
পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্যবন্দরের এক জেলের জালে ধরা পড়লো এক কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় আকারের ইলিশ। মাছটি বন্দরে নিয়ে আসলো প্রতি কেজি ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে কিনে নিয়েছেন সৌরভ নামের এক ক্রেতা। সেই হিসাবে মাছটির মোট দাম দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৫০ টাকা। মণপ্রতি হিসাবে এ ইলিশের দাম পড়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মহিপুর বাজারে মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন আসাদ নামের এক মাঝি। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর পায়রা বন্দরের শেষ বয়ায় এফবি জুনাইদ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারে ইলিশটি ধরা পড়ে। পরে মহিপুরের মায়ের দোয়া আড়তে মাছটি বিক্রি করা হয়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, বড় আকারের ইলিশের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বরাবরই বেশি। বিশেষ করে দুই কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বাজারে এলে তা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা যায়।
স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ী কাওসার বলেন, দুই কেজির ইলিশ বাজারে খুব বেশি দেখা যায় না। মাছটি দেখে ক্রেতাদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ৩ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে সৌরভ মাছটি কিনে নিয়েছেন।
মৎস্য গবেষকরা বলছেন, সমুদ্রে পর্যাপ্ত খাবার ও অনুকূল পরিবেশ পেলে ইলিশ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি বড় ইলিশ ধরা পড়া সামুদ্রিক ইলিশের প্রজনন ও বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার একটি ইঙ্গিত হতে পারে।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, দুই কেজি ওজনের ইলিশ পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় আকারের মাছের উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরে। তবে এ ধরনের মাছের প্রাচুর্য বা সামগ্রিক মৎস্যসম্পদের অবস্থা নির্ধারণে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়া জেলেদের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি ইলিশের উৎপাদন ও বৃদ্ধির বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনার নিয়মগুলো যথাযথভাবে মানা জরুরি।
আরটিভি/এমএ




