
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তির নির্বাচনী পোস্টারে ‘জাতীয় পার্টি মনোনীত ও আ.লীগ সমর্থিত’ প্রার্থী লেখায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে ভোটারদের মাঝেও দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই পোস্টারটি ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকার দলীয় লোকজন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ ঘোষ বাপ্পি বলেন, আসন সমঝোতা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পোস্টারে আওয়ামী লীগ সমর্থিত লেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি বিব্রতকর বলেও মন্তব্য করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, মুক্তাগাছার বর্তমান সংসদ সদস্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদকে এবার মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। তার স্থলে এই আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সদ্য পদত্যাগ করা উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই আকন্দ। কিন্তু জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের আসন সমঝোতায় এই আসনটি লাঙ্গলকে ছেড়ে দেয় নৌকার প্রার্থী।
তবে এই আসনে লাঙ্গলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট বদর উদ্দিন আহমদ।
এ দিকে নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়া সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বিগত কয়েকদিন আগে সভা করে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালাউদ্দিন মুক্তিকে সমর্থন দিয়েছেন। অপরদিকে দলীয় সমঝোতায় নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুলকে সমর্থন দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই আকন্দ। এর ফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনে প্রচারণা করছেন।
জানা যায়, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতা হওয়ায় বিনাভোটে এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তি। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে তার ভরাডুবি হলেও আবারও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আসন সমঝোতায় এই আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হন সালাউদ্দিন মুক্তি।
তবে তার নির্বাচনী পোস্টারে ‘জাতীয় পার্টি মনোনীত ও আ.লীগ সমর্থিত’ প্রার্থী লেখার বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সালাহউদ্দিন আহমেদ মুক্তিকে পাওয়া যায়নি।




