
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মাদাম বিবির হাট এলাকার সাগর উপকূলে আষাদী স্টিল জাহাজ ভাঙ্গা কারখানায় কাজ করার সময় লোহার আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন কাটারম্যান আব্দুস সালাম। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার না করিয়ে শুধু পায়ে প্লাস্টার করে তাকে বাড়ি চলে যেতে বলা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলেও মালিকপক্ষের কাছ থেকে চিকিৎসা সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে আষাদী স্টিল কারখানায় কাজ করার সময় লোহার আঘাতে গুরুতর আহত হন আব্দুস সালাম। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার পা ভেঙে গেছে। তাকে সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে পায়ে প্লাস্টার করিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
আহত শ্রমিক আব্দুস সালাম অভিযোগ করে বলেন, দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ডাক্তাররা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান তার পা ভেঙে গেছে তাকে অপারেশন করাতে হবে, মালিক পক্ষ ডাক্তারদের কথা না শুনে পায়ে শুধু প্লাস্টার করে দিয়ে বাড়ি চলে যেতে বলে দুই মাস পরে এসে দেখা করতে বলে।
তিনি আরও বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি সিলেট আমার একার পক্ষে বাড়ি যাওয়া সম্ভব হয়নি। আমি কদম রসুল ভাড়া বাসায় ছিলাম। দুর্ঘটনার পর থেকে আমার কোন খোঁজ খবর রাখেনি মালিকপক্ষ। আমার পায়ের অবস্থা অবনতি হলে আমি দুইজন ডাক্তারকে দেখাই তারা সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলে আমার পায়ে দ্রুত অপারেশন করতে হবে এবং লোহার পাত লাগাতে হবে।
এ অবস্থায় চিকিৎসা ব্যয় বহন করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন আহত এই শ্রমিক। তার অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর মালিকপক্ষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা তো করেইনি, পরবর্তীতেও চিকিৎসার বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
এদিকে বিষয়টি জানতে ওয়ার্ডের ম্যানেজার আলমগীরকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বলেন আপনি ডাক্তার নাকি? আপনি কি বুঝবেন, ওর চিকিৎসা চলছে এটা বলেন টেলিফোনের লাইন কেটে দেন, পরবর্তীতে নাম্বারটি ব্লক করে দেন।
শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কে এম শহীদুলাহ বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা। একজন শ্রমিক আহত হয়েছেন, তার চিকিৎসা না করিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য মালিকপক্ষ চেষ্টা করেছে। এই মুহূর্তে তার পায়ের অবস্থা খুবই খারাপ তাকে দ্রুত অপারেশন করাতে হবে। তার পায়ে লোহার রড লাগাতে হবে। যদি অপারেশন করা না হয় তাহলে তার পা আজীবনের জন্য অকেজো হয়ে যাবে। অবশ্যই মালিকপক্ষকে তার সমস্ত চিকিৎসার খরচ বহন করতে হবে একই সঙ্গে যতদিন পর্যন্ত সে সুস্থ না হয় ততদিন পর্যন্ত তার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে তার বেতন ও নিয়মিতভাবে পরিশোধ করতে হবে।
এ বিষয়ে কলকারখানা প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, আমরা অভিযোগ পেলে অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ নেব। যেহেতু বিষয়টা আমাদের নজরে এসেছে আগামীকাল এ বিষয়ে খোঁজখবর নিব এবং উক্ত শ্রমিকের শ্রম আইন অনুযায়ী সমস্ত চিকিৎসার ব্যয় মালিকপক্ষ বহন করবেন।
আরটিভি/এমএ




