
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কয়েকজনের মৃত্যুর খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।
তিনি বলেন, যাদের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে, তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগামীকাল তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতাল পরিচালকের মিলনায়তনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিভাগীয় কমিশনার। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারও মৃত্যু হয়নি। সংবাদমাধ্যমে মৃত্যুর যে খবর প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। যাদের মারা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে হাসপাতালের কিছু সিঁড়ি বন্ধ ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। হাসপাতালের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তা তদন্ত করা হবে। চিকিৎসকরা এখনও তাদের কাছে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর কোনও তথ্য দেননি বলেও জানান তিনি।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে। আগুন ও ধোঁয়া দেখে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসেন। এ সময় হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে ২০ জন আহত এবং কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে।
তবে রাত পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। পরে বিভাগীয় কমিশনারও জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন তালিকায় মৃত্যুর তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না এবং মর্গের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, লিফটের কন্ট্রোল রুমে থাকা কন্ট্রোলার মেশিনের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আগুন বড় না হলেও লিফটের কন্ট্রোল রুম থেকে ভবনের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
আরটিভি/এসএস




