
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ক্ষমতার দাপটে স্থানীয় দোলন মল্লিক নামের এক ব্যক্তি শতবর্ষী খাল দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। খালের পাশে এক শতক জমি কিনে, দখল করে নিয়েছেন সরকারি খাসজমি। এমনভাবে বহুতল ভবন করা হচ্ছে, যার ফলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পানিপ্রবাহ। স্থানীয়ভাবে নিষেধ করা হলেও কারও কোনো কথা শোনেননি তিনি। একরকম গায়ের জোরে ভবন নির্মাণ করছেন।
এদিকে, ভূমি অফিসের নাকের ডগায় খাল বন্ধ করে স্থাপনা করা হলেও যেন কোনো দায় নেই তাদের। পরে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলে টনক নড়েনা ভূমি অফিসের।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ঘরিসার ইউনিয়ন ভূমি অফিসসংলগ্ন নড়িয়া-ঘরিসার এলজিইডি রাস্তার পাশে পন্ডিতসার বাজার টিএম গিয়াস উদ্দিন কলেজের পাশে শতবর্ষী খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, খালটি উপজেলা সদরের কৃতিনাশা নদী থেকে ঘরিসারের পদ্মা-হোগলা নদী পর্যন্ত হওয়ায় এটি ব্যবহার করে বিভিন্ন নৌ-যান চলাচল করে। এ খাল দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের জন্য বিভিন্ন পণ্য ও নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে ট্রলার, কার্গো ও নৌকা চলাচল করে।
খাল ভরাট করে যেখানে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, তাতে খালের পরিধি ছোট হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে জোয়ার-ভাটার স্রোত কমে খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার শংকা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবাহিত খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করছেন স্থানীয় দোলন মল্লিক।
সরকারি খাস এবং খাল দখল করে ভবন নির্মাণের প্রতিবাদ করলেও শোনেননি তিনি। পরে স্থানীয়রা ইউনিয়ন ভূমি অফিসারের কাছে অভিযোগ দেন। তবে এখনও নীরব ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা।
স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কামাল খান ও বিপ্লব সরদার জানান, গায়ের জোরে খাল বন্ধ করে ভবন করা হচ্ছে। নিষেধ করার সত্ত্বেও শুনেননি তিনি।
তারা আরও বলেন, প্রভাব খাটিয়ে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ করছেন তিনি। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। আস্তে আস্তে খালটি ভরাট হয়ে যাবে। খালটি ঘরিসার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষিজমিতে পানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান উৎস।
এ খালে স্থাপনা নির্মাণ হলে শুকনো মৌসুমে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যাবে। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়বে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
খাল দখল করে ভবন নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে দোলন মল্লিক সাংবাদিকদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলেন, আমি খাল দখল করে বিল্ডিং করতেছি, তুই যা পারিস করিস। আমি কাউকে ভয় পাই না।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সবুজ চৌধুরী বলেন, প্রবহমান খালের মধ্যে কোনো অবস্থাতেই স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।
ঘরিসার ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, পুনরায় আবার কীভাবে খাল দখল করে সরকারি খাসজমিতে ভবন নির্মাণের সুযোগ নেই।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাইউম খান জানান, সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। কেউ ভবন নির্মাণ করলে অবশ্যই সেটি উচ্ছেদ করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, পানিপ্রবাহ বন্ধ করে এভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করার কোনো মানে হয় না। ক্ষমতার দাপটে যা ইচ্ছে তা করতে দিলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে এসব পানির ছড়া।
আরটিভি/এসএস


