বগুড়ায় এক বিয়েবাড়িতে গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের তিলেরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে শাহ আলম ও সাগর নামে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাবুল মিয়ার ছেলে সাগর মিয়ার সঙ্গে তিলেরপাড়া গ্রামের টুটুল মিয়ার মেয়ে সাথী আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছালে গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও পরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বরপক্ষের অভিযোগ, গেটের বকশিশের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কনেপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এতে নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ সময় ১৫টি মোবাইল ফোন, একটি সোনার চেইনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া তাদের একজন স্বজনকে ঘটনার পর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বরের চাচাতো বোন জাকিয়া আক্তার বলেন, আনন্দের সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানে এলেও কনে পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। নারীদের মারধর করা হয় এবং কয়েকজনকে জোর করে পাটক্ষেতে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয়। একইসঙ্গে উপস্থিতদের মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বরের মামি মাহমুদা বেগম বলেন, গেটের বকশিশ হিসেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হলে আমরা ৫০০ টাকা দিতে চাই। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিয়ে না করে চলে যেতে চাইলে আমাদের পথরোধ করে মারধর করা হয়। এমনকি ১০ লাখ টাকা দাবি করে হুমকিও দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, কনেপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের পাল্টা দাবি, বরপক্ষের লোকজনই অতি সামান্য বিষয় নিয়ে প্রথমে আক্রমণাত্মক আচরণ করে এবং বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। ছিনতাই বা হামলায় কনেপক্ষের কেউ জড়িত নয়।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলেইমান আলী গণমাধ্যমকে বলেন, বকশিশের টাকা নিয়ে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটি একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। বরপক্ষ চলে যেতে চাইলে কনেপক্ষ ও স্থানীয় কয়েকজন তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ বরযাত্রীদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আহত দুজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোনসহ মালামাল হারানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/আইএম



