ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

বছর যেতে না যেতেই কোটি টাকার সড়ক এখন ‘ভুলভুলাইয়া’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পাবনার বেড়া উপজেলার বড়শিলা-নলভাঙা-খাকছাড়া সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী। পিচ উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, চারপাশে গজিয়েছে ঝোপঝাড় ও আগাছা। একসময় যে পথে প্রতিদিন শত শত মানুষ ও যানবাহন চলাচল করত, সেই সড়ক এখন পরিণত হয়েছে অনেকটা জঙ্গলে। দিনে-দুপুরেও সেখানে দেখা মেলে শিয়াল ও বিষধর সাপের।

সড়কটির এমন বেহাল দশায় দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ। সড়কটি নির্মাণের পর একসময় কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও রোগীদের উপজেলা সদরে যাতায়াতে এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ পথ। অথচ নির্মাণের ১৩ বছর না যেতেই সড়কটি ভেঙেচুরে এখন পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সড়কটি দিয়ে এখন আর কেউ চলাচল করেন না। ফলে উপজেলা সদরে যেতে তাদের প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে সময় ও যাতায়াতের খরচ। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন ও কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বিল এলাকার মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ২০১৩ সালে এক কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে বেড়া পৌরসভার বড়শিলা থেকে চাকলা ইউনিয়নের খাকছাড়া পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। সড়কটি চালু হওয়ার পর নলভাঙা, খাকছাড়া, ডমডমা, জয়নগর, কৈতলাসহ অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হয়।

কৃষকের উৎপাদিত পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও রোগীদের উপজেলা সদরে যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সড়কটি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিল এলাকার প্রাকৃতিক গঠন ও জলাবদ্ধতার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়ে সড়কটি নিচু ও সরু করে নির্মাণ করা হয়েছিল। ফলে নির্মাণের পর প্রথম বর্ষাতেই সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

এরপর দীর্ঘদিনেও নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ধীরে ধীরে সড়কটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ে। বর্তমানে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। চারপাশে ঘন ঝোপঝাড় ও ছোট ছোট গাছপালা গজিয়ে সড়কটির বেশিরভাগ অংশ ঢেকে গেছে। সেখানে সাপ, শিয়াল, বেজি ও বিভিন্ন বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রবও রয়েছে। সন্ধ্যার পর নিরাপত্তার শঙ্কায় স্থানীয়রা এ পথে চলাচল করেন না।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সড়কটিতে কোনো যানবাহনের দেখা মেলেনি। একসময় মানুষের পদচারণায় মুখর থাকা পথটি এখন অনেকটাই জনশূন্য।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি পুনর্নির্মাণের জন্য এলজিইডির পক্ষ থেকে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে অর্থ বরাদ্দের অভাবে সেটি অনুমোদন পায়নি।

নলভাঙা গ্রামের কৃষক নাজিম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একসময় এই রাস্তা দিয়ে সহজেই উপজেলা সদরে যেতাম। এখন দিনের বেলাতেও হাঁটতে ভয় লাগে। বাধ্য হয়ে ১০ কিলোমিটার ঘুরে সদরে যেতে হচ্ছে। কর্তাদের অপরিকল্পিত পরিকল্পনার কারণে সরকারের মোটা অঙ্কের টাকা পানিতে ফেলা হয়েছে।’

ভ্যানচালক মকবুল হোসেন বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে এখন মালপত্র পরিবহন বন্ধ। রাতে কোনো জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। জরুরি প্রয়োজনে হেঁটেও এই পথ মাড়াতে চান না কেউ।’

খাকছাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক হোসেন বলেন, সড়কটি চালু হওয়ার পর আশপাশের গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু সড়কটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের অনেক শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় ব্যস্ত থাকা সড়কটি এখন পুরোপুরি জনশূন্য।

এলজিইডির বেড়া উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী রমজানুল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘বড়শিলা-নলভাঙা সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কয়েক বছর আগে সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেটি অনুমোদন পায়নি। শিগগিরই নতুন করে একটি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।’

পাবনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, সড়কটির জন্য আগে পাঠানো প্রকল্প অনুমোদন না পাওয়ায় কাজ আটকে ছিল। সম্প্রতি সরকার ‘পাবনা প্রকল্প’ নামে ১০ কোটি টাকার একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর আওতায় সড়কটি পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলেই কাজ শুরু করা হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
একটু সহায়তায় বাঁচতে পারে হৃদযন্ত্রে ফুটো নিয়ে জন্ম নেওয়া ছাকওয়ান
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে হৃদযন্ত্রে ফুটো নিয়ে জন্ম নেওয়া দুই মাস বয়সী শিশু ছাকওয়ান শ্বাসকষ্টে ভুগছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। সন্তানের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে সহায়তা চেয়েছেন তার বাবা-মা।
একটু সহায়তায় বাঁচতে পারে হৃদযন্ত্রে ফুটো নিয়ে জন্ম নেওয়া ছাকওয়ান
কুড়িগ্রামে ট্রাকচাপায় ৫ মৃত্যুর ঘটনায় আত্মগোপনে থাকা চালক গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ধানবোঝাই ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত রিকশার পাঁচজন যাত্রী নিহতের ঘটনায় পলাতক ট্রাকচালক মো. লুৎফর শেখকে (৪৫) পাবনা থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
কুড়িগ্রামে ট্রাকচাপায় ৫ মৃত্যুর ঘটনায় আত্মগোপনে থাকা চালক গ্রেপ্তার
মেয়ের বটির কোপে বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যু
ফেনীর দাগনভূঞায় মেয়ের বটির কোপে ছেতার বেগম (৮০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়ে রিনা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ।
মেয়ের বটির কোপে বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যু
প্রসূতির মৃত্যুর পর অবৈধ ক্লিনিক মালিকের কারাদণ্ড
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-নার্স, বৈধ লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ক্লিনিক পরিচালনা এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিজারিয়ান অপারেশন করার দায়ে লুৎফর হোসেন নামে এক ক্লিনিক মালিককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগও উঠেছে।
প্রসূতির মৃত্যুর পর অবৈধ ক্লিনিক মালিকের কারাদণ্ড
জামালপুরে বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার ৫
জামালপুরের বকশীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদ ও একটি মোটরসাইকেলসহ পাঁচ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-১)। গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে একজন উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান উদয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বৈষ্ণব পাড়া ও লাউচাপড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদসহ ওই ছাত্রদল নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. সুজাত মিয়া (৩৭), মো. সিফাত (২০), মো. রুবেল মিয়া (২৭), মো. ফুরকান হোসেন (১৯) এবং আমান উল্লাহ উদয় (২৭)। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় মদের চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি-১ এর এসআই মো. সোহাগ রানার নেতৃত্বে উপজেলার বৈষ্ণব পাড়ার সুজাত মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকা থেকে ছাত্রদল নেতা উদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকা থেকে চোরাইপথে মদ এনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করতেন তারা। এ বিষয়ে জামালপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। রোববার দুপুরে মাদকসহ পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আরটিভি/ এসআর
জামালপুরে বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার ৫
আরও পড়ুন
পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে প্রায় সাত কোটি মানুষ উপকৃত হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী
পাবিপ্রবিতে নেই স্বাস্থ্যবিমা, চিকিৎসা ব্যয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি
মাদরাসা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ হলোনা নজরুলের
প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ পেরোলেও পাবিপ্রবিতে নেই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন