নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের নয়াবাড়ি এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ইউনাইটেড ফিলিং স্টেশনে একটি তালাবদ্ধ ব্যাগ ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বোমা আতঙ্কের অবসান ঘটেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষায়িত বোম ডিসপোজাল ইউনিট দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করেছে, উক্ত ব্যাগে কোনো ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য ছিল না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৫ জুলাই) আনুমানিক ৬টার সময় ইউনাইটেড ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ চত্বরের একপাশে একটি তালাবদ্ধ কালো ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে সোনারগাঁও থানা পুলিশকে খবর দেয়। সংবাদ পেয়েই সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব গোলাম সারোয়ার এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ বিশ্লেষণ ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে দেখা যায়, এক অজ্ঞাতনামা পুরুষ ও এক নারী সিএনজিচালিত রিকশা যোগে এসে ফিলিং স্টেশনের এক কোণে ব্যাগটি রেখে পুনরায় ওই সিএনজিতে করেই কেটে পড়ে।
মহাসড়কের পাশে স্পর্শকাতর স্থানে ব্যাগটি থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকে বিষয়টি জানানো হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে তলব করা হয়।
রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে ডিএমপির পুলিশ পরিদর্শক মো. মোদাচ্ছিরের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি বিশেষায়িত বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির সাহায্যে স্ক্যানিং শেষে তারা নিশ্চিত করেন যে ব্যাগটিতে কোনো বিস্ফোরক নেই।
পরে ব্যাগটি খুলে তল্লাশি চালিয়ে মোছা. রেখা বেগম ও মো. মোশারফ সরকার নামের দুই ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), একটি ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স, নারীদের ব্যবহৃত পোশাক, একটি ভ্যানিটি ব্যাগ এবং সমিতির কিস্তি জমার বই উদ্ধার করা হয়। পুলিশ উদ্ধারকৃত মালামাল জব্দ তালিকাভুক্ত করেছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার ওসি জনাব গোলাম সারোয়ার জানান, ফিলিং স্টেশনের নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে ব্যাগটি পরীক্ষা করা হয়েছিল। সিরাজগঞ্জের ওই দম্পতি কী উদ্দেশ্যে কিংবা ভুলবশত ব্যাগটি সেখানে ফেলে গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
আরটিভি/এসএস



