
রংপুরে রেক্টিফাইড স্পিরিট (মদ) পান করে বিক্রেতাসহ আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ জনে। পুলিশ জানিয়েছে, এখনো বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার অভিজিৎ চৌধুরী জানান, বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া চিহ্নিত মাদক কারবারি জয়নাল আবেদীনকে গত ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নতুন বন্দি হিসেবে কারাগারে আনা হয়। কারাগারে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় তার মৃত্যু হয়। তিনি নিজেও রেক্টিফাইড স্পিরিট পান করেছিলেন বলে জানা গেছে।
এর আগে ১১ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে রেক্টিফাইড স্পিরিট পান করে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হন। ঘটনাস্থলেই মারা যান বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া এবং সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেন্নাদ আলি (৩৫)। একই ধরনের আরেক ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
এদিকে রংপুর মহানগর পুলিশের হাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর বালারবাজার এলাকায় অ্যালকোহল পান করে অসুস্থ হন সদর কোতোয়ালি থানার শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা মানিক চন্দ্র রায় (৬০)। পরদিন দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ওসি আজাদ রহমান বলেন, মাদক কারবারি জয়নাল আবেদীনকে ১০ বোতল রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।’ এছাড়া আরও কয়েকজন অসুস্থ ব্যক্তি গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
আরটিভি/এসকে



