ব্রাহ্মণবাড়িয়া (কসবা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক হোসেন মিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে কুমিল্লার দেবিদ্বার ও কোতোয়ালি এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার দুয়ারিয়া এলাকার শহীদুল ইসলামের ছেলে মো. আবুল বাশার (৪৪) এবং কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার সংরাইশ এলাকার মৃত রফিক মিয়ার মেয়ে নাজমুন নাহার লাভলী (২৮)। র্যাব-৯ ও র্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৯-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন স্বীকার করেছেন, তারা ও মামলার অন্য আসামিরা ঘটনার দিন ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামের এক ধরনের চেতনানাশক ব্যবহার করে সিএনজি চালক হোসেন মিয়াকে অচেতন করেন। পরে তাকে হত্যা করে তাঁর অটোরিকশা নিয়ে যান তারা।
র্যাব জানায়, একই মামলায় তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৪ আগস্ট আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার বাগুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত প্রায় ২টার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাজমুন নাহার লাভলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মে পাশের ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা এলাকার বাসিন্দা সিএনজি চালক হোসেন মিয়া অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে কসবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
নিখোঁজের দুই দিন পর, ২৮ মে ঈদের দিন বিকেলে কসবা উপজেলার টি. আলী বাড়ির একটি পুকুরে ভাসমান অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি হোসেন মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ, সিএনজি অটোরিকশা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা হোসেন মিয়াকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে যায়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কসবা থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার তাদের কসবা থানায় সোপর্দ করেছে র্যাব।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আরটিভি/টিআর


