ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

উত্তরপত্রে মোবাইল নম্বর পেয়ে শিক্ষার্থীকে বাসায় ডাকেন শিক্ষক, অতঃপর...

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রে মোবাইল নম্বর পেয়ে এক শিক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে টাকার বিনিময়ে পাস করার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজির প্রভাষক সেকেন্দার আলীর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের খাতায় মোবাইল নম্বর লিখে রাখে ওই এইচএসসি পরীক্ষার্থী। খাতা দেখতে গিয়ে নম্বরটি চোখে পড়ে পরীক্ষক সেকেন্দার আলীর। পরে গত ১৪ আগস্ট সকালে তিনি ফোন করে ডাকেন ওই পরীক্ষার্থীকে। সে গিয়ে দেখে, পেয়েছে ২৫ নম্বর। পরে ২ হাজার টাকায় রফাদফায় পরীক্ষক তাকে খাতায় লিখতে দেন। লেখার পর তার নম্বর হয় ৫০।

ওই পরীক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান। সে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর এলাকায় অবস্থিত আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। মানবিক বিভাগ থেকে সে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। পুরো বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করেছে মেহেদী।

পরীক্ষার্থী মেহেদী হাসান সেদিন রুহুল আমিন নামের অপর এক বন্ধুকে নিয়ে ওই পরীক্ষকের বাসায় গেলেও তার পরিচয় জানাতে পারেনি। তবে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে পাওয়া যায় সেকেন্দার আলীকে।

দেখা করার আগে ওই পরীক্ষকের সঙ্গে মেহেদীর মোবাইলে কথোপকথন হয়। এতে শোনা যায়, সেকেন্দার আলী টাকা নিয়ে মেহেদীকে ডাকেন। বিষয়টি অভিভাবকদের জানাতেও নিষেধ করেন। মেহেদী বলে, টাকা নিতে হলে তো অভিভাবককে জানাতে হবে। পরীক্ষক তখন বলেন, ‘একজন ভিক্ষুকের কাছেও ২-১০-২০ হাজার টাকা থাকে।’

জবাবে মেহেদী বলে, ‘স্যার তো বুঝতে পারছেন, আমরা তো বেকার ছেলে, ভিক্ষুক না। ভিক্ষুকের কাছে তো টাকা থাকবেই, আমরা তো বেকার।’ পরীক্ষক বলতে থাকেন, ‘না না ঠিক আছে। আরও ক্যান্ডিডেটদের নিয়ে আসো।’

পরে ১৪ আগস্ট সকালেই মেহেদী, ইমন আলী, সৌরভ, রুহুল, সোহাগ ও সামিসহ ছয়জন যায় রাজশাহীর বিনোদপুর বাজারে। কিছুক্ষণ পর একটি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে আসেন পরীক্ষক। এরপর সেই পরীক্ষকের বাড়ি যায় তারা। তারপর বের করে দেন খাতা। মেহেদীর মোবাইল নম্বর লেখা খাতাটি সহজেই পাওয়া যায়, কিন্তু রুহুলের খাতা পাওয়া যায়নি। বাজারে অপেক্ষমাণ অন্য সহপাঠীদেরও খাতা পাওয়া যায়নি।

এরপর দুপুরেই মেহেদী গণমাধ্যমকে জানায়, মোটরসাইকেলে প্রায় ১০ মিনিটে পরীক্ষকের বাড়িতে পৌঁছায়। কিন্তু জায়গাটা চেনে না। খাতায় লেখা শেষে পরীক্ষক নিজেই তাদের বিনোদপুরে রেখে যান।

মেহেদী জানায়, পরীক্ষক তাদের নাম জানাননি। বরং তার মোবাইল নিয়ে নিজের নম্বরটি ডিলিট করে দেন। মেহেদী বলে, ‘আমার খাতায় ২৫ মার্ক ছিল। স্যার ২ হাজার টাকা নিয়েছে। খাতায় লিখতে দিল। যেগুলো ভুল লিখেছিলাম সেগুলো ঠিক করে দিয়েছি। আর যেটা লিখিনি, সেটা ফাঁকা জায়গায় লিখে দিয়েছি।’ এখন কত নম্বর হয়েছে জানতে চাইলে মেহেদী বলে, ‘৫০ প্লাস হবে।’

পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ১৪ আগস্ট পরীক্ষক যে মোটরসাইকেলে এসেছিলেন সেটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর রাজশাহী-হ ১৫-২৪০৫। বিআরটিএ থেকে জানা যায়, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন সুজন কুমার বিশ্বাসের নামে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গাড়িটি তিনি অনেক আগে বিক্রি করে দিয়েছেন। এভাবে গাড়িটি তিন হাত বদল হয়েছে। একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম সেন্টুকে পাওয়া যায়। তিনিই বর্তমানে মোটরসাইকেলটির মালিক। সেন্টু ওই প্রভাষকের আত্মীয়। তার বাড়ি চারঘাট উপজেলার কাকালকাটি গ্রামে। ৫ সেপ্টেম্বর সেন্টুর বাড়ির সামনেই ওই মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। ওই এলাকার এক ব্যক্তিকে ছবি দেখাতেই তিনি প্রভাষক সেকেন্দার আলীর পরিচয় নিশ্চিত করেন। তার বাড়ি বেলঘরিয়া গ্রামে।

সেদিন বিকেলে বাড়িতেই পাওয়া যায় সেকেন্দার আলীকে। ফোনকল রেকর্ড এবং ছবি দেখানো হলেও তিনি পরীক্ষার্থীকে বাসায় নিয়ে টাকার বিনিময়ে লেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন।

হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক মণ্ডল জানান, অনেক আগে থেকে তার কলেজের ইংরেজির প্রভাষক সেকেন্দার আলী এইচএসসির খাতা দেখেন। কিন্তু তিনি এমন কাজ করেন, তা জানেন না। এ জন্য শিক্ষা বোর্ড যদি কোনো পদক্ষেপ নিতে বলে, তাহলে তিনি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

এ ছাড়া মেহেদীর সঙ্গে এই প্রভাষকের কথোপকথনের রেকর্ড শুনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেকেন্দার আলীর পরিচয় নিশ্চিত করেন।

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, ‘এমন হলে এটা তো খুবই ভয়াবহ ঘটনা। আমরা এটা কোনোভাবেই বরদাস্ত করব না।’

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বান্ধবী ভালো না বলে ৬ মাস মেয়েকে স্কুলে পাঠাননি তাজমিনের মা!
কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় তাজমিনের বান্ধবীকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তার মা। তাজমিনের মায়ের বক্তব্য, মেয়ের বান্ধবী ভালো নয়—এমন আশঙ্কা থেকে প্রায় ছয় মাস স্কুলে যেতে দেননি। মেয়েকে চোখে চোখে রাখতেন, খোঁজখবর নিতেন নিয়মিত। সবশেষ গতকাল বিকাল ৪টার দিকে মেয়ের সাথে কথা বলেও জানতে চেয়েছিলেন বান্ধবীর নাম ও বাসার ঠিকানা।  এ সময় তিনি বলেছিলেন, ‘তোর বান্ধবীর নাম বল, বাসার ঠিকানা বল, বাসায় গিয়ে নিয়ে আসব।’ কিন্তু মায়ের সেই উদ্বেগ আর সতর্কতা কোনো কাজে এল না। কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হয়েছে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের লাশ। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকাল ৪টার দিকে তাজমিনের সাথে মায়ের সর্বশেষ কথা হয়। কথোপকথনের একপর্যায়ে মা মেয়ের বান্ধবীর নাম ও বাসার ঠিকানা জানতে চান। তাঁকে বাসায় ফিরিয়ে আনার কথাও বলেন। কিন্তু এরপর তাজমিনের সাথে কী ঘটেছিল, কীভাবে সে লালমাইয়ের জগতপুর এলাকায় পৌঁছাল এবং কারা তার সাথে ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। মেয়ের চলাফেরা ও বন্ধুত্ব নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন মা। বান্ধবীকে ভালো মনে না হওয়ায় প্রায় ছয় মাস তাজমিনকে স্কুলে যেতে দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। মেয়েকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করতেন। সেই মেয়ের এমন মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তবে যে বান্ধবীকে ঘিরে মায়ের উদ্বেগ ছিল, তার সাথে তাজমিনের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করছে পুলিশ। আরটিভি/এসআর  
বান্ধবী ভালো না বলে ৬ মাস মেয়েকে স্কুলে পাঠাননি তাজমিনের মা!
ভোলায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা
ভোলার লালমোহনে ভাড়া বাসা থেকে চরফ্যাশন দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (৩৮) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। যদিও পরিবারের দাবি হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
ভোলায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা
ছাগলে শিমগাছের পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা-মারধর, এক নারীসহ আহত ৩ জন
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় ছাগলে শিমখেতের পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে মমতাজ বেগম নামের এক নারীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মারধরের শিকার হয়ে মমতাজ বেগম এবং তার দুই ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন চেয়ারম্যানপাড়ার ছফিরউদ্দিনের স্ত্রী মমতাজ বেগম, তাঁর দুই ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন (২৫) ও আবদুল মোত্তালেব(৪৪)। তাদের মধ্যে মোয়াজ্জেম বর্তমানে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ২৮ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন। আব্দুল মোত্তালেবকে গত বুধবার বিকেলে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় চিরিরবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হামলার শিকার ওই পরিবারটি। মমতাজ বেগমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার সকালে মমতাজ বেগমের পোষা একটি ছাগল একই ইউনিয়নের মুন্সীপাড়া এলাকার প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলামের শিমখেতে ঢুকে পড়ে। ছাগলটি শিম গাছের পাতা খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে ওই দিন বিকেলে সিরাজুল ইসলাম মমতাজ বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ পরিবারের। এ সময় মমতাজের ছেলে মোয়াজ্জেমের সঙ্গে সিরাজুলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। মমতাজের বড় ছেলে আবদুল মান্নানের অভিযোগ, পরদিন মঙ্গলবার সকালে আগের দিনের ঘটনার জের ধরে সিরাজুল তার ছেলে সোহেল রানা (২৫) অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন। এ সময় তাদের কয়েকজনের হাতে ধারালো চাকুসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা বাড়িতে এসে আবারও গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে ঘরের দরজা ভেঙে ফেলা হয়। এরপর মোয়াজ্জেম ও আবদুল মোত্তালেবের সঙ্গে সিরাজুলের সঙ্গে আসা লোকজনের মারামারি হয়। তার ভাই মোয়াজ্জেমের কপালে, কানে, ডান বাহুতে গুরুতর জখম হয়। মেজোভাই আব্দুল মোত্তালেবের বাম হাতে জখম হয়। এ সময় তার মা মমতাজ বেগমকেও মারধর করা হয়। তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন এবং ঘরের ওয়ারড্রপে রাখা টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন মমতাজ বেগমের বড় মেয়ে সামশুন নাহার।  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে গিয়ে দেথা যায়, জখম হওয়া জায়গায় সেলাই দেওয়া হয়েছে মোয়াজ্জেমের। হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন তিনি। পাশেই বসা তার স্বজনরা। স্বজনরা জানান, আহত অবস্থায় দুই ভাইকে প্রথমে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী বলেন,  শুক্রবার ঘটনাস্থলে মোশারফ নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। সব কিছু শুনেই যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আরটিভি/ এসকেডি
ছাগলে শিমগাছের পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা-মারধর, এক নারীসহ আহত ৩ জন
এনসিটি চুক্তিকে ‘দেশবিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) চুক্তিকে ‘দেশবিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 
এনসিটি চুক্তিকে ‘দেশবিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী
‘আগে প্রশাসনের শুদ্ধি অভিযান চালান’, সারের লাইসেন্স নিয়ে এমপি বাবুর ফেসবুক পোস্ট
সারের লাইসেন্স বিতরণকে কেন্দ্র করে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে অনৈতিক লেনদেন ও আওয়ামী লীগের লোকজনকে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, সারের লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তি টাকা দিতে চাইলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ঈশ্বরগঞ্জে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেননি এবং ভবিষ্যতেও নেবেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরিষা ইউনিয়নে সারের লাইসেন্স বিতরণের প্রসঙ্গ টেনে এমপি বাবু লেখেন, তার দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অর্থের বিনিময়ে সুবিধা নিতে আগ্রহীদের লাইসেন্স দেওয়া হলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পোস্টে সংসদ সদস্য দাবি করেন, লাইসেন্স বিতরণে কারা কত শতাংশ অর্থ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব না পাওয়া পর্যন্ত ঈশ্বরগঞ্জে তার মনোনীত কোনো ব্যক্তিকে সারের লাইসেন্স নিতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে এমপি বাবু আরও লেখেন, তার দলের নেতাকর্মীরা মামলা-হামলার শিকার হবেন, আর অর্থের বিনিময়ে অন্যদের সারের লাইসেন্স দেওয়া হবে—এটি মেনে নেওয়া হবে না। এমনকি নিজেদের অর্থায়নে থানার জন্য গাড়ি দেওয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে প্রশাসনের জবাবদিহি ও শুদ্ধি অভিযানের দাবি জানিয়ে সংসদ সদস্য লেখেন, রাজনৈতিক নেতাদের শুদ্ধি অভিযানের আগে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ চালানো প্রয়োজন। আরটিভি/ এসকেডি
‘আগে প্রশাসনের শুদ্ধি অভিযান চালান’, সারের লাইসেন্স নিয়ে এমপি বাবুর ফেসবুক পোস্ট
আরও পড়ুন
রামেক শিক্ষার্থীর মাকে আটকে রেখে মারধর ও ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ বহিষ্কৃত নেতার বিরুদ্ধে
রাবিতে তিন ছাত্রদল নেতা-কর্মীসহ চারজনের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: নির্ধারিত সময়ে জমা হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন
ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কাটা হলো রামেবি উপাচার্যের কক্ষের তালা