
বন্যাকবলিত মানুষের খোঁজ নিতে ২৬ আগস্ট শনিবার গাইবান্ধায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর এ আগমনকে ঘিরে প্রস্তুত করা হচ্ছে গোবিন্দগঞ্জের হেলিপ্যাড, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক সংস্কার, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে ত্রাণ বিতরণের জন্য মঞ্চ এবং সুধী সমাবেশের জন্য উপজেলা মিলনায়তন। রং করা হচ্ছে উপজেলা পরিষদ চত্বরের হিসাবরক্ষণ অফিস ও আদালতের দু’প্রাচীর।
এছাড়া উপজেলা পরিষদের মূলফটক থেকে পরিষদ চত্বর পর্যন্ত সড়কের খানাখন্দ মেরামতের কাজও চলছে দ্রুতগতিতে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সফল করতে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা কয়েকদিন ধরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন। এসব কাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে করা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে ২০০৭ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের জনতা ব্যাংকের সামনে পথসভা ও ২০০৫ সালে তালতলা ও কাইয়াগঞ্জে জনসভা করেন শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ১০ বছর পর তৃতীয়বারের মতো তিনি গোবিন্দগঞ্জে আসছেন।
প্রধানমন্ত্রীর আসার খবরে ব্যস্ত সময় পার করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাবাসী। তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে। মহাসড়ক, সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সাঁটানো হয়েছে শুভেচ্ছাবাণী সম্বলিত ফেস্টুন, পোস্টার ও ব্যানার।
বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের জন্য শনিবার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারে করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে ত্রাণমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীও আসার কথা রয়েছে। হেলিপ্যাড থেকে তিনি প্রথমেই উপজেলা পরিষদ চত্বরে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ধানের চারা বিতরণ করবেন।পরে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধী সমাজ ও বন্যা ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মত বিনিময় করবেন।
_1.jpg)
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ। বিগত আট বছর সাধারণ মানুষের পাশে থেকে যে আশার আলোর প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। ঠিক তেমনি বানভাসিদের জন্য সেই রকম আশার উদ্যোগের কথা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। এমনটাই আশা করছেন বন্যা দুর্গতরা।
.jpg)
তিনি আরো বলেন, ‘যদিও প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে আসবেন তারপরও তার কাছে গাইবান্ধাবাসীর অনেক দাবি রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা (ইপিজেড) স্থাপন, মহাসড়কের পাশে ট্রমা সেন্টার নির্মাণ, স্টেডিয়াম নির্মাণ, যানজট মোকাবিলায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরের বোয়ালীয়া থেকে ফাঁসিতলা পর্যন্ত উড়াল সেতু নির্মাণ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ।
.jpg)
জেলা পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মাঠে বিভিন্ন স্তরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।’
জেবি/সি




