ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

দুই যুগ শেষে অবসর, আবেগঘন পরিবেশে স্কুলশিক্ষকের বিদায়

মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
ছবি: আরটিভি

হাতে চক ছিল ২৬ বছর ধরে, সামনে ছিল অসংখ্য শিক্ষার্থী। পাঠদানের পাশাপাশি যাদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন, সেই প্রিয় শিক্ষক সজল কান্তি নাথ এবার বিদায় নিলেন কর্মজীবন থেকে। তার বিদায়ের দিনে আবেগঘন হয়ে ওঠে মীরসরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী জোরারগঞ্জ জেবি উচ্চ বিদ্যালয়।

২০০০ সালে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন সজল কান্তি নাথ। দীর্ঘ ২৬ বছর নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান শেষে অবসরজনিত বিদায় নেন তিনি। সকালে শেষবারের মতো বিদ্যালয়ে হাজিরা দেন এবং শিক্ষার্থীদের শেষ পাঠদান করেন তিনি। এরপর আয়োজন করা হয় বিদায়ী সংবর্ধনা।

বিদায়ী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু তুষার কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক সুভাষ সরকারের সঞ্চালনায় স্মৃতিচারণ করেন সহকারী শিক্ষক সুব্রত বড়ুয়া, হেড মাওলানা আনোয়ার হোসেন, টুংকেল বড়ুয়াসহ শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। এ সময় উপহার প্রদান ও কেক কাটার আয়োজনও করা হয়।

বিদায়ের শেষ মুহূর্তে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন প্রিয় শিক্ষক। স্কাউট সদস্য ও শিক্ষার্থীরা ফুল ছিটিয়ে তাকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিদায় জানান। অনেক শিক্ষার্থীকে এ সময় চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।

সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্য তৈরি হয় বিদ্যালয় ছাড়ার পর। সজল কান্তি নাথকে বহনকারী গাড়ির পেছনে পেছনে বিদ্যালয় থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত ছুটে যায় শিক্ষার্থীরা। প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের এমন ভালোবাসার দৃশ্য আবেগাপ্লুত করে তোলে আশপাশের মানুষকেও।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সন্তানদের জন্য চকলেট আনার কথা ছিল জুয়েলের
এক বছরও পার হয়নি বাবা মারা গেছেন। সেই পিতৃহারা শোক কাটতে না কাটতেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকেও হারালো তারা। রাতে যে ভাইয়ের সঙ্গে স্বাভাবিক ফোনালাপ হলো, সকালেই এলো তার মৃত্যুর খবর। নাটোরের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরার ব্যবসায়ী জুয়েল মাদবর। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে পুরো পরিবারটি এখন চরম দিশেহারা ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতেও বড় ভাই শাহজাহান মাদবরের সঙ্গে কথা হয়েছিল জুয়েলের। ব্যবসার কাজে কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন—সবই জানিয়েছিলেন তিনি। বড় ভাই জানতে চেয়েছিলেন নাটোর যাবেন কী উপায়ে। জবাবে জুয়েল বলেছিলেন, সবাই একসঙ্গে পদ্মা সেতুর গোড়া থেকে বাসে উঠবেন। কিন্তু সেই ফোনালাপের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় আসে নির্মম দুঃসংবাদ—নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় জুয়েল আর নেই। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় জুয়েল মাদবরসহ জাজিরার পাঁচ ব্যবসায়ী নিহত হন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। নিহত জুয়েল মাদবরের বড় ভাই শাহজাহান মাদবর চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, গত রাতে জুয়েল ফোন করে বলল ভুট্টা কিনতে নাটোর যাবে। কীভাবে যাবি জানতে চাইলে বলল, সবাই মিলে পদ্মা সেতুর গোড়া থেকে বাসে উঠবে। সকালে ফোন পেয়ে শুনি ভাই আর নাটোরে মারা গেছে! রাতে যে ভাইয়ের সঙ্গে কথা হলো, সকালে শুনলাম সে আর নেই—এই বাস্তবতা কীভাবে মেনে নেব? জীবিকার তাগিদে নাটোরের তাহেরপুর থেকে ভুট্টা কিনে ফেরাই ছিল জুয়েলের উদ্দেশ্য। কিন্তু সেই যাত্রা আর শেষ হলো না। বাড়িতে জীবিত ফেরার বদলে পৌঁছাল তার মৃত্যুর সংবাদ। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে আদর করে গেছেন চার বছরের মেয়ে রিদিতা ও দুই বছরের ছেলে সাইফানকে। কথা দিয়েছিলেন, ফেরার পথে তাদের জন্য চকলেট নিয়ে আসবেন। ছোট্ট দুই শিশুর কাছে বাবার সেই প্রতিশ্রুতিই ছিল আনন্দের অপেক্ষা। তারা এখনো অবুঝ। বাবার ফেরা না-ফেরার সমীকরণ বোঝার বয়স তাদের হয়নি। মা ও স্বজনদের কাছে অবুঝ শিশুরা বারবার প্রশ্ন করছে, ‘বাবা কই, মা কখন আসবে?’ পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক বছর আগে জুয়েলের বাবা মারা যান। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম জুয়েলকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পুরো পরিবারটি। গত দুই দশক ধরে জাজিরার কাজিরহাট এলাকায় ভুসামাল ও রড-সিমেন্টের ব্যবসা করে আসছিলেন জুয়েল। তার ওপরই নির্ভরশীল ছিল পুরো সংসারের চাকা ও দুই শিশুর ভবিষ্যৎ। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় জুয়েল মাদবর ছাড়াও জাজিরা উপজেলার আরও চার ব্যবসায়ী প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতরা হলেন—ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার সালাল মোল্যা (জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে), ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার সোহাগ শিকদার (ইউনুস শিকদারের ছেলে), কাজিরহাট এলাকার ভুসামাল ব্যবসায়ী সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার হলুদ ব্যবসায়ী শাহিন বেপারী (রাজ্জাক বেপারীর ছেলে)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা সবাই দীর্ঘদিন ধরে কাজিরহাট বাজারসহ আশপাশের এলাকায় সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছিলেন। রাজশাহী ও নাটোরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন ও ধনিয়াসহ কৃষিপণ্য কেনার পরিকল্পনা নিয়ে তারা একসঙ্গে রওয়ানা হয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক যাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাবিরতির পর বাসটির গতি অনিয়ন্ত্রিত ছিল। চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকায় যাত্রীরা তাকে সতর্ক করে গতি কমানোর অনুরোধ জানালেও তা রক্ষা হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। একসঙ্গে পাঁচজন স্থানীয় উদ্যমী ব্যবসায়ীকে হারিয়ে জাজিরা জুড়ে এখন শোকের মাতম। পরিবারগুলোর কান্না আর আহাজারিতে কাজিরহাট এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। আরটিভি/টিআর
সন্তানদের জন্য চকলেট আনার কথা ছিল জুয়েলের
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের মরদেহ হস্তান্তর, তদন্ত কমিটি গঠন
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নাটোর জেলা প্রশাসন।
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের মরদেহ হস্তান্তর, তদন্ত কমিটি গঠন
জমি লিখে না দেওয়ায় শতবর্ষী বাবাকে হাসপাতালে নিতে দেয়নি ছেলে
গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি লিখে না দেওয়ায় শতবর্ষী বৃদ্ধ বাবাকে হাসপাতালে নিতে বাঁধা দিচ্ছে সন্তান। বৃদ্ধ বাবাকে হাসপাতালে যাতে না নিতে পারে সেজন্য ঘরের সামনে দেওয়া হয়েছে বেড়া। বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরছে বৃদ্ধ মুনসুর আলী (১১৫)। 
জমি লিখে না দেওয়ায় শতবর্ষী বাবাকে হাসপাতালে নিতে দেয়নি ছেলে
হাজার ডিসেম্বর চলে যাবে, হাসিনা ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন
হাজার ডিসেম্বর চলে গেলেও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরবেন না বলে মন্তব্য করেছেন রাশেদ খাঁন।
হাজার ডিসেম্বর চলে যাবে, হাসিনা ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন
‘মিথ্যা মামলায়’ ফাঁসানোর হুমকির অভিযোগ এএসআইয়ের বিরুদ্ধে, অতঃপর...
ঢাকার ধামরাইয়ে তিন পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটকের পর তার পরিবারের কাছে ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠায় আল মামুন নামে ধামরাই থানার এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ওই এএসআইকে প্রত্যাহারের তথ্য নিশ্চিত করেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান। মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে। তবে কী অভিযোগে তাকে বদলি করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। সম্প্রতি ধামরাইয়ের সানোড়া ইউনিয়নের দ্বিতীয় মহিষাসী এলাকায় মো. হান্নান মৃধা নামে এক ব্যক্তিকে তিন পিস ইয়াবাসহ আটক করেন ধামরাই থানার এএসআই আল মামুন। হান্নান মৃধার পরিবারের দাবি, আটকের পর তাকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ আটক দেখিয়ে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তার স্ত্রীর কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ওই এএসআইকে ১৫ হাজার টাকা দেন তার স্ত্রী। তবে পরে আরও ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল এএসআই আল মামুনকে প্রত্যাহার করা হয়। ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান জানান, এ বিষয়ে তিনি কোনো লিখিত আদেশ পাননি। মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে ওই পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাকে ক্লোজড করা হয়েছে, নাকি সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তা আদেশ পাওয়ার পর বুঝতে পারবেন। অভিযোগের বিষয়টিও তাকে স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। আদেশে এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে বলে জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
‘মিথ্যা মামলায়’ ফাঁসানোর হুমকির অভিযোগ এএসআইয়ের বিরুদ্ধে, অতঃপর...
আরও পড়ুন
স্কুলশিক্ষকের রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি, অতঃপর...
চট্টগ্রামে দিনদুপুরে সরকারি পুকুরের মাছ লুটের চেষ্টা
সংকট নিরসনে ইউজিসির কমিটি গঠন, নেই চুয়েটের কোনো প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরে ১০০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ে বিশাল উদ্যোগ