
কারিগরি সমীক্ষা শেষ হলে আগামী অর্থবছর থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা প্রশাসনিক ভবন ও হলরুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, তিস্তা আমার জীবনসংগ্রামের একটি অংশ। তিস্তা পাড়ের সন্তান আমি। আমি চাই, তিস্তা পাড়ের এই অঞ্চলকে মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে।
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীর দুই পাড়ের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তা নদীকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এর সমীক্ষা ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। কারিগরি ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে। আশা করছি, কারিগরি সমীক্ষা শেষ হলে আগামী অর্থবছর থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। তবে সরকারের কোনো প্রকল্প একদিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এর আগে ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে হয়, এরপর ডিপিডি তৈরি হয়। পরে বিভিন্ন পর্যায়ে তা অনুমোদনের জন্য যায়। এভাবে কয়েকটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হয়।
কুড়িগ্রামকে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, কুড়িগ্রাম জেলাকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। গতকালও আমাদের এই কুড়িগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এ বিষয়ে এসেছিলেন। আজকে আমি নিজে আসলাম।
তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম থেকে সরকার কোনো আসন পায়নি বলে এ জেলা অবহেলিত থাকবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। কুড়িগ্রাম একটি পশ্চাৎপদ জেলা। এখানে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা অনেক। এ কারণে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে মানুষ যাতে সরকারের ওপর আস্থা রাখতে পারে, সে বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই নয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও দুর্নীতি এখনো রয়ে গেছে। আমরা এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। সরকার আইনশৃঙ্খলার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। কেউ যেন নিজের হাতে আইন তুলে না নেয়। জনগণ ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।
অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, জেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব ও কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/টিআর


