ছাত্রদের দিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়নের ভিডিও ভাইরাল

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০৮:৫৫ এএম


ছাত্রদের দিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়নের ভিডিও ভাইরাল
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) ইনস্টিটিউটে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষকের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের দিয়ে উত্তরপত্রের কাজ করানোর অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে বসে চারজন শিক্ষার্থী একসঙ্গে কয়েকটি এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র হাতে নিয়ে কাজ করছেন। ভিডিওতে তাদের কলম দিয়ে উত্তরপত্রে লিখতেও দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভিডিওতে থাকা শিক্ষার্থীরা ওই প্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ (বিএমটি) শাখা থেকে গত ৪ জুলাই জারি করা এক চিঠির মাধ্যমে বাংলা বিষয়ের (বিষয় কোড-২১৮১১) ৩৫০টি উত্তরপত্র প্রতিষ্ঠানটির বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও পরীক্ষক রিপনের কাছে মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষক কোড-১৪০৫-এর আওতায় পাঠানো এসব উত্তরপত্র আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে বোর্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

ভিডিও প্রকাশের পর অভিযোগ ওঠে, দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষক নিজে উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করে শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ মানজুর বলেন, উত্তরপত্র পরীক্ষক নিজেই মূল্যায়ন করেছেন। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে উত্তরপত্রের মলাট পূরণের কাজে শিক্ষার্থীদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। ভিডিওটি আমিও দেখেছি।

এদিকে শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বিধি অনুযায়ী উত্তরপত্র মূল্যায়ন, সংরক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হওয়ার কথা। উত্তরপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায় অননুমোদিত কাউকে এ কাজে সম্পৃক্ত করার সুযোগ নেই।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের হাতে উত্তরপত্র তুলে দেওয়ার ঘটনায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর বলেন, খাতাগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নয়, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন অন্য প্রতিষ্ঠানের। প্রাথমিকভাবে জেনেছি পরীক্ষকই খাতা মূল্যায়ন করেছেন। শিক্ষার্থীরা হয়তো নিজেদের খাতা ভেবে উল্টে-পাল্টে দেখছিল। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত ছিলাম না। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও উত্তরপত্রের গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission