
‘খেলার ছলে’ সকালে ঘর থেকে বেরিয়েছিল তিন বছরের শিশু হালিমা আক্তার। কে জানত, সেই যাওয়াই হবে তার শেষ যাওয়া! দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টার আকুল অপেক্ষা আর খোঁজাখুঁজির পর মিলল শুধু তার নিথর দেহ। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের নিশ্চিন্তা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ৯টায় প্রতিবেশীর ঘর থেকে শিশু হালিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত হালিমা নিশ্চিন্তা এলাকার বাসিন্দা নাছির উদ্দীনের আদরের কন্যাসন্তান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বাড়ির পাশে হাসিমুখে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় হালিমা। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও সে ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। স্বজনেরা দিগ্বিদিক ছুটে বেড়ান, পাড়ার প্রতিটি কোণায় কোণায় খোঁজেন। কিন্তু কোথাও মেলেনি তার সন্ধান। বুকভরা আশা আর চোখভরা জল নিয়ে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতিতে ব্যাকুল বাবা নাছির উদ্দীন একপর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
কান্নায় ভেঙে পড়ে বাবা নাছির উদ্দীন বলেন, সকাল থেকে আমার কলিজার টুকরো মেয়েটাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। চারদিকে কত খুঁজলাম! শেষমেশ নিরুপায় হয়ে পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে খোঁজাখুঁজি করে আমার মা-মণির লাশ উদ্ধার করল। ও তো কোনো অন্যায় করেনি, তবে কেন আমার বুকটা এভাবে খালি করা হলো?
অভিযোগ পেয়ে ভূজপুর থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর রাত ৯টার দিকে নিশ্চিন্তা হিন্দুপাড়ার পাশে প্রতিবেশীর একটি ঘরে হালিমার নিথর দেহ দেখতে পায় পুলিশ।
শিশুটিকে হত্যার অভিযোগের বিষয়ে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর নিহতের পাশের বাড়ি থেকে আমরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করি। অত্যন্ত নির্মম ও পৈশাচিক উপায়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই এলাকার রবিউল, আওয়াল ও আসমা নামের তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আরটিভি/টিআর




