ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

রাজবাড়ীর পিয়ারুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২

রাজবাড়ী প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দায় পিয়ারুল সরদার (৩২) হত্যা মামলায় মো. শামীম আহসান (৩৬) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার উপজেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের আহ্লাদীপুরের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ফরিদপুর থেকে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের সদস্য ও সদর উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পিয়ারুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাব্বির হোসেন। এ সময় তার নিয়ন্ত্রণে গুলি থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুরগির খামারের উত্তর পাশে বালুর নিচে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় অস্ত্র আইনের ১৯(ফ) ধারায় মামলা করার জন্য রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে এজাহার দাখিল করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান, শামীমের বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধী তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (সিডিএমএস) পর্যালোচনা করে দুটি হত্যা মামলাসহ চারটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে, গত ১৮ অক্টোবর এ হত্যা মামলায় সুমন মণ্ডল নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই জবানবন্দি থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে এশার নামাজ শেষে উত্তর পাশের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন পিয়ারুল সরদার ওরফে পিয়ারুল ইসলাম। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোঁড়েন। এর একটি গুলি তার বুকের বাঁ পাশে লাগে।

গুলিবিদ্ধ পিয়ারুলকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় গত ১৮ অক্টোবর বিকেলে পিয়ারুলের স্ত্রী ফারজানা হক অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত পিয়ারুলের বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে মোট ১৩টি মামলা ছিল।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইশরাকের পদত্যাগ সাংবিধানিক, আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেকোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বলতে পারেন। ইশরাক নিয়ম মেনেই পদত্যাগ করেছেন। এটি একটি সাংবিধানিক বিষয়, এখানে আইনের কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি।
ইশরাকের পদত্যাগ সাংবিধানিক, আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি / জাজিরায় ৫ ব্যবসায়ীর জানাজায় উপচে পড়া ভিড়
ব্যবসায়িক প্রয়োজনে একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হলেও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার রাতে তাদের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় জাজিরা উপজেলার কাজিরহাটের ধুলট হাটা প্রাঙ্গণে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতদের স্বজন, স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। এর আগে, ওই দিন ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া অংশে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ওই পাঁচজনসহ মোট ১৪ জন নিহত হন। নিহত ব্যবসায়ীরা হলেন—জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দির জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দির জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাটের ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাটের সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে শাহিন বেপারী। জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজিরহাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কৃষিপণ্যের ব্যবসা করছিলেন। রাজশাহী অঞ্চলের তাহেরপুর বাজার থেকে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন ও ধনিয়াসহ বিভিন্ন পণ্য কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা নাটোর হয়ে রাজশাহী যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানাজায় শোক প্রকাশ করে সেনেরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কাজী, কাজিরহাট বাজার কমিটির সভাপতি মোখলেস মাদবর এবং বাজার ইজারাদার টিটু আকন বলেন, নিহত ব্যক্তিরা স্থানীয় বাজারে অত্যন্ত পরিচিত ও সক্রিয় ব্যবসায়ী ছিলেন। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাদের অকালমৃত্যু পুরো ব্যবসায়ী সমাজ ও এলাকার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। জানাজা শেষে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। আরটিভি/টিআর
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি: জাজিরায় ৫ ব্যবসায়ীর জানাজায় উপচে পড়া ভিড়
আমাদের সবার পরিচয় আমরা বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী
সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ কিছুই নয়, আমাদের সবার পরিচয় আমরা বাংলাদেশি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামে পূজা পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই বাংলাদেশি। সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ কিছুই নয়। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই ঝাপিয়ে পড়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে; সেভাবেই ২৪ এর আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মানুষ স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। বিস্তারিত আসছে... আরটিভি/টিআর
আমাদের সবার পরিচয় আমরা বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী
রাজশাহীর বন্ধ শিল্প চালু করতে কাজ করছে সরকার: রিজভী
রাজশাহীতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রাজশাহীর বন্ধ শিল্প চালু করতে কাজ করছে সরকার: রিজভী
সন্তানদের জন্য চকলেট আনার কথা ছিল জুয়েলের
এক বছরও পার হয়নি বাবা মারা গেছেন। সেই পিতৃহারা শোক কাটতে না কাটতেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকেও হারালো তারা। রাতে যে ভাইয়ের সঙ্গে স্বাভাবিক ফোনালাপ হলো, সকালেই এলো তার মৃত্যুর খবর। নাটোরের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরার ব্যবসায়ী জুয়েল মাদবর। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে পুরো পরিবারটি এখন চরম দিশেহারা ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতেও বড় ভাই শাহজাহান মাদবরের সঙ্গে কথা হয়েছিল জুয়েলের। ব্যবসার কাজে কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন—সবই জানিয়েছিলেন তিনি। বড় ভাই জানতে চেয়েছিলেন নাটোর যাবেন কী উপায়ে। জবাবে জুয়েল বলেছিলেন, সবাই একসঙ্গে পদ্মা সেতুর গোড়া থেকে বাসে উঠবেন। কিন্তু সেই ফোনালাপের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় আসে নির্মম দুঃসংবাদ—নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় জুয়েল আর নেই। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় জুয়েল মাদবরসহ জাজিরার পাঁচ ব্যবসায়ী নিহত হন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। নিহত জুয়েল মাদবরের বড় ভাই শাহজাহান মাদবর চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, গত রাতে জুয়েল ফোন করে বলল ভুট্টা কিনতে নাটোর যাবে। কীভাবে যাবি জানতে চাইলে বলল, সবাই মিলে পদ্মা সেতুর গোড়া থেকে বাসে উঠবে। সকালে ফোন পেয়ে শুনি ভাই আর নাটোরে মারা গেছে! রাতে যে ভাইয়ের সঙ্গে কথা হলো, সকালে শুনলাম সে আর নেই—এই বাস্তবতা কীভাবে মেনে নেব? জীবিকার তাগিদে নাটোরের তাহেরপুর থেকে ভুট্টা কিনে ফেরাই ছিল জুয়েলের উদ্দেশ্য। কিন্তু সেই যাত্রা আর শেষ হলো না। বাড়িতে জীবিত ফেরার বদলে পৌঁছাল তার মৃত্যুর সংবাদ। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে আদর করে গেছেন চার বছরের মেয়ে রিদিতা ও দুই বছরের ছেলে সাইফানকে। কথা দিয়েছিলেন, ফেরার পথে তাদের জন্য চকলেট নিয়ে আসবেন। ছোট্ট দুই শিশুর কাছে বাবার সেই প্রতিশ্রুতিই ছিল আনন্দের অপেক্ষা। তারা এখনো অবুঝ। বাবার ফেরা না-ফেরার সমীকরণ বোঝার বয়স তাদের হয়নি। মা ও স্বজনদের কাছে অবুঝ শিশুরা বারবার প্রশ্ন করছে, ‘বাবা কই, মা কখন আসবে?’ পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক বছর আগে জুয়েলের বাবা মারা যান। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম জুয়েলকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পুরো পরিবারটি। গত দুই দশক ধরে জাজিরার কাজিরহাট এলাকায় ভুসামাল ও রড-সিমেন্টের ব্যবসা করে আসছিলেন জুয়েল। তার ওপরই নির্ভরশীল ছিল পুরো সংসারের চাকা ও দুই শিশুর ভবিষ্যৎ। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় জুয়েল মাদবর ছাড়াও জাজিরা উপজেলার আরও চার ব্যবসায়ী প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতরা হলেন—ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার সালাল মোল্যা (জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে), ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার সোহাগ শিকদার (ইউনুস শিকদারের ছেলে), কাজিরহাট এলাকার ভুসামাল ব্যবসায়ী সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার হলুদ ব্যবসায়ী শাহিন বেপারী (রাজ্জাক বেপারীর ছেলে)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা সবাই দীর্ঘদিন ধরে কাজিরহাট বাজারসহ আশপাশের এলাকায় সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছিলেন। রাজশাহী ও নাটোরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন ও ধনিয়াসহ কৃষিপণ্য কেনার পরিকল্পনা নিয়ে তারা একসঙ্গে রওয়ানা হয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক যাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাবিরতির পর বাসটির গতি অনিয়ন্ত্রিত ছিল। চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকায় যাত্রীরা তাকে সতর্ক করে গতি কমানোর অনুরোধ জানালেও তা রক্ষা হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। একসঙ্গে পাঁচজন স্থানীয় উদ্যমী ব্যবসায়ীকে হারিয়ে জাজিরা জুড়ে এখন শোকের মাতম। পরিবারগুলোর কান্না আর আহাজারিতে কাজিরহাট এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। আরটিভি/টিআর
সন্তানদের জন্য চকলেট আনার কথা ছিল জুয়েলের
আরও পড়ুন
শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে যান সোহরাব, অতঃপর...
ঢাকায় আওয়ামী লীগের আরও তিন নেতা ধরা
চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে গিয়েই প্রতিবেশীদের ‘চোখ কপালে’
১৯ মামলার আসামি আন্তঃজেলা গরুচোরের প্রধান গ্রেপ্তার