
ঢাকার ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিনে ১২০০ থেকে ১৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসলেও চিকিৎসকের সংকটে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার ৫ লাখের বেশি মানুষ। ৫০ শয্যার হাসপাতালে দৈনিক রোগী আসছে ১৫০ শয্যার সমান। চিকিৎসক সংকট, ওষুধের অভাব এবং তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে বন্ধ এক্স-রে সেবা। ঢাকার ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন নিজেই এক রোগী। চিকিৎসকেরা বলছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার মান বাড়ায় রোগীর চাপ বেড়েছে। জনবলের সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
আয়তনের দিক থেকে ঢাকা জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা ধামরাই। এ উপজেলায় বসবাস করে ৫ লাখের বেশি মানুষ। এত জনসংখ্যার জন্য রয়েছে একটি মাত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল যেখানে চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সবাই।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিতে যাওয়া রোগীদের টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন। তীব্র লোডশেডিং এবং টিকিটের লাইনের স্থানে ফ্যান না থাকায় সেবা নিতে এসে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায়, একজন চিকিৎসকের পক্ষে মানসম্মত সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অনিক মিয়া বলেন, ডাক্তার দেখানোর পর পরবর্তী ধাক্কা আসে ওষুধের কাউন্টারে। এখানে বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার কথা। আমার প্রেসক্রিপশনে ৭টি ওষুধ থাকলেও, স্টক না থাকায় আমি পেয়েছি মাত্র দুটি।
এদিকে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ইনডোরের চিত্র আরও ভয়াবহ। ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগী কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র বেড সংকট। বাধ্য হয়ে নোংরা মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে। এর ওপর যোগ হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। বিদ্যুৎ গেলেই গরমে ছটফট করতে হয় সাধারণ ও শিশু রোগীদের।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা জানান, একবার ডাক্তারের দেখা মিললে আর আসে না। যেকোনো প্রয়োজনে নার্সরাই তাদের শেষ ভরসা। সরকারি খরচে কম মূল্যে এক্স-রে করার আশা পূরণ হচ্ছে না এই হাসপাতালে আসা সাধারণ মানুষের। তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে অনিয়মিত রয়েছে হাসপাতালের এক্স-রে সহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ফলে চড়া দামে বাইরের প্রাইভেট ল্যাব থেকে পরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন দরিদ্র রোগীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চিকিৎসক ছাড়াও নার্স, টেকনোলজিস্ট, ফিল্ড স্টাফ ও অন্যান্য পদসহ মোট ১৩৫টি পদের মধ্যে প্রায় ৩০টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এছাড়া ৯ জন ডাক্তার সংযুক্তিতে ঢাকা আছেন ফলে রোগীদের অনেক সময় চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। প্যাথলজি বিভাগে জনবল না থাকায় রোগীদের যেতে হচ্ছে বাইরের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আহমেদুল হক তিতাস বলেন, আমাদের বেশ কিছু ডাক্তার সংযুক্তিতে ঢাকা রয়েছেন। আমাদের চিকিৎসার সেবার মান বাড়ায় রোগীর পরিমাণ বেড়েছে। আসলে ৫০ শয্যার হাসপাতালে ১২০০/১৫০০ সেবাগ্রহীতাকে সেবা দিচ্ছি আমরা। চিকিৎসকসহ জনবল সংকটের যে সমস্যা রয়েছে তা দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে




