
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের যত ক্ষোভ ও অভিযোগ বর্তমান এমপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলমের বিরুদ্ধে। মূলত এমপি জাফরের পাশে নেই উল্লেখযোগ্য কেউ। সুবিধাভোগী ও সমর্থিত লোকজন চলে গেছেন আন্ডারগ্রাউন্ডে। এতে ভোটের মাঠে অনেকটা বেকায়দায় পড়েছেন তিনি। এই আসনে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বর্তমান এমপি জাফর আলম ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।
ইতোপূর্বে এই আসনে ঋণ খেলাপির কারণে দলীয় মনোনয়ন পেয়েও প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন সিআইপির। তাই সঙ্গত কারণে এ আসনে এবারের নির্বাচন হচ্ছে নৌকাবিহীন।
এদিকে দ্বাদশ সংসদের নির্বাচনী মাঠ ইতোমধ্যে সরগরম হয়ে উঠেছে। দলীয় প্রার্থী না থাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের সমর্থনে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এতে তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গত ৫ বছরে দলীয় লোকজনকে নানাভাবে হয়রানি, নির্যাতন, চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ দখল, উচ্ছেদসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন সংসদ সদস্য জাফর আলম। গত ২০১৮ সালে নৌকার টিকিটে নির্বাচনে জয়ী হয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের ছড়ি ঘুরিয়েছেন।
চকরিয়া উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও ১০ নং চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ বারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ জসিম উদ্দিন দাবি করেন, জনগণের ভোট পেলেও বর্তমান সংসদ সদস্য গেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাকে জোর করে পরাজিত করেন।
তিনি বলেন, এমপির সন্ত্রাসী বাহিনী সহিংসতা না করলে আগামী ৭ জানুয়ারি কক্সবাজার-১ আসনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। এমপি নির্বাচিত হয়ে গত ৫ বছরে নিজস্ব বাহিনী তৈরি করে তিনি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনকে ধ্বংস করেছেন। এলাকার অন্তত ৫ হাজার একর চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ জবর দখল, দরিদ্র মানুষের ঘর-বাড়ি উচ্ছেদ করে নিজস্ব ভবণ তৈরি করেছেন। দৃশ্যমান কোন ব্যবসা না থাকলেও এমপি ৫ বছরে অবৈধপন্থায় হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এলাকায় চাঁদাবাজি, গরু-মহিষ চুরি, মানুষের ওপর নানা অত্যাচার নির্যতনসহ হেন কোন অপকর্ম নেই যা এমপির বাহিনী করেনি। এই সাবেক চেয়ারম্যানের ১ শ’ ৮০ একর চিংড়ি ঘের দখল করে গত ৫ বছরে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন।
কৃষকলীগের এই নেতা আরও বলেন, একইভাবে এমপি জাফর আলম ও তার বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল করিম মামুন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জাফর আলম তার ২ শত একর চিংড়ি ঘের দখল করেন। ঘের ফেরৎ দেবেন বলে কয়েকটা কিস্তিতে তার কাছ থেকে ২১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। টাকা ও চিংড়ি ঘের ফেরৎ দিতে কেন্দ্রীয় যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের অনুরোধও রক্ষা করেননি এমপি। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর তিনি এই চিংড়ি ঘের উদ্ধার করতে পেরেছেন। অভিযোগ করেন, ৫ বছরে তিনি ১০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এভাবে চকরিয়া ও পেকুয়ার অনেক মানুষ সংসদ সদস্যের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এসব অভিযোগ অভিযোগ অস্বীকার করে সম্প্রতি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য জাফর আলম পাল্টা অভিযোগ করেন, আমার সমর্থিত নেতাকর্মী ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের হুমকি ধমকি দেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার করে ট্রাক প্রতীকের জয়রথ বন্ধ করা যাবেনা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ দিকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমকে সমর্থন দিয়ে প্রচার প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। নেতাকর্মীরা ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ ইবরাহিমকে জয়যুক্ত করতে মাঠে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী।
সংসদ সদস্য প্রার্থী কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী জানিয়ে বলেন, যেখানেই যাচ্ছি ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তিনি সন্ত্রাসমুক্ত চকরিয়া-পেকুয়া গড়তে হাতঘড়ি প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এই আসনে দুই উপজেলা, এক পৌরসভা ও ২৫ ইউনিয়ন মিলে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ২৭০ জন। এখানে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৯৫ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ২৫ হাজার ৭৭৫ জন।




