
নিজের ঘাম ঝরানো উপার্জনের টাকা দিয়ে ভাইকে পড়ালেখা করিয়ে স্বাবলম্বী করেছিলেন বড় ভাই। তিন ভাইয়ের উপার্জিত অর্থে চার ভাইয়ের নামে জমিও কেনা হয়েছিল। কিন্তু সেই জমি নিয়ে এখন বিরোধ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাজারে।
অভিযোগ উঠেছে, ছোট ভাই মহিউদ্দিন নিজের অংশের জমির পাশাপাশি অন্য ভাইয়ের জমিও দখল করে রেখেছেন। এমনকি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দোকান থেকে উচ্ছেদ করে জোরপূর্বক জমি দখলেরও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী আ. খালেকের অভিযোগ, মহিউদ্দিন তার ভাই। নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে তাকে পড়ালেখা করিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তিন ভাইয়ের উপার্জিত টাকা দিয়ে চার ভাইয়ের নামে চেয়ারম্যান বাজারে জমি কেনা হয়। ওই জমিতে বর্তমানে বাজারের ভিটা ও দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। অন্য দুই ভাই তাদের অংশ বুঝে নিয়ে ভোগদখল করলেও, মহিউদ্দিন নিজের অংশের পাশাপাশি তার ভোগদখলে থাকা জমিও দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ খালেকের।
খালেকের আরও অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর মহিউদ্দিন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তার ভোগদখলীয় জমি দখল করে নেন। এ ঘটনায় পরিবারটি জমি ও দোকানের দখল ফিরে পেতে স্থানীয় এমপির শরণাপন্ন হয়েছে।
খালেকের ছেলে হারুন বলেন, আমার বাবা নিজের উপার্জিত টাকা দিয়ে তার ভাই মহিউদ্দিনকে পড়ালেখা করিয়েছেন। অথচ আজ সেই ভাই-ই বাবার জমি দখল করে রেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে দেওয়া হলেও আমার চাচা মহিউদ্দিন তা মানছেন না। এমনকি ৫ আগস্টের পর আমাদের দোকান থেকে উচ্ছেদ করে জোরপূর্বক দখল নেওয়া হয়েছে। আমরা এসব কর্মকাণ্ড থেকে পরিত্রাণ চাই এবং আমাদের জমি ও দোকানের দখল ফিরে পেতে চাই।
এ বিষয়ে মহিউদ্দিন বলেন, এই জমি আমি দীর্ঘদিন ভোগ দখলে ছিলাম। আমার ভাইয়ের জমি আমি দখলে রাখিনি।
এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ আহমেদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা থাকলে আমরা বিষয়টি দেখব। এ ছাড়া, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এসএস


