রামসার সাইট খ্যাত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, প্রতিবেশগত ভারসাম্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। হাওরের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সীমানার অভ্যন্তরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৩ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
রোববার (২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে গণবিজ্ঞপ্তিটি জেলা প্রশাসন, সুনামগঞ্জের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। গণবিজ্ঞপ্তি জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
হাওরে চলাচলকারী সব নৌযানের মালিক ও পরিচালনাকারীদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’-এর আলোকে পরিবেশ রক্ষা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ১৩ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন করা হলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধান নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) ঘোষিত সীমানায় সব ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ থাকবে।
আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাউসবোট নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে বা অনুমতি ছাড়া কোনো নৌযান পরিচালনা করা যাবে না। আবেদনসংক্রান্ত বিষয়ে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি), সুনামগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
হাউসবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক ব্যবহার বা পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নৌযানে পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার রাখতে হবে। এছাড়া হাউসবোটে বাধ্যতামূলকভাবে সেপটিক ট্যাংক ও অন্তত দুটি ডাস্টবিন স্থাপন করতে হবে। হাওর বা জলাশয়ে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা যাবে না।
হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে এবং ট্যুর শুরুর আগেই তা পর্যটকদের জানাতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের নম্বর দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
প্রতিটি ট্যুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। আকস্মিক ঝড়, প্রবল বৃষ্টিপাত বা বজ্রপাতের আশঙ্কাকালে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং হাওরের সার্বিক সুরক্ষায় নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে।
আরটিভি/টিআর




