
বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজের অবদান অচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার সেই শুরু থেকেই বিশ্ব মিডিয়ার ভূমিকা ছিল পেশাদারিত্ব আর দায়িত্বশীলতা পূর্ণ। সব গণমাধ্যমেই ১৯৭১ মূর্ত হয়েছে বস্তুনিষ্ঠভাবে।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত সেমিনারে গণমাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার (জিএমপি) এর প্রথম আয়োজন ‘বিশ্ব গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক কাবেরী গায়েন এ কথা বলেন।
সেমিনারে অধ্যাপক কাবেরী গায়েন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে করাচির সাংবাদিক অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস প্রপাগান্ডা ছড়াতে সহযোগিতার বদলে তুলে ধরেন আসল চিত্র। পূর্ব বাংলায় ১০ দিন থেকে তিনি প্রতিবেদন করলেন যুদ্ধাপরাধের নানা তথ্য নিয়ে। ‘জেনোসাইড’ শিরোনামে সেটি ছাপা হয় দ্য সানডে টাইমসে। ৭১ এর ১৩ জুন প্রকাশিত সেই লেখা বিরাট ভূমিকা রাখে ইতিহাস বদলে দিতে। তারও আগে একাত্তরের এপ্রিলে ফ্রান্স টেলিভিশনের সাংবাদিক ফিলিপ আলফন্সি’র প্রতিবেদনে বিশ্ব দেখে পাক বাহিনীর গণহত্যার চিত্র। একই সময় থেকে পাকিস্তান বিষয়ে মার্কিন নীতির সমালোচনায় মুখর থেকেছে সেদেশেরই নিউইয়র্ক টাইমস, নিউজ উইক, ওয়াশিংটন পোস্ট, টাইম এবং নামি-দামি আরো সব কাগজ।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সংবাদপত্রের পাশাপাশি বাঙালির মুক্তির আকাঙ্খাকে দারুণভাবে তুলে ধরে আকাশবাণী। এ বেতার কেন্দ্রের দেব দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবদন্তি হয়ে আছেন মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য। বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা, রেডিও অস্ট্রেলিয়া, রেডিও জাপান। বিবিসি হয়ে ওঠে যুদ্ধ সংবাদের নির্ভরযোগ্য ও প্রিয়তম মাধ্যম।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও সাংবাদিক হারুন হাবীব, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, শহীদ বুদ্ধিজীবী সন্তান নুজহাত চৌধুরী। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ পরিবার (জিএমপি) সংস্থার চেয়ারপার্সন মহিম মিজান।




