
কক্সবাজারে ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস বলে বিক্রি করার ঘটনায় কসাই মাহবুবুলকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) কক্সবাজার র্যাব ক্যাম্পের কমান্ডার মো. আনোয়ার হোসেন শামীম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে রামু উপজেলার পাহাড়ি বড়ঢেপা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভোক্তাদের গরুর মাংস বলে ঘোড়ার মাংস খাইয়ে প্রতারণাকারী কসাইয়ের বিরুদ্ধে হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য এম. মনজুর আলম বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি কক্সবাজারের উখিয়া থানার মরিচ্যা এলাকার বাসিন্দা মিয়াজানের ছেলে মাহবুবুল আলম ওরফে কসাই (৩৪)।
র্যাব সূত্র থেকে জানা যায়, কসাই মাহাবুবুল সমুদ্র সৈকতে পর্যটক মনোরঞ্জনে ব্যবহারের পর অসুস্থ, বৃদ্ধ ঘোড়াগুলোকে কখনো অল্প মূল্যে, কখনো বিনামূল্যে বিভিন্ন কৌশলে সংগ্রহ করে সেগুলো জবাই করে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করতেন। এভাবে ২০ থেকে ২৫টি ঘোড়া ইতোমধ্যে জবাই করে মাংস ভোক্তাদের খাইয়েছেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহাবুবুল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করে নেন। তবে তার দাবি, যেহেতু গরুর চেয়ে ঘোড়া বেশি মূল্যবান প্রাণী, তাই ঘোড়ার মাংস বিক্রি করে কোনো অন্যায় করেননি তিনি।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া কমান্ডার মো. আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, ঘোড়ার মাংস বিক্রির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই মাহাবুবুল গা ঢাকা দেন। গ্রেপ্তার এড়াতে কবরস্থানের মতো জায়গা বেছে নিয়ে সেখানে অবস্থান শুরু করেন তিনি। প্রায় ২৪ ঘণ্টার টানা অভিযানে বুধবার (১৯ এপ্রিল) ইফতারের আগে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কসাইকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। তাকে উখিয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল রাতে উখিয়ার মরিচ্যা বাজারের কসাই মাহাবুবুল অসুস্থ ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস বলে বিক্রি করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। পরে অভিযোগ পেয়ে উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালেহ আহমেদের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মাহাবু পালিয়ে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। এ সময় ঘোড়ার মাথা, চামরাসহ মাংস জব্দ করা হয়।




