
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কুতুবগঞ্জ মাজিদিয়া দাখিল মাদরাসার কম্পিউটার শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর ও লাইব্রেরিয়ান মো. মহিবুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মাদরাসার ইবতেদায়ী শাখার প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
অভিযোগটি তদন্তে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. নুর নবীকে দায়িত্ব দিয়েছেন ইউএনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ওই কর্মকর্তা মাদরাসায় গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছেন।
ইবতেদায়ী প্রধান শিক্ষকের লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাদরাসার ব্যবস্থাপনা কমিটিকে তোয়াক্কা না করে মাদরাসা বন্ধের দিনে টেবিল, চেয়ার ও হাই বেঞ্চ বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি বিধিবিধান বহির্ভূতভাবে সুপার ও অফিস সহকারীর অফিস কক্ষ ভবনের নিচতলায় এবং শিক্ষকদের অফিস কক্ষ দোতলায় করায় মাদরাসা পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।
অভিযুক্ত কম্পিউটার শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর ও লাইব্রেরিয়ান মো. মহিবুলের দাবি, টেবিল ও হাই বেঞ্চ বিক্রির জন্য মাদরাসার সুপার মাহাবুবা আক্তার পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন সহ-সুপার মাওলানা জামাল উদ্দিন। তারা দুজনও ওই কমিটির সদস্য ছিলেন।
মো. মহিবুল বলেন, ৩৪টি হাই বেঞ্চ ১ হাজার ৫ টাকা করে এবং চারটি টেবিল ৭০০ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে। এগুলো বিক্রির জন্য কমিটি করা হয়েছিল। এর বাইরে আমরা কিছুই জানি না।
সহ-সুপার মাওলানা জামাল উদ্দিন বলেন, আমি হাই বেঞ্চ ও টেবিল বিক্রয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান ছিলাম। কিন্তু দুই শিক্ষক আমাদেরকে না জানিয়ে বন্ধের দিনে হাই বেঞ্চ ও টেবিলগুলো বিক্রি করে ফেলে।
সুপার মাহাবুবা আক্তার বলেন, আমি মানসিকভাবে ভালো নেই। তাই টেবিল এবং হাই বেঞ্চ বিক্রির বিষয়ে আমি সহ-সুপারসহ শিক্ষকদেরকে দায়িত্ব দিয়েছি।
ইউএনও রুমানা আফরোজ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. নুর নবী বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে


