ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

মায়ের হাত ধরে দুই প্রজন্মের জন্ম, আস্থার নাম হুমাইয়ারা নিলুফা বেগম

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫২ এএম
ছবি: আরটিভি

একই স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে এক পরিবারের দুই প্রজন্মের সন্তানের জন্ম—এমন বিরল অভিজ্ঞতা গড়ে তুলেছে দীর্ঘ আস্থার সম্পর্ক। মানিকগঞ্জের হুমাইয়ারা নিলুফা বেগমের সেবার প্রতি সেই আস্থার কথাই জানালেন রফিজা আক্তার, যিনি নিজেও এবং তার সন্তানের ক্ষেত্রেও পেয়েছেন একই হাতে নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসবসেবা।

মানিকগঞ্জের হাটিপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিক প্রসবসেবার সঙ্গে যুক্ত হুমাইয়ারা নিলুফা বেগম এখন স্থানীয়দের কাছে আস্থার এক পরিচিত নাম। প্রায় ৩৬ বছরের সেবামূলক জীবনে তিনি প্রায় ১০ হাজার প্রসূতির নিরাপদ প্রসবে ভূমিকা রেখেছেন।

তবে এই সেবার বাস্তব চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে রফিজা আক্তারের অভিজ্ঞতায়। তিনি বলেন, আমার মেয়ের জন্মও হুমাইয়ারা ভাবির হাতেই স্বাভাবিক প্রসবে হয়েছিল। আজ আমি আবার আমার মেয়ের প্রসব করাতে এসেছি। তিনি খুব যত্ন নিয়ে ব্যথামুক্তভাবে প্রসব করান। আমরা তার ওপর ভরসা পাই।

তিনি আরও জানান, আমার মেয়ের প্রথম সন্তানও তিনি প্রসব করিয়েছেন। এখন দ্বিতীয় প্রসবের সময়ও আমরা তার কাছেই এসেছি।

১৯৯০ সালের ১১ জানুয়ারি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরোয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে প্রথম চাকরিতে যোগদান করেন তিনি। এরপর হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়ন, সিংগাইর উপজেলার জামশা ও শায়েস্তা ইউনিয়ন এবং সর্বশেষ মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘ ২৬ বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৩ সালে অবসরে যান।

চাকরিজীবনে তিনি অসংখ্য প্রসূতি মাকে নিরাপদ মাতৃত্বসেবা দিয়েছেন। পুরো সময়জুড়ে বিনামূল্যে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানে কাজ করেছেন। তার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও মানবিক সেবার কারণে হাজারো পরিবার তাকে বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা হিসেবে দেখেছে। মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে নিলুফার ভূমিকা ছিল অনন্য।

ব্যক্তিগত জীবনেও রয়েছে অনুপ্রেরণার গল্প। তার স্বামী পান্নু মিয়া ছিলেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার। প্রায় ১০ হাজার স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন করার পেছনে তার স্বামীরও বিশেষ ভূমিকা ছিল। দুই বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর তার শেষ ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে নিজ এলাকা হাটিপাড়া ইউনিয়নে ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি বেসরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এই হাসপাতালেই তিনি গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্প খরচে স্বাভাবিক প্রসবসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার কাছে সন্তান প্রসব করাতে আসেন।

হুমাইয়ারা নিলুফা বেগম মিডওয়াইফারি ও মেনস্ট্রুয়াল রেগুলেশন বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য তার প্রতি মানুষের আস্থা অনেক বেশি। তিনি প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩৫টি সফল স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন করেন। তার সেবার ধারাবাহিকতায় এমবিবিএস পাস করা তার ছোট ছেলেও শহরে না গিয়ে মায়ের সঙ্গে গ্রামে থেকে মানুষের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এখানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩৫টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয় এবং দূর-দূরান্ত থেকেও রোগীরা সেবা নিতে আসেন।

রফিজা আক্তারের মতো আরও অনেক সেবাগ্রহীতা জানান, নিরাপদ ও কম ব্যয়ে স্বাভাবিক প্রসবের কারণে তারা এখানে ভরসা পান।

বালিরটেক গ্রামের খাদিজা বেগম বলেন, এখানে কাটা-ছেড়া ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে প্রসব করানো হয়, তাই আমরা আস্থা রাখি।

নিলুফা বেগমের ছেলে ডা. হিফজুল আল মঈন বলেন, অত্র এলাকায় কোনো হাসপাতাল নেই। আমার আব্বুর ইচ্ছাতেই মায়ের সঙ্গে এই হাসপাতাল পরিচালনা করছি। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—মা ও শিশুর মৃত্যুহার কমানো এবং গ্রামের মানুষের পাশে থেকে সঠিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া।

সদ্য ভূমিষ্ঠ এক পুত্রসন্তানের মা বলেন, ওনাদের ওপর ভরসা পাই। এই হাসপাতালের খোঁজ পেয়ে এখানেই নিয়মিত চেকআপ করিয়েছি। গতকাল এখানে ভর্তি হয়েছি, আজ আমার পুত্রসন্তান হয়েছে। আমরা দুজনই সুস্থ আছি। বাইরে অন্য হাসপাতালে গেলেই নানা অজুহাতে শুধুমাত্র সিজারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

হুমাইয়ারা নিলুফা বেগম আরটিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, শিশু ও মায়েদের মৃত্যুহার কমাতে আমি স্বাভাবিক প্রসব করানো শুরু করি। পরবর্তীতে সরকার থেকে আমাকে এ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়। ৩৬ বছরে আমি প্রায় ১০ হাজার শিশু প্রসব করিয়েছি। সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর স্বামীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী আমি ও আমার ছেলে মিলে এই হাসপাতাল পরিচালনা করছি। খুবই স্বল্প মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রসবসেবা দিয়ে থাকি। আমরা চাই গ্রামের মানুষ সচেতন থাকুক, মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কমুক এবং সবাই সুচিকিৎসা পাক।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌস বলেন, আপনি যে বিষয়টি বললেন, তা আপনার মাধ্যমেই জানলাম। আমি অবশ্যই খোঁজ নিয়ে দেখব। সরকার থেকে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে। যারা স্বাভাবিক প্রসবে অভিজ্ঞ এবং বেশি বেশি স্বাভাবিক প্রসব করিয়ে থাকেন, তাদের আমরা পুরস্কৃত করে থাকি।

দীর্ঘ এই সেবাযাত্রায় হুমাইয়ারা নিলুফা বেগম এখন গ্রামীণ মানুষের কাছে শুধু একজন স্বাস্থ্যকর্মী নন, বরং নিরাপদ মাতৃত্বের এক আস্থার প্রতীক।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটিতে ধারালো ব্লেড
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা পাউরুটির ভেতরে ধারালো ব্লেড পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের ১১৬ নম্বর প্রধানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পাউরুটিতে ব্লেডটি পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে প্রথম শিফটের ছুটির পর শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আক্তার স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটি নিয়ে বাড়ি যায়। পরে পাউরুটি খেতে গিয়ে সেটির ভেতরে একটি ব্লেড দেখতে পায় সে। এ ঘটনায় পাউরুটিসহ বিদ্যালয়ে আসেন শিশুটির পরিবারের সদস্যরা। পরে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বরুণ রায় পাউরুটিটি নিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যান। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক বরুণ রায় বলেন, মিম আক্তার নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক পাউরুটি নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে তাতে ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ করেন। বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি পাউরুটিটি নিয়ে কার্যালয়ে যেতে বলেন। পরে সেটি শিক্ষা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের প্যাকেটে কোনো ধরনের ব্লেড পাওয়া যায়নি। এদিকে, পাউরুটির ভেতরে ব্লেড পাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। শিশুদের খাবারে এমন অনিরাপদ বস্তু পাওয়ার ঘটনায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুফিয়া বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, পঞ্চগড় জেলায় রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইএসডিওর স্কুল ফিডিং প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার পর পাউরুটিটি সংগ্রহ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ভালো বলতে পারবেন। দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আরটিভি/টিআর
স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটিতে ধারালো ব্লেড
শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে: রিজভী
শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।  বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালিপূর্ব গণজমায়েতে তিনি এ মন্তব্য বলেন। তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি আসছে প্রতিবেশী দেশ থেকে। তারা এ দেশকে শান্তিতে রাখতে চায় না। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া গুন্ডারা গার্মেন্টসশিল্প ধ্বংস করতে চায়। শ্রমিকদের নামে আন্দোলন করে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। রিজভী বলেন, তারেক রহমান নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়ন করছেন। ক্ষমতায় আসার এক দিন পরই তিনি কার্ডের ব্যবস্থা করেছেন। ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিপ্লব ও সংহতি দিবস মানুষকে গলা ছেড়ে কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এলেই ছাত্রসমাজ ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে। সমাবেশে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে সেখান থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। আরটিভি/টিআর
শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে: রিজভী
টেকনাফে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলি, সেনা সদস্য আহত
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় মানবপাচার চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় আটকে রাখা ৫৭ জনকে উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা নুরালীপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযানের অংশ হিসেবে মোচনী ক্যাম্প এলাকাতেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। আহত সেনাসদস্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তাকে সামরিক অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে মানবপাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি হয়। এ সময় চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়। ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার জানান, জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হন। অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সূত্র জানায়, টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে দুই শতাধিক মানুষকে আটকে রেখেছে পাহাড়ি সন্ত্রাসী ও মানবপাচার চক্রের সদস্যরা। তাদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন আহত হন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী টেকনাফের লেদার পাহাড়ি এলাকায় গোলাগুলির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আরটিভি/টিআর
টেকনাফে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলি, সেনা সদস্য আহত
শিক্ষিকার চোখে মলম দিয়ে স্বর্ণালংকার ও টাকা ছিনতাই
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছেন কনিকা চৌধুরী নামের এক শিক্ষিকা। বুধবার (৪ নভেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কনিকার স্বামী বিজয় কুমার দে বুধবার রাতে সীতাকুণ্ড থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। কনিকা বাঁশবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে বিদ্যালয়ের কাজ শেষে বাড়বকুণ্ডে নিজের বাড়িতে ফেরার জন্য বাঁশবাড়িয়া বাজার থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন কনিকা। তখন গাড়ির সামনের আসনে দুজন ও পেছনে একজন যাত্রী ছিলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর চালক অটোরিকশাটি থামান। এ সময় সামনের আসনে থাকা এক যাত্রী পেছনে এসে বসেন। এরপর যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীরা কনিকার চোখে মলম লাগিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। একপর্যায়ে তার মুঠোফোন, কানের দুল, আংটি ও নগদ আট হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের সিরাজ ভূঁইয়া রাস্তার মাথা এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। কনিকার স্বামী বিজয় কুমার দে জানান, স্থানীদের থেকে কনিকাকে ফেলে যাওয়ার খবর পান তিনি। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কনিকা বর্তমানে বাড়িতে রয়েছেন। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
শিক্ষিকার চোখে মলম দিয়ে স্বর্ণালংকার ও টাকা ছিনতাই
গ্যাসলাইট আনতে গিয়ে বাইজিদের ফাঁদে তরুণী, অতঃপর...
কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রতিবেশীর বাড়িতে গ্যাসলাইট আনতে গিয়ে এক তরুণী (১৭) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
গ্যাসলাইট আনতে গিয়ে বাইজিদের ফাঁদে তরুণী, অতঃপর...
আরও পড়ুন
মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন
অপহরণের ১০ দিন পর অবশেষে উদ্ধার কলেজছাত্র রিদোয়ান
অপহরণের ৯ দিন পার হলেও উদ্ধার হয়নি কলেজছাত্র রিদোয়ান
দেশের মানুষ যেনো অনাহারে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই ওএমএসের পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে: খাদ্যমন্ত্রী