
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে আগেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার নুরাবাদ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আবুল কালামের একমাত্র ছেলে মো. রাসেল (১৭)। পরীক্ষায় পাস করেও ফলাফল জানতে পারেনি সে। সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশসেবার স্বপ্ন দেখা রাসেলের অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও সহপাঠীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
রাসেল দুলারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরে প্রকাশিত ফলাফলে সে জিপিএ-৩.৩০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। তবে সেই সুখবর নিজের মুখে শোনা কিংবা ফলাফল জানার সুযোগ আর হয়নি তার।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, লেখাপড়া শেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন ছিল রাসেলের। এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই সে সেনাবাহিনীতে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ জন্য প্রায় ৮ হাজার টাকা জোগাড়ও করেছিল। ফল প্রকাশের পর ঢাকায় গিয়ে সেনাবাহিনীর কোর্সে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার সেই স্বপ্ন থেমে যায়।
জানা গেছে, বাড়ির বসতঘরের ফ্লোরিংয়ের কাজের জন্য পুকুরে বৈদ্যুতিক মোটর বসানোর সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় রাসেল। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।
রাসেল ছিল পরিবারের চার বোনের একমাত্র ভাই। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান তার বাবা-মা। ছেলের স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা মনে করে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তারা।
রাসেলের বাবা মো. আবুল কালাম বলেন, আমার চারটি মেয়ে আর একমাত্র ছেলে ছিল রাসেল। সে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। খুবই মেধাবী ছিল। স্বপ্ন ছিল সেনাবাহিনীতে যাবে। তার পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে। সে দেখে যেতে পারেনি। ছেলেকে হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।
সহপাঠী ও শিক্ষকরা বলেন, রাসেল ছিলেন ভদ্র, মিশুক ও ধর্মভীরু স্বভাবের ছেলে। লেখাপড়ার পাশাপাশি সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করতেন তিনি। তার এসএসসি ফল প্রকাশ হয়েছে। সে আজ বেঁচে নেই।
আরটিভি/এমএইচজে


