বন্যার ক্ষতচিহ্ন সড়কে, দুর্ভোগে মৌলভীবাজারের লাখো মানুষ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ০৬:২০ পিএম


বন্যার ক্ষতচিহ্ন সড়কে, দুর্ভোগে মৌলভীবাজারের লাখো মানুষ
ছবি: আরটিভি

সম্প্রতি মৌলভীবাজারে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও সেতু-কালভার্ট। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি লাখো মানুষের। জেলার সাত উপজেলায় প্রায় ১৩৮ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে এলজিইডি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলায় বন্যায় প্রায় ৫৪টি সড়কের ১৩৮ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সাতটি ব্রিজ-কালভার্টের প্রায় ৩৮ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে এলজিইডি।

সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় মনু ও ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি এবং ভাঙনের কারণে জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পানির প্রবল স্রোতে জেলার অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর বাজার থেকে ভান্ডারিগাঁও সড়কের প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক সেতু ও কালভার্ট। কোথাও আবার সড়কের একাংশ ভেঙে পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুধু পাকা সড়ক নয়, বন্যার পানিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ কাঁচা সড়ক। এসব সড়কে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বন্যার পানি কমে গেলেও সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো এখন মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সড়কগুলো সংস্কার করা না হলে সামনে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

রাজনগর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল জানান, তার উপজেলায় সড়ক পথের প্রায় ৩৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া কুলাউড়া উপজেলায় সড়কপথের প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি। 

মৌলভীবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, জেলার সাত উপজেলায় প্রায় ৫৪টি সড়কের ১৩৮ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সাতটি ব্রিজ-কালভার্টের প্রায় ৩৮ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্টের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করা হবে।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ হচ্ছে। এটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হলে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে তা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে বর্ষা মৌসুমে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়বে এবং মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যাবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission