ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

‘রাস্তাত গেলে শইল ব্যথা থাকে তিন বেলা, ভোট গেলেগা কেউ উক্কি মারে না’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

‘আউশকান্দির এগুলারে অখন আর রাস্তা মনে হয় না। এক বেলা রাস্তাত গেলে শইল ব্যথা থাকে তিন বেলা। ডেইলি রাইতে ব্যথার বড়ি খাওন লাগে। গাড়ি কী চালাইতায়; হাডনই তো যায় না। আর ভোট আইলে আউশকান্দিত নেতারা পাগল করি দেয়। ভোট গেলেগি কেউ উক্কি মারে না।’ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের আউশকান্দি-গোরাইরা বাজার এবং রুদ্রগ্রাম-নবীগঞ্জ বেহাল সড়ক নিয়ে এসব কথা বলেন স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ সড়কদুটি ব্যবহার করেন উপজেলার অন্তত ২৫ গ্রামের লাখো মানুষ। স্থানীয় বাজার থেকে আমুকোনা বেতাপুর ঈদগাহ হয়ে দেবপাড়া ইউপির ফরিদপুর এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গোরাইর বাজার পর্যন্ত সড়কটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গ্রাম্যবাজারে পণ্য পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং সদর অংশের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি সংস্কারে কারও দৃষ্টি নেই।

আউশকান্দি-গোরাইরা বাজার সড়কে নবীগঞ্জ ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এবং শত শত ছাত্রছাত্রী যাতায়াত করেন। পাকা অংশটুকু ভেঙে এখন মেঠোপথে পরিণত হয়েছে।

প্রতিটি স্থানীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচনে এই সড়কের সংস্কার ইস্যু ভোট আদায়ের প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। বিগত ২৫ বছরে বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থীরা এই সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে ভোট নিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও প্রার্থীরা পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করলেও নির্বাচন পার হয়ে যাওয়ার পর সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। এদিকে সড়কগুলোতে স্থানীয়দের যাতায়াত চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের মো. কাজল মিয়া জানান, সড়কটি ভোট আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে প্রার্থীরা ব্যবহার করেন। কিন্তু নির্বাচন চলে গেলে আর মনে থাকে না।

অটোরিকশাচালক আমজাদ মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, এটা এখন আর চলাচলের উপযুক্ত নয়। এটা এখন আর সড়ক মনে হয় না।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মুকিত গণমাধ্যমকে জানান, সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা চলছে এবং কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

আউশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান দিলাওয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন টেন্ডার তালিকায় সড়কটির নাম দেওয়ার জন্য এমপি ডিও দিয়েছেন এবং চলতি বছরের মধ্যেই কাজ হবে বলে তিনি আশাবাদী।

নবীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা সাব্বির আহমদ জানান, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিশেষ প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে এবং এমপি মহোদয় এটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সম্পন্ন করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে নবীগঞ্জ শহরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ১০ কিলোমিটার অংশজুড়ে চরম পরিস্থিতি। সামান্য বৃষ্টিতেই খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হওয়া এই সড়কটি দেখলে বোঝার উপায় থাকে না, এটি পাকা রাস্তা, নাকি গ্রামের কোনো মেঠোপথ। এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার পানিউমদা, গজনাইপুর, দেবপাড়া ও বাউসা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। এই পথ দিয়েই শাহ তাজ উদ্দিন কুরেশী (রহ.) উচ্চ বিদ্যালয়, ধুলচাতল তাজিয়া মোবাশ্বীরিয়া আলিম মাদ্রাসা, দিনারপুর কলেজ, দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দিনারপুর দাখিল মাদরাসা, পানিউমদা রাগীব-রাবেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করেন। একমাত্র বাইপাস সড়ক হওয়ায় ট্রাক, অটোভ্যান, অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার এক সময় ব্যাপক চলাচল করলেও বেহাল দশার কারণে এখন যান চলাচল খুবই সীমিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কার করা হলেও অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তা এক বছরও টেকেনি। সংস্কারের এক মাস পর থেকেই রাস্তা ভাঙতে শুরু করেছিল। বর্তমানে নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম ১০ কিলোমিটার সড়কের আইনগাঁও, ভরপুর, চৌধুরী বাজার, বাউসা বাজার, বাউসা পয়েন্ট, বাউসা মাদরাসা পয়েন্ট, নাদামপুর মাদরাসা পয়েন্ট, রিফাতপুর ও শিবপাশা এলাকার কোথাও পাকা সড়কের লেশমাত্র নেই।

এসব স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্তে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ও কাদামাটি জমে থাকে। যার ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বক্তব্য ভাইরাল / অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব: ইউপি চেয়ারম্যান
ফরিদপুরের সালথায় স্থানীয় একটি মিটিংয়ে সমর্থকদের অস্ত্র তৈরির নির্দেশ এবং হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যদুনন্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মোল্লার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার উজিরপুর বাজারে আয়োজিত একটি মিটিংয়ের ভিডিও। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা। তার দাবি, তিনি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি এডিট করা। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, তার দলের এক ভ্যানচালককে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে ভ্যান রেখে দিয়েছে। চাইলে দলীয় লোকজন নিয়ে ভ্যানটি উদ্ধার করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা না করে পুলিশের সহায়তা নিচ্ছেন। বর্তমানে এলাকাকে শান্ত রাখতে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেন। সালথা থানার ওসি বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অবগত নই। চেয়ারম্যান সম্প্রতি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি-না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’ আরটিভি/এসআর
অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব: ইউপি চেয়ারম্যান
ইমামকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই গ্রেপ্তার নারী
পটুয়াখালী মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিবসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছিলেন এক নারী। তবে মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপর ওই মামলার বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ইমামকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই গ্রেপ্তার নারী
‘তোকে আমি এমন করব সারাজীবন কাঁদবি’ বলে বাবাকে হুমকি, পরে মিলল ছেলের বস্তাবন্দি মরদেহ
ভোলার বোরহানউদ্দিনে নিখোঁজের দুই দিন পর খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মো. ইসমাইল (৬) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে মো. রোকন নামে এক যুবককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
‘তোকে আমি এমন করব সারাজীবন কাঁদবি’ বলে বাবাকে হুমকি, পরে মিলল ছেলের বস্তাবন্দি মরদেহ
প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে ফেলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন বাবা-মা, হতাশায় কূপে ঝাঁপ তরুণের
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শিবতলায় পানির গভীর কূপে ঝাঁপ দেওয়া এক তরুণকে (২০) উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে প্রায় ৩০ ফুট গভীর কূপ থেকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে ফেলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন বাবা-মা, হতাশায় কূপে ঝাঁপ তরুণের
শ্বশুরবাড়ির ১৩ লাখ টাকার সোনা নিয়ে পালালেন ঘরজামাই, অতঃপর...
মানিকগঞ্জের ঘিওরে ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া প্রায় ১৩ লাখ টাকা মূল্যের সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. সামিউলকে (৪০) রাজশাহীর বোয়ালিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ওই ব্যবসায়ীর মেয়ের স্বামী এবং ঘরজামাই হিসেবে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
শ্বশুরবাড়ির ১৩ লাখ টাকার সোনা নিয়ে পালালেন ঘরজামাই, অতঃপর...
আরও পড়ুন
‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’ এই পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা
বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি
২৬ বছরের চলাচলের পথ বন্ধ করে বাউন্ডারি নির্মাণ, ইউএনওর চিঠি
সড়ক দুর্ঘটনাতেও দায়িত্ববিচ্যুত হননি ইউএনও মেহেদী হাসান