
সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে গিয়ে চার বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার জামালদি গ্রামের রওশন আরা (৬০)। দীর্ঘ সময় ধরে মক্কার বিভিন্ন এলাকা, হাসপাতাল ও মর্গে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি স্বজনরা। সৌদি আরবের থানায় অভিযোগ ও মামলা করেও কোনো তথ্য মেলেনি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এখন সৌদি প্রবাসীদের কাছে আকুতি, মায়ের সন্ধান চান সন্তানরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বামী শাহজালালের সঙ্গে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে সৌদি আরবে যান রওশন আরা। জেদ্দায় পৌঁছে মক্কার কাছাকাছি একটি হোটেলে ওঠেন তারা। তাদের সঙ্গে আরও ৩০ থেকে ৩৫ জন ছিলেন। একদিন ভোররাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে বের হওয়ার সময় স্বামীর হাত থেকে রওশন আরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রওশন আরার স্বামী শাহজালাল বলেন, স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি সৌদি আরবে প্রায় ১৫ দিন অবস্থান করে মক্কার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় থানায় অভিযোগ ও মামলা করেন। তবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরে রওশন আরাকে খুঁজতে তার মেঝ ছেলে সৌদি আরবে যান। সেখানে প্রায় এক মাস অবস্থান করে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন। বিভিন্ন হাসপাতাল ও মর্গেও সন্ধান চালানো হয়। তার বড় ভাই, ছোট বোনসহ একাধিক স্বজনও সৌদি আরবে গিয়ে রওশন আরার খোঁজ করেন। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রওশন আরা পড়াশোনা জানেন না। তার উচ্চতা প্রায় পাঁচ ফুট এবং গায়ের রং শ্যামলা। নিখোঁজের সময় তিনি স্বামী শাহজালালের সঙ্গে ওমরাহ পালনে ছিলেন। রওশন আরার তিন ছেলে-সালাউদ্দিন, সালাম ও কালাম এবং দুই মেয়ে-শাহনাজ ও রাজিয়া। চার বছর ধরে মায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
মায়ের সন্ধান পেতে বিভিন্নজনের কাছেও তারা গেছেন। এমনকি কবিরাজ ও জিন নিয়ে কাজ করেন-এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কেউ কেউ রওশন আরা বেঁচে আছেন বলে দাবি করলেও, এখন পর্যন্ত এর কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
রওশন আরার সন্তানরা সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, হজ ও ওমরাহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে তার সন্ধানে সহযোগিতা চেয়েছেন বলে দাবি পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।
কেউ রওশন আরার বিষয়ে কোনো তথ্য জানলে ০১৯১৪৬৪৩৫৪১ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বজনরা। নম্বরটিতে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমোতেও যোগাযোগ করা যাবে।
আরটিভি/এমএ




