ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌরশক্তিতে বদলে যাচ্ছে কৃষি, কমছে সেচ খরচ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
ছবি: আরটিভি

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচের কারণে কৃষিকাজে সেচ ব্যয় যখন কৃষকদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা দেখছেন ঝিনাইদহের প্রান্তিক কৃষকেরা।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সোলার পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে সেচ খরচ কমানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে কৃষকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩টি, কোটচাঁদপুরে ১টি এবং মহেশপুরে ৩২টি পাম্প রয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও সোলার পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) বাস্তবায়নাধীন ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় স্থাপন করা হচ্ছে এসব সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প।

সোলার পাম্প ব্যবহারকারী কৃষকেরা জানান, প্রচলিত ডিজেলচালিত সেচ ব্যবস্থার তুলনায় সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্পে পরিচালন ব্যয় কম। এতে নিজেদের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি অন্য কৃষকদের জমিতে সেচ দিয়ে বাড়তি উপার্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে মহেশপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় ফুলচাষীদের জন্য এ উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, সোলার পাম্প স্থাপনে তার ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে আরআরএফের ‘স্মার্ট’ প্রকল্প থেকে ৪৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন তিনি।

মহেশপুরের কৃষক সাদিকুল রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় আরআরএফ প্রথমবারের মতো ফুলচাষিদের নিয়ে কাজ করছে। প্রকল্পের ঋণ ও অনুদানের মাধ্যমে সোলার পাম্প স্থাপন করেছেন তিনি। নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি অন্য ১৫ বিঘা জমিতেও সেচ দিচ্ছেন।

ফুলচাষি গফুর মিয়া বলেন, সোলার পাম্প স্থাপনের পর তার তেল ও বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে না। নিজের জমির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি উপার্জন করতে পারছেন তিনি।

আরআরএফের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ ড. অসিত বরণ মণ্ডল বলেন, পিকেএসএফের সহায়তায় ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সামনে আরও ১০০টির বেশি পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হলেও সোলার পাম্পে খরচ হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা। এতে কৃষকদের সেচ খরচ কমার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আগুনে পুড়ে ছাই ৪২ ঘর
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে লাগা আগুনে প্রায় ৪২টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ সময় ঘরে থাকা সব আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাড়ির মালিক। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার বানিয়াচালা (মধ্যপাড়া) এলাকার সিরাজ উদ্দিনের ছেলে দলিল লেখক জাহাঙ্গীর হোসেনের সেমিপাকা বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওইসব ঘরে স্থানীয় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বসবাস করতেন। স্থানীয়রা জানান, রাতের ওই সময়ে ভাড়াটিয়ারা রান্নার করছিলেন। হঠাৎ একটি ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৪২টি ঘর এবং ঘরে থাকা সব আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে যায়। স্থানীয়রা প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বাড়ির মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কারখানা ছুটি শেষে ভাড়াটিয়ারা রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দ্রুত আশপাশের ঘরগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজেন্দ্রপুর-চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার মুহাম্মদ আবু সায়েম মাসুম বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।  প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরটিভি/এসএস
আগুনে পুড়ে ছাই ৪২ ঘর
ভাত খাওয়া থেকে ঘটনার শুরু, বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রকে হত্যায় মিলল যেসব তথ্য
খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আজমল হোসেনকে হত্যার ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর নামে মামলা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহতের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে হরিণটানা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় করা হয়েছে। নিহত আজমল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকার কুতুবউদ্দিনের ছেলে। মেসের ছাত্রদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হল (খাজা হল) সংলগ্ন ওই ভাড়া বাড়িতে গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান অনেক শিক্ষার্থী থাকেন। আজমল হোসেনেও সেখানে একটি রুমে থাকতেন।  শুক্রবার রাতে মিল না দিয়ে অন্য একজনের ভাত খেয়ে ফেলেন আজমল। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অপবাদ দিয়ে মেসের কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগত আজমলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন।  পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা ব্যক্তিরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। তবে এসব আঘাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করতে পারেনি। নিহতের বাবা কুতুবউদ্দিন অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করা হয়েছে। ছেলের রুমমেটরা ফোন করে এক লাখ টাকা নিয়ে যেতে বলেছিল। টাকা দিলে ঝামেলা মিটে যাবে বলেও জানানো হয়। পরে ছেলের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় এক বাড়ির মালিক জানান, রাতে পাশের ভবনের ছাদে একজনকে (আজমল) মারধর করতে দেখি। পরে তাকে নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, আজমলের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরে নিহতের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খুবির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকার বাইরে একটি ভাড়া বাড়িতে ঘটেছে। সেখানে গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কিছু শিক্ষার্থী থাকেন। আরটিভি/এসএস
ভাত খাওয়া থেকে ঘটনার শুরু, বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রকে হত্যায় মিলল যেসব তথ্য
সড়কে দড়ি ফেলে অপেক্ষা, ‘মুরগির’ বদলে এলো ডিবির দল
নওগাঁর পোরশায় সড়কে দড়ি ফেলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও মোটরসাইকেলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।  ​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পোরশা থানাধীন শিশা বাজারের পূর্ব পাশে মাটিয়ান্দর সেতু এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। ​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার হলাকান্দর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন (২৮), পোরশা উপজেলার ছোট কাটনা গ্রামের নাইম মাহমুদ (১৯) এবং সমনগর গ্রামের মোস্তাকিম (১৯)। ​ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি টিম পোরশা থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ডাকাতি ও দস্যুতা প্রতিরোধে নিয়মিত টহল ডিউটি পরিচালনা করছিল। রাতে গোপন সংবাদের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, মাটিয়ান্দর সেতুর কাছাকাছি এলাকায় কতিপয় ব্যক্তি রাস্তায় দড়ি টাঙিয়ে পথচারীদের কাছ থেকে ডাকাতি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ​সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের টিমটি মাটিয়ান্দর সেতুর কাছে পৌঁছালে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে পাশের জঙ্গলে পালানোর চেষ্টা করে। পরে ডিবি সদস্যরা পিছু ধাওয়া করে তাদের গ্রেপ্তার করে। ​পরবর্তীতে উপস্থিত জনতার সামনে গ্রেপ্তারকৃতদের দেহ তল্লাশি করে ১ নম্বর আসামি দেলোয়ারের নিকট থেকে দেশীয় তৈরি তীক্ষ্ণ খাঁজকাটা একটি লম্বা হ্যান্ডেল চেইন, ২ নম্বর আসামি নাইমের নিকট থেকে একটি দেশীয় তৈরি হ্যান্ডেল চেইন এবং আসামি মোস্তাকিমের হাতের শপিং ব্যাগ থেকে ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি দড়ি ও একটি ছোট টর্চ লাইট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়। ​বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যে-কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। ​ এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পোরশা থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরটিভি/এসএস
সড়কে দড়ি ফেলে অপেক্ষা, ‘মুরগির’ বদলে এলো ডিবির দল
প্রেমিকার জন্য ‘মন না গলা’ সেই প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে আলোচিত মিষ্টি আক্তার ও সেনাসদস্য জীবন মিয়ার প্রেমের ঘটনায় দীর্ঘ ১০ দিন অনশনের পর মামলা রুজু হয়েছে। প্রেমিক জীবন মিয়া তার প্রেমিকা মিষ্টি আক্তারকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় মামলাটি রুজু করা হয়। বিয়ের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধের বিভিন্ন সালিশ বৈঠকের পর কোনো সমাধান না আসায় প্রেমিকা মিষ্টি আক্তারের বাবা বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেছেন।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে মিষ্টি আক্তারের বাবা খশরু মিয়া বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় অপহরণ, মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলাটি করেন।  দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, মামলায় সেনাসদস্য জীবন মিয়াকে প্রধান আসামি করে মোট সাত জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে মিষ্টি আক্তারকে অপহরণ, মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন। জানা গেছে, মিষ্টি আক্তার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর সাপমারী গ্রামের খশরু মিয়ার মেয়ে। তিনি ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে জীবন মিয়া উপজেলার তারাটিয়া-পোড়াভিটা জলব্রিজ এলাকার ফেলু মিয়ার ছেলে এবং সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে কর্মরত রয়েছে।  মিষ্টির পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে মিষ্টির সাথে জীবন মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক থাকার পর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ১০ সেপ্টেম্বর মিষ্টি আক্তারকে জীবন মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় কিন্তু মিষ্টি বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় তার উপর শারীরিক নির্যাতনসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান। এদিকে জীবন মিয়া পলাতক থাকায় জীবন ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর মিষ্টি দীর্ঘ ১০ দিন জীবন মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা ও বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একপর্যায়ে মিষ্টির নিরাপত্তা ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিয়ের দাবিতে স্বজন ও স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর মিষ্টির পক্ষে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করে দেওয়ানগঞ্জ-রৌমারী সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, মিষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিষয়টির আইনগত সমাধানের দাবি জানান। দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মিষ্টি ও জীবন মিয়ার প্রেমের ঘটনায় মিষ্টির বাবা খসরু মিয়া থানায় মামলা করেছেন।  মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  আরটিভি/এসএস
প্রেমিকার জন্য ‘মন না গলা’ সেই প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা
চিরনিদ্রায় শায়িত অপ্রতিম
কুমিল্লায় নিহত কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কুমিল্লার গন্ধমতিতে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ শেষে বাড়ির পাশে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় অপ্রতিমের আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অপ্রতিমের বাবা। তিনি বলেন, ‘আমি অপ্রতিমের বাবা। আমার একমাত্র সন্তান অপ্রতিম। আপনাদের ভালোবাসায় সে বড় হচ্ছিল। তার বয়স মাত্র ১৩ বছর। আমি ওর বাবা হিসেবে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যদি সে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকে, তাহলে সবাই তাকে ক্ষমা করে দিয়েন। আর আমার সন্তানের জন্য দোয়া করবেন।’ প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কিশোর অপ্রতিম। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কোটবাড়ির পশ্চিম সানন্দা এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে ইতোমধ্যে আটক করেছে পুলিশ। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আরটিভি/এসএস
চিরনিদ্রায় শায়িত অপ্রতিম
আরও পড়ুন
ধর্ষণ মামলা করে কারাগারে নারী
নারীকে কুঁড়েঘরে নিয়ে যান আনিছুর, অতঃপর...
সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় ৬ হিজড়া আটক
ঝিনাইদহে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করলেন কৃষকরা