
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মাদামবিবিরহাট এলাকার আষাদী স্টীল জাহাজভাঙা কারখানায় লোহার ভারী পাতের আঘাতে পা ভেঙে যাওয়া শ্রমিক মোহাম্মদ সালামের অবশেষে উন্নত চিকিৎসা হয়েছে। আরটিভি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর মালিকপক্ষ তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার পায়ের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে আরটিভির সাংবাদিক নগরীর ওই হাসপাতালে গিয়ে আহত শ্রমিক মোহাম্মদ সালামের সঙ্গে দেখা করেন এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
এর আগে কারখানায় কাজ করার সময় লোহার ভারী পাতের আঘাতে সালামের পা ভেঙে যায়। অভিযোগ ওঠে, কারখানা কর্তৃপক্ষ তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে শুধু প্লাস্টার করিয়ে তাকে বাড়ি চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার করে পায়ে রড না বসালে ওই শ্রমিকের স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সালামের পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হলেও বিষয়টি নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ করা হয়।
আহত শ্রমিক সালামের চিকিৎসার বিষয়ে জানতে কারখানার ইয়ার্ড ম্যানেজার আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘আপনি ডাক্তার নাকি? আপনি কী বুঝবেন? ওর চিকিৎসা চলছে।’ এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই নম্বর থেকে আরটিভি সাংবাদিকের নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আরটিভি অনলাইনে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর কারখানা কর্তৃপক্ষ আহত শ্রমিকের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সালামের পায়ের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার নিশ্চিত হওয়ায় আরটিভি অনলাইন ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আহত শ্রমিক মোহাম্মদ সালাম ও তার পরিবার।
শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কে এম শহীদুল্লাহ বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা। তারপরও মালিকপক্ষ আহত শ্রমিকের অস্ত্রোপচার করিয়েছে। এ জন্য আরটিভি ও আরটিভির সাংবাদিককে কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি আরও বলেন, শুধু অস্ত্রোপচার করালেই হবে না, ওই শ্রমিক সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তার চিকিৎসা খরচ এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা যেন কারখানা কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে পরিশোধ করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। আমি ইতোমধ্যে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
আহত শ্রমিকের পরিবার জানিয়েছে, তার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আরও চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। এ অবস্থায় চিকিৎসার পরবর্তী ব্যয় ও কর্মকালীন প্রাপ্য সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা।
আরটিভি/জেএমএ


