
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে উপজেলা সদরের কলেজ মোড় থেকে পূর্বভাগ ইউনিয়নের ভুবন পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ ও কাদা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন নাসিরনগর সদর, গোকর্ণ, পূর্বভাগ ও হরিপুর ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ।
এদিকে দুর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে গত ৯ আগস্ট স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ মৌলুদ মাইকিং করে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান। তার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর। কাজ শেষ করার সময়সীমা ছিল ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ। পরে ২০২৬ সালের ৪ মে পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ২০২৭ সালের ৪ মে পর্যন্ত তৃতীয় দফায় সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন ঠিকাদার।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজ মোড় থেকে ফুলপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার কার্পেটিং হয়েছে। আরও কিছু অংশে ম্যাকাডাম ও ঢালাই করা হলেও অধিকাংশ সড়ক ভাঙাচোরা, খানাখন্দ ও কাদায় ভরা। চৈয়ারকুড়ি বাজারের পর প্রায় ৬ কিলোমিটার অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।
এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ এবং ঠিকাদার ৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা বিল তুলেছেন।
ঠিকাদার খায়রুল হাসান বলেন, বর্ষার কারণে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্পেটিং বন্ধ থাকে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পুরোদমে কাজ শুরু করা হবে। তার দাবি, বন বিভাগ গাছ কাটতে দেরি করায় কাজ বুঝে পেতেও বিলম্ব হয়েছে।
তবে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মমিন ঠিকাদারের গাফিলতিকে সড়কের দুরবস্থার জন্য দায়ী করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন করে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে; এবার দ্রুত কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরটিভি/এমএইচজে




