
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে টাঙ্গন নদীর কদমতলী মৎস্য অভয়াশ্রমে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ও প্রাকৃতিক খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে হুমকিতে পড়েছে দেশীয় প্রজাতির হাজার হাজার মা মাছ। দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় অভয়াশ্রমটির অস্তিত্ব ও দেশীয় মাছের প্রজনন হুমকির মুখে পড়েছে।
২০০১ সালে পীরগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বনুয়াপাড়া এলাকায় টাঙ্গন নদীর বাঁকে দেশীয় মাছের নিরাপদ প্রজনন ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে অভয়াশ্রমটি গড়ে তোলে মৎস্য বিভাগ। সেখানে রুই, কাতলা, শোল, বোয়াল, আইড়, চিতল, কই ও টেংরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ আশ্রয় নেয়। প্রজনন মৌসুমে নদীতে ডিম ছেড়ে আবার অভয়াশ্রমে ফিরে আসে এসব মাছ।
অভয়াশ্রমের সভাপতি ফজলুল করিম জানান, এখানে ৩০ থেকে ৫০ কেজি ওজনের কয়েক হাজার মা বোয়াল, আইড়, চিতল, রুই ও কাতলা মাছ রয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় মাছগুলো ভেসে উঠছে এবং স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।
সহসভাপতি এন্তাজুল হক বলেন, পানির পাশাপাশি প্রাকৃতিক খাবারও কমে গেছে। এতে মা মাছগুলো প্রয়োজনীয় খাদ্য পাচ্ছে না।
পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশকর্মী নসরতে খোদা রানা বলেন, অভয়াশ্রমটি রক্ষা করা না গেলে এ অঞ্চলের খাল-বিল ও নদ-নদী থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ হারিয়ে যেতে পারে। এর ফলে জীববৈচিত্র্যেও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি ও খাদ্যসংকটের বিষয়টি স্বীকার করে পীরগঞ্জের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আয়শা আকতার বলেন, দীর্ঘদিন খনন না করায় পলি জমে অভয়াশ্রমে পানির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মাছের জন্য কিছু খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সম্প্রতি অভয়াশ্রমটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মৎস্য অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহনেওয়াজ সিরাজী। তিনি বলেন, মা মাছের প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত অভয়াশ্রমটি খননসহ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
আরটিভি/এমএইচজে




