
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতিটি পূজামণ্ডপের আশপাশ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে যেন পার পেয়ে না যায়, সে জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া এলাকায় একটি দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে, সম্পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এবং শৃঙ্খলা বজায় রেখে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সঙ্গে পূজা উদ্যাপন করছেন। তাদের মধ্যে আলাদা আনন্দ-উৎসবের আবহ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের ছুটির পরিমাণ বাড়িয়েছেন এবং এবার বরাদ্দও বাড়িয়েছেন। সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ও সহযোগিতার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জনগণ কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ দেশের জনগণ সব সময় রুখে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি বলেন, ধামরাইয়ের প্রতিটি পূজামণ্ডপে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের নেতৃত্বে পূজা কমিটির সঙ্গে কথা বলে সহযোগিতা করা হচ্ছে। মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়। যার যার ধর্ম সে পালন করবে, আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, তিনি আগের দিনও অনেক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন, সোমবারও করছেন। সাভার, ধামরাই, দোহার ও নবাবগঞ্জসহ ঢাকা জেলার প্রায় প্রতিটি এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সঙ্গে পূজা উদ্যাপন করছেন।
সভায় ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, তাদের ওপর অতীতে অনেক অত্যাচার করা হয়েছে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে চান তারা। ১১ তারিখ সন্ধ্যার পর মন্ত্রী ও তারা উপস্থিত থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তখন সবাই দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, তারা সব ভোট পেয়েছেন।
তমিজ উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বুকে আগলে রাখতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে তাদের সমর্থন ও ভোট কোনোভাবেই কমে না যায়। তারা সেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শাড়ি উপহার দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সংসদ সদস্য বলেন, তাদের এলাকায় ২৩০টি শাড়ি দেওয়া হয়েছে। প্রথমে ৩০০টি শাড়ি থাকলেও পরে ২৩০টি ছিল বলে তাকে জানানো হয়। অথচ তাদের পূজামণ্ডপ ছিল ২৩৫টি। পাঁচটি শাড়ি কম পড়ায় তারা চিন্তায় পড়ে যান। পরে শাড়ি কিনে দেওয়া হয়।
তমিজ উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন, যারা পূজা করছেন, তাদের পুরোহিত অথবা তাদের পছন্দমতো কোনো দরিদ্র ও ভালো মানুষের হাতে শাড়িগুলো পৌঁছে দেওয়া হোক। এই উপহারের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বোঝা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন সংসদ সদস্য।
ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, জেলা পরিষদ, জিআর চাল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও ট্রাস্টি বোর্ডসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অনুদানের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবেও বিভিন্ন জায়গায় অনুদান দেওয়া হয়েছে। তারা সব সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে আছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধান অতিথি শুধু ধামরাইয়ে নয়, সাভার ও ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানেও পরিদর্শন করেছেন। আগের দিন পানি সম্পদমন্ত্রী, বিএনপির সাবেক ছাত্রনেতা ও যুগ্ম মহাসচিব শহিদউদ্দিন চৌধুরী এনি এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করে সবার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।
মুরাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগের দিন ঢাকা মহানগরীর দুটি জায়গায় গিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা পরিদর্শনে রাজশাহী ও চট্টগ্রামে গিয়েছেন।
ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন। প্রত্যেক ধর্মের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জিত হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করে এবং সরকার গঠনে সহায়তা করে জনগণ যে আস্থা রেখেছেন, কাজের মাধ্যমে তার প্রতিদান দিতে চান তারা।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ আপনাদেরও বাংলাদেশ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি সব সময় আপনাদের সহায়ক শক্তি হিসেবে পাশে থাকবে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক আরও বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান ধারণ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে সব মতের মানুষকে নিয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান তারা। বিএনপির নেতা তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেই প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।
এ সময় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এমএম


