলেও টাকার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। তারপর নিজের এক বিঘা জমি ছিল তা বিক্রয় করে গত এক বছর ধরে বিকাশের চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিস করে আসছে তার পরিবার।
ডাক্তার জানিয়েছিলেন, বিকাশকে বাঁচাতে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। এতে অপারেশন বাবদ তিন থেকে চার লাখ টাকা খরচ হবে। একটি কিডনি ও অপারেশনের টাকা জোগার করার জন্য দীর্ঘ এক বছর বিভিন্ন মাধ্যমে ধরনা দিলেও আশানুরূপ ফল মেলেনি। ওই সময় বাঁচার জন্য বিকাশ তার ফেসবুক পোস্টে মানবিক সাহায্যের আবেদন জানিয়ে পোস্ট দেয়। সে পোস্ট দেখে এলাকার কিছু মানুষ তাদের সাধ্যমতো সাহায্য সহযোগিতা করলে কোনো স্বজন বা অপরিচিত কেউ কিডনি দানে এগিয়ে আসেননি।
এরপর মা বাসন্তী রানী দেবনাথ তার একমাত্র সন্তান বিকাশকে বাঁচাতে তার শরীর থেকে একটি কিডনি দেওয়ার জন্য মনস্থির করেন। আদালতের অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে সরকারি সব নিয়মকানুন শেষ করেন তিনি। গত ৮ ডিসেম্বর ঢাকার শ্যামলী এলাকার একটি হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে ভর্তি হন তারা। সেখানেই পরের দিন কিডনি প্রতিস্থাপনের পর মা ছেলেকে আইসিইউতে রাখা হয়। এখনও তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন। কিডনি প্রতিস্থাপন হলেও এখন চিকিৎসা ব্যয় মিলছে না। এখনও ১৫ দিন হাসপাতালে থাকা ও তিন মাস সেখানে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হবে তাকে।
এদিকে বিকাশের চিকিৎসায় জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজন যে পরিমাণ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন তা দিয়ে পতিস্থাপন সম্ভব হলেও পরবর্তী চিকিৎসা চালানো তার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে।
বিকাশের বাবা তপন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় আছি। আমার এমনিতে কিছুই নেই। যা ছিল সবটুকুও শেষ করে ফেলেছি অনেক আগেই। হৃদয়বান মানুষদের দেওয়া টাকায় চিকিৎসা চলছে। কিডনি দিয়েছে আমার স্ত্রী শ্রীমতী বাসন্তী রানী দেবনাথ। চিকিৎসক বলেছেন, এখনও ১৫ দিন থাকতে হবে এবং ৩ মাস চিকিৎসা নিতে মাঝে মাঝে আসতে হবে।
আমদই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহানুর আলম সাবু বলেন, আমি যখনই শুনেছি তখনই সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি তাদের সাহায্য করতে। এরপর তাদের পরিবার আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি। চিকিৎসার খরচ এবং পরবর্তী সময় তাদের জীবনযাপনের জন্য আমি যথাসাধ্য সাহায্যের চেষ্টা করব।




