
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে (মমেক) ঘিরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদনহীন এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের পেছনে নিয়মিত তদারকির ঘাটতির পাশাপাশি অর্থ লেনদেনের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১ হাজার ৩৩২টি। এর মধ্যে নগরীতেই রয়েছে ৭২৩টি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।
মমেক হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন বিপুলসংখ্যক রোগী। তাদের ঘিরে হাসপাতালের আশপাশের চরপাড়া, নয়াপাড়া, কপিক্ষেত, মাসকান্দা, ব্রাহ্মপল্লী, বাঘমারা ও ভাটিকাশরসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই সেবা কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সম্প্রতি ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এক ক্লিনিক মালিকের সঙ্গে এক অফিস সহায়কের টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়। টাকা লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগও রয়েছে।
ত্রিশালের হাসিনা বেগম অভিযোগ করেন, ময়মনসিংহের হেলথকেয়ার ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর তার পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়। পরে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি ধরা পড়ে বলে তার দাবি।
অন্যদিকে, নগরের বলাশপুর এলাকার বাসিন্দা শান্তা নামে এক নারীর ভেনাস হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় মৃত্যু হয় বলে তার পরিবারের অভিযোগ। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আপস হলেও তারা ন্যায়বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন শান্তার মা শেফালী বেগম।
এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালের রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর বিনিময়ে চিকিৎসকদের কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য জানা যায়নি।
নাগরিক নেতাদের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবার নামে কোথাও কোথাও রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়ায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন তাঁরা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক— সুজনের ময়মনসিংহ মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইয়াজদানী কোরাইশী কাজল বলেন, চিকিৎসাসেবার নামে এক ধরনের প্রতারণার ফাঁদ তৈরি হয়েছে। যাদের এসব প্রতিষ্ঠান তদারকির দায়িত্ব, তাদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ফখরুল হাসান চৌধুরী বলেন, কার্যালয়ে টাকা লেনদেনের ঘটনাটি স্বীকার করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এসএস


