ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

উপকূলে কেওড়ার বাম্পার ফলন, বাড়ছে আয়ের সম্ভাবনা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
ছবি: আরটিভি

সুন্দরবনসহ দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে এবার কেওড়া ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। নদীর চর, বেড়িবাঁধ এবং লবণাক্ত জমিতে গড়ে ওঠা গাছগুলোতে ঝুলছে থোকায় থোকায় ফল। ফলন ভালো হওয়ায় সুন্দরবনসংলগ্ন খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে কেওড়া সংগ্রহ ও বিক্রির ধুম পড়েছে।

উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর কাছে কেওড়া কেবল একটি ফল নয়, বরং তাদের খাদ্য সংস্কৃতি ও জীবিকার এক অনন্য অনুষঙ্গ। টক স্বাদের এই ফল দিয়ে ছোট চিংড়ি বা মসুর ডাল রান্না উপকূলের ঘরে ঘরে দারুণ জনপ্রিয়। এছাড়া কেওড়া দিয়ে সুস্বাদু আচার, চাটনি, জ্যাম ও জেলি তৈরি করা যায়।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার শিবসা, ভদ্রা, মিনহাজ, কপিলিয়া ও কপোতাক্ষ নদের চরাঞ্চলে সামাজিক বনায়নের পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর কেওড়া গাছ বেড়ে উঠেছে। এলাকার সুইচগেট ও নদীর তীরবর্তী জমিতে রোপণ করা গাছগুলোর বেশির ভাগই এখন ফলনে ভরা। স্থানীয় বাসিন্দারা পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি ফল বাজারে বিক্রি করছেন।

কেওড়া মূলত একটি দ্রুতবর্ধনশীল ও লবণাক্ততা সহিষ্ণু গাছ। উপকূলীয় প্রতিকূল পরিবেশে সামান্য পরিচর্যাতেই এটি প্রচুর ফল দেয়। ফাল্গুনের শেষ দিকে ফুল আসার পর চৈত্র থেকে ফল পেতে শুরু করেন স্থানীয়রা, যা ভাদ্র-আশ্বিন মাস পর্যন্ত থাকে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কেওড়া ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম কম হলেও সহজলভ্য হওয়ায় এই ফল সংগ্রাহকদের বাড়তি আয়ের জোগান দিচ্ছে।

বাতিখালি চর বনায়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামিরুল ইসলাম জানান, অনাবাদি ও লবণাক্ত চরে পরিকল্পিতভাবে কেওড়া বনায়ন করা গেলে একদিকে পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে উপকূলীয় মানুষের আয়ের নতুন পথ তৈরি হবে।

ফলের পাশাপাশি মধু উৎপাদন ও পরিবেশ রক্ষায় কেওড়ার রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের মৌসুমে মৌমাছিরা কেওড়া ফুল থেকেই সিংহভাগ মধু সংগ্রহ করে। তাছাড়া এর শক্তিশালী শ্বাসমূল জোয়ার-ভাটাপ্রবণ উপকূলীয় এলাকার মাটি ধরে রেখে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় দেয়াল হিসেবে কাজ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেওড়াকে শুধু মৌসুমি কাঁচা ফল হিসেবে বিক্রি না করে বাণিজ্যিক প্রক্রিয়াজাতকরণের আওতায় আনা জরুরি। স্থানীয় নারীদের আচার, চাটনি, জ্যাম ও জেলি তৈরির প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা দিলে ঘরে বসেই তৈরি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থান।

পাইকগাছা বন কর্মকর্তা প্রবীর বিশ্বাস জানান, পাইকগাছার বাতিখালি, হাড়িয়া, বেতবুনিয়া, জিরবুনিয়া, কাঠামারী ও দেলুটী অঞ্চলে প্রায় ১০০ হেক্টর নদীর চরে বনায়ন গড়ে তোলা হয়েছে, যার ৮০ শতাংশই কেওড়া গাছ।

আরও পড়ুন

তিনি মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কেওড়াকে কেন্দ্র করে উপকূলে গড়ে উঠতে পারে সম্ভাবনাময় এক নতুন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পখাত, যা উপকূলীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধে রাস্তা বন্ধ, ঘর ভেঙে মরদেহ দাফন
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে রাস্তা না থাকায় ঘরের অংশ ও টিনের বেড়া ভেঙে চলাচলের পথ তৈরি করে আব্দুল সালাম (৬০) নামে এক ব্যক্তির লাশ দাফন করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। রোববার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কালিহাতী উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের বিলপালিমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  আব্দুল সালাম কালিহাতী উপজেলার বিলপালিমা গ্রামের একাব্বর আলীর ছেলে। শনিবার রাতে ঘাটাইল উপজেলায় অসুস্থ অবস্থায় তিনি মারা যান। রাতে কোনোভাবে স্বজনরা তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন। রাতেই দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তা না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। পরে সকালে লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিলপালিমা গ্রামের মাতবর মোজাফফর হোসেন বলেন, কবরস্থানে লাশ দাফন করতে যাওয়ার রাস্তা না থাকায় প্রতিবেশীদের রাস্তা বের করে দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা তাতে সাড়া দেননি। মৃত সালামের ভাই পুলিশ সদস্য আবু সাঈদ জানান, এলাকাবাসীর শরণাপন্ন হলে রোববার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে কবরস্থানে লাশ নেওয়ার সময় চলাচলের রাস্তা না থাকায় স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ হন। পরে রাস্তার মাঝখানে থাকা ঘর ও টিনের বেড়া ভেঙে চলাচলের পথ তৈরি করে দেন তারা। তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীর সহায়তায় পরে কবরস্থানে লাশ দাফন করা সম্ভব হয়েছে। তার ভাইয়ের জানাজা শনিবার রাতে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লাশ নেওয়ার রাস্তা না থাকায় রোববার সকাল ১১টায় দাফন করতে হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো বিলপালিমা বর্তা বিলের চলাচলের রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশী একাব্বর আলীর সঙ্গে বিরোধের জেরে প্রায় দুই বছর ধরে বিলপালিমা গ্রামের মোতাহের মাস্টার, কবির, মজিদ ও কাশেমের লোকজন চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে রেখেছেন। বাংড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজালাল জানান, প্রতিপক্ষরা রাস্তার মাঝখানে ঘর তুলেছিল। ঘর থাকায় লাশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ঘর ভেঙে রাস্তা তৈরি করেন। এরপর লাশ কবরস্থানে নিয়ে দাফন করা হয়। এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ওসি কাইয়ুম খান সিদ্দিকী বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছেন। লাশ দাফন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’ আরটিভি/এসআর
প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধে রাস্তা বন্ধ, ঘর ভেঙে মরদেহ দাফন
সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর ইউনিয়নের হরিপুর মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 
সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর
পঞ্চগড়ের মেঘমুক্ত আকাশে উঁকি দিচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা
পঞ্চগড়ের মেঘমুক্ত আকাশে উঁকি দিতে শুরু করেছে হিমালয়ের দ্বিতীয় উচ্চতম ও পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা।
পঞ্চগড়ের মেঘমুক্ত আকাশে উঁকি দিচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা
ভোলায় ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা দিতে টাকা দাবি ও দরকষাকষির মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান ও তার ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দেওয়া মো. রাকিবের বিরুদ্ধে।
ভোলায় ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তিনদিন ঝোপে পড়ে ছিলেন গৃহবধূ, দুর্গন্ধে মিলল মরদেহ
জামালপুরের বকশীগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সড়কের পাশের ঝোপে ছিটকে পড়ে তিনদিন নিখোঁজ ছিলেন রোজিনা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূ। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ঝোপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক মো. সোহানকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তিনদিন ঝোপে পড়ে ছিলেন গৃহবধূ, দুর্গন্ধে মিলল মরদেহ
আরও পড়ুন
জেলের ছদ্মবেশে সুন্দরবনে হরিণ শিকারের পাঁয়তারা, আটক ৬
‎সুন্দরবন থেকে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার
সুন্দরবনের পাশের ১৮ রিসোর্ট বন্ধে চূড়ান্ত নোটিশ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
সুন্দরবনে বাঘের পায়ের ছাপের স্মৃতি এখনও মনে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর