
ময়মনসিংহের ভালুকায় পৃথক স্থান থেকে চার জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার খারুয়ালী ও উথুরা ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রাম থেকে ওই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে দুইজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এবং অপর দুইজন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের পৃথক দুটি স্থান থেকে দুই ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন—বনগাঁও গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে হাফেজ আলী (৬০) এবং একই গ্রামের মাহতাব আলীর ছেলে ছফির আলী (৩৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ দিন সকালে কয়েকজন শিশু মাদরাসায় যাওয়ার পথে মাহতাব আলীর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে ছফির আলীর লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে।
অন্যদিকে, একই দিন সকালে পরিবারের সদস্যরা বসতঘরের আড়ার সঙ্গে হাফেজ আলীর লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে।
এর আগে, বুধবার সকালে খারুয়ালী গ্রামে মাঠে গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে মাটিতে ছিঁড়ে পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের সচল লাইনের তারে অসাবধানতাবশত জড়িয়ে পড়েন ধনু আকন্দ (৬০)। দূর থেকে ভাইকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখে তাকে বাঁচাতে দ্রুত এগিয়ে আসেন তার আপন চাচাতো ভাই শাহাবুদ্দিন আকন্দ (৬৫)। কিন্তু উদ্ধার করতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুতায়িত হন। ফলে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। নিহত ধনু আকন্দ ওই গ্রামের মজিদ আকন্দের ছেলে এবং সাহাব উদ্দিন আকন্দ আব্দুল আজিজ আকন্দের ছেলে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পৃথক ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে খারুয়ালী এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত দুইজনের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অপর ঘটনায় উদ্ধারকৃত দুইজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই মরদেহগুলোও পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
আরটিভি/এমএম


