মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পদ্মার বুকে জেগে ওঠা লেচাগঞ্জ, সুতালড়ি ও আজিমনগর—এই তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ৩০ হাজার মানুষের জন্য নেই কোনো হাসপাতাল কিংবা স্থায়ী চিকিৎসক। চিকিৎসার ভরসা বলতে কেবল কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক ও হাতে গোনা কিছু ফার্মেসি। ফলে অনেক সময় বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হচ্ছে।
হরিরামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে এই তিনটি ইউনিয়ন চরাঞ্চলবেষ্টিত। নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে এখানকার বেশ কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক। ফলে নিত্যদিনের রোগ থেকে শুরু করে জরুরি প্রসূতি সেবাও মিলছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তারা কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। দুর্গম পথ আর ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রা পেরিয়ে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ সদর বা আশপাশের জেলায় যেতে হয়। অনেক সময় সেই যাত্রাপথেই প্রাণ হারান প্রসূতি নারী ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ।
আজিমনগর ইউনিয়নের এক বাসিন্দা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাচ্চাটা থুইয়া আমার মেয়ে মারা গেছে। একটা হাসপাতাল থাকলে সময়মতো চিকিৎসা করাতে পারতাম। আমাদের এখানে রাস্তা নাই, হাসপাতাল নাই। নদী পার হতে হয়, সময়মতো নৌকা পাওয়া যায় না। আমাদের একটা হাসপাতাল খুব দরকার।
আরেক বাসিন্দা বলেন, আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা বলতে কিছুই নাই। মানিকগঞ্জ শহরে যেতে অনেক দূর। রাস্তাঘাট খুবই খারাপ।
স্থানীয়দের দাবি, তিনটি চর ইউনিয়নের মাঝামাঝি একটি হাসপাতাল স্থাপন করা হলে হাজারো মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী এ কে এম রাসেল বলেন, চরাঞ্চলের দুটি সাব-সেন্টার ও আজিমনগরে যেসব চিকিৎসক পদায়িত রয়েছেন, তারা বর্তমানে ঢাকায় সংযুক্তিতে কর্মরত। তাদের সংযুক্তি বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলে আগে যেসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছিল, সেগুলো বর্তমানে মেরামতযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়েও আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
তবে শুধু আশ্বাসে নয়, দ্রুত চরাঞ্চলে আধুনিক সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, অভিজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
আরটিভি/এএএ




