ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

অপরাধী ও কিশোর গ্যাংয়ের স্থান জেলেই হবে: নওগাঁর পুলিশ সুপার

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
ছবি: আরটিভি

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেছেন, অপরাধী ও কিশোর গ্যাংয়ের কোনো সদস্যকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ ও কিশোর গ্যাংয়ের স্থান জেলেই হবে। তবে কেউ ভালো হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে এবং তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকলে বিষয়টি আইনগতভাবে বিবেচনা করা হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার তুরুকবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অপরাধ ও মাদকমুক্ত নিরাপদ সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয়দের উদ্দেশে পুলিশ সুপার বলেন, এত মানুষ যদি মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাহলে তুরুকবাড়িয়া এলাকায় কারও মাদক বিক্রি করার সাহস থাকবে না। আপনারা কথা দিন, এই এলাকায় যে-ই মাদক বিক্রি করবে, তাকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করবেন। আমরা আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।

তিনি আরও বলেন, কিছু লোক ‘ব্ল্যাক হোল’ নামে একটি ক্লাবের আড়ালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। আমরা তাদের নওগাঁ বা বগুড়া থেকে পালিয়ে যেতে দিইনি। গাড়ি থেকে নামিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং অস্ত্র মামলায় তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ব্ল্যাক হোলের কোনো সদস্য বা অন্য কেউ যদি ভালো হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকে, তাহলে বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা হবে। কিন্তু কিশোর গ্যাংয়ের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি মাস্তানি করে, তাহলে তার জায়গা জেলেই হবে।

অপরাধীদের স্বজনদের হুমকি-ধামকির বিষয়েও সতর্ক করে পুলিশ সুপার বলেন, কোনো অপরাধীর আত্মীয়-স্বজন যদি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখান বা হুমকি দেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে শুধু পুলিশের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। এজন্য সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। এলাকাবাসী সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সভায় বক্তারা মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে পুলিশ ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন এবং মান্দা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. মকলেছুর রহমান (মকে)।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি’—যুবকের ফেসবুক পোস্ট, অতঃপর...
"আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি" বন্ধু হাবিবুর রহমানের যৌথ ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্ট করার কিছুক্ষণ পরেই প্লাবন সরকার (২২) নামের এক যুবেকর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্লাবন সরকার সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মামুদনগর বাজারে টেইলার ব্যবসায়ী ছিলেন। বন্ধু হাবিবুর রহমান তার প্রতিবেশী মুদি দোকানদার। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই এই যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। এদিকে প্লাবনের আত্মহত্যার জন্য হাবিবুর রহমান দায়ী বলে দুই লাইনের দুইটি চিরকুটের ছবি পাওয়া গেছে। ওই দুই চিরকুটে লেখা রয়েছে, আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু হাবিবুর ভাই। হাতের লেখাটি প্লাবন সরকারের বলে জানিয়েছেন তার পরিচিতজনরা। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে প্লাবন সরকার তার নিজ ফেসবুক আইডিতে একই গ্রামের হাবিবুর রহমানসহ তার দুই জনের বিভিন্ন স্থানের যৌথ কয়েকটি ছবি দিয়ে ক্যাপশনে লিখেন "আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি"। এই পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই খবর পাওয়া যায় প্লাবন সরকার মারা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল বিকেলে প্লাবন সরকারের ফেসবুক পোস্টের পর হাবিবুর রহমান ও একই গ্রামের মঈনুল ইসলাম প্লাবন সরকারের বসত ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে তার লাশ নিচে নামান। পরে গ্রামের বাজার থেকে একজন পল্লী চিকিৎসককে সাথে নিয়ে প্লাবনের রক্ত সঞ্চালন আছে কি-না চেক করেন। পল্লী চিকিৎসক প্লাবনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলে হাবিবুর রহমান ও মঈনুল ইসলাম প্লাবনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে গিয়ে এলাকা ছাড়া হয়ে যান। পল্লী চিকিৎসক প্রদীপ সরকার জানান, হাবিবুর, মঈনুল ও প্লাবন তিনজনই বাজারের ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে হাবিবুর ও মঈনুল এসে প্লাবনদের বাড়িতে নিয়ে একটি জিনিস দেখানোর কথা বললে আমি তাদের সাথে যাই। মোটরসাইকেলে করে আমাকে নিয়ে যাওয়ার পর তারা প্লাবনের ঘরের পেছনের দিকে যায়। পরে দেখি তারা প্লাবনের লাশ নিচে নামিয়ে খাটের উপরে রাখে। আমাকে তারা বিপি (ব্লাড প্রেসার যন্ত্র) নিয়ে আসার কথা বলে। পরে বিপি লাগিয়ে দেখি তার রেসপন্স নাই। এই কথা বলতেই তারা দুই জন প্লাবনের মোবাইল ফোনটি নিয়ে  দ্রুত পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে হাবিবুর রহমান ও মঈনুলের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। মঈনুলের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, আমার ভাই ওদের সাথে বাজারে হাঁস খাইত। প্লাবনের মৃত্যুর ঘটনার সাথে আমার ভাই জড়িত থাকলে তারও শাস্তি হোক। তবে আমরা জানতাম প্লাবন ও হাবিবুর রহমানের মধ্যে একটা খারাপ সম্পর্ক আছে। যা মুখে প্রকাশ করার মত না। কয়েক বার ওদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়েছে। প্লাবনের বড় ভাই প্রণয় সরকার বলেন, হাবিবুর, মইনুল ও প্লাবন এক সাথে চলাফেরা করত। হাবিবুরের কাছে প্লাবনের টাকা পয়সা ছিল। কয়েক দিন তারা প্লাবনকে মারপিট করেছে। গতকাল বিকেলে প্লাবনকে মেরে তার মোবাইল নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা এই ঘটনার সঠিক তদন্ত চাই। এ বিষয়ে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে প্লাবনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে । থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। তার মৃত্যুর পেছনে কি রহস্য রয়েছে এবং এটি প্ররোচিত আত্মহত্যা কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/ এসকেডি
‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি’—যুবকের ফেসবুক পোস্ট, অতঃপর...
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার আগমন ঘিরে বরগুনায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে বামনা-পাথরঘাটা সড়কের চাড়াখালী এলাকায় বামনা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ ঝটিকা মিছিল বের করা হয়।
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার আগমন ঘিরে বরগুনায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
গাজীপুরে আবাসিক মাদরাসায় টানা তিন রাত নিপীড়নের শিকার ৮ বছরের ছাত্র
এ ঘটনায় ওই মাদরাসার শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর মা।
গাজীপুরে আবাসিক মাদরাসায় টানা তিন রাত নিপীড়নের শিকার ৮ বছরের ছাত্র
ফজরের আগমুহূর্তে ছাত্রীকে ধরে রুমে নিয়ে যান পরিচালক, মাদরাসায় আগুন
ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও তাকে একাধিকবার অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়েছে। এজন্য চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করা হতো বলেও দাবি তার। ঘটনার পর তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো বলেও অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।
ফজরের আগমুহূর্তে ছাত্রীকে ধরে রুমে নিয়ে যান পরিচালক, মাদরাসায় আগুন
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে যেসব স্টেশনে থামবে মহানগর এক্সপ্রেস
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে চালু হচ্ছে নতুন আরও একটি ট্রেন। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলবে মহানগর এক্সপ্রেস।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে যেসব স্টেশনে থামবে মহানগর এক্সপ্রেস
আরও পড়ুন
নওগাঁয় শেখ হাসিনাকে নিয়ে মাইকিং, গ্রেপ্তার ২
মাদক ও অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
পূজা মণ্ডপে কুড়াল হাতে ‘ঘুরঘুর’, এরপর যা ঘটল
রাতের আঁধারে সার পাচারের সময় হাতেনাতে ধরল এলাকাবাসী