ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

ফেসবুক পোস্ট ঘিরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩০

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
ছবি : আরটিভি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মাটিয়ান গ্রামে সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ও সাবেক ইউপি সদস্য কাঁচা মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে নারীসংক্রান্ত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাটিয়ান গ্রামের কাঁচা মিয়া মেম্বারের পক্ষের মনসুর মিয়ার ছেলে ইমন আহমেদের (২৩) সঙ্গে নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

তবে কয়েক দিন আগে ওই ঘটনা নিয়ে ইমন আহমেদ ফেসবুকে উত্তেজনাপূর্ণ একটি পোস্ট দেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উদ্যোগে মঙ্গলবার দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সালিশের পর রাতেই আবার উত্তেজনা দেখা দেয়।

এর জেরে বুধবার সকালে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেন। পরে দুপুরের দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে নুরুল ইসলাম পক্ষের রিফাত মিয়া (২০) এবং কাঁচা মিয়া মেম্বার পক্ষের শাহীনুর মিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন।

সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখুঞ্জি বলেন, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুই পক্ষের বিরোধ সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু সালিশের পরও তারা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আবার বিরোধে জড়ান। রাতে ও বুধবার সকালে আমি তাদের অনেক বুঝিয়েছি, কিন্তু তারা শোনেননি। পরে দুপুরের দিকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকায় পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে ব্যস্ত ছিলেন। মাটিয়ান গ্রামের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গাছের ডাল মাথায় পড়ে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার
পটুয়াখালীর বাউফলে গাছের ডাল মাথায় পড়ে মোসলেম উদ্দিন হাওলাদার (৬৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে।
গাছের ডাল মাথায় পড়ে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার
যুবকের লুঙ্গির গোছায় মিলল ওয়ান শুটার গান
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার চরওয়েস্টার এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুঙ্গির কোমরে গোঁজা অবস্থায় দেশীয় তৈরি একটি এলজি (ওয়ান শুটার গান) উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ফরহাদ হোসেন (৩৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 
যুবকের লুঙ্গির গোছায় মিলল ওয়ান শুটার গান
দুই ‘জিনের বাদশা’ গ্রেপ্তার
তারা কখনও ‘জিনের বাদশা’, কখনও তান্ত্রিক-কবিরাজ আবার কখনও আবার কখনও পরিচিতজনের পরিচয়ে বিশ্বাস অর্জন করে প্রতারণা- এভাবেই মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কথিত দুই জিনের বাদশাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম। ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় দায়ের করা একটি মামলার সূত্র ধরে চক্রটিকে শনাক্ত করা হয় বলে তিনি জানান। মামলাটি করেন রাজবাড়ী সদর থানার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম। গ্রেপ্তারদের মধ্যে সুমন (২৬) নামে একজন প্রতিবন্ধী যুবককে (একটি পা নেই) ব্যবহার করা হতো বিকাশের দোকান থেকে টাকা সংগ্রহ করার জন্য। যিনি ক্রেচারে ভর করে সারাদেশে ছুটে টাকা সংগ্রহ করতেন। দীর্ঘ ৮ মাসের অনুসন্ধানে গোয়েন্দা নজরদারিতে সুমনকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে তাদের প্রতারণার বহুমুখী ফাঁদের তথ্য। সুমন ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার ফুলকাচিয়া গ্রামের মৃত মোসলেম হাওলাদারের ছেলে। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালানোর পাশাপাশি অনলাইন প্রতারণা, জুয়াসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। সুমনকে গ্রেপ্তারের পর চক্রের প্রধান সদস্য একই থানার মূলপাইততন গ্রামের রমজান মিয়ার ছেলে মো. রাজিবকে (২৮) গ্রেপ্তারের করা হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) একই থানার কুঞ্জেরহাট বাজারের আশপাশ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সাথে আরও তিনজন সক্রিয় সদস্য রয়েছেন বলে পিবিআই জানিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত তুলে ধরে পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ চক্রটির ফাঁদে পড়েন রশিদুল ইসলাম। বিজয় বাবু নামে তার পরিচিত এক ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে চক্রটি। এরপর তাকে ফোন করে জরুরি টাকার প্রয়োজন জানিয়ে সুলভ মূল্যে ৩৩ টন চাল বিক্রির কথা জানান চক্রটির এক সদস্য। যা বিকেল ৪টার মধ্যে পৌঁছে যাবে বলে জানানো হয়। বিজয় বাবুর সঙ্গে পূর্বে ব্যাবসায়িক লেনদেন থাকায় প্রস্তাব মেনে নেন রশিদুল। এরপর চক্রটির দেওয়া বিকাশ ও নগদ নম্বরে ওইদিন দুপুরে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিতেন। আরও কয়েক দফায় আটটি নম্বরের নগদ ও বিকাশে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে বিজয় বাবুর অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করেন। তখন জানতে পারেন-বিজয় বাবুর সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে তার কখনও কথা হয়নি এবং বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা করেন তিনি। ওই মামলায় ৮ মাস তদন্ত করে কোনো আসামি গ্রেপ্তার না করেই ঘটনাটি তুলে ধরে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব দেওয়া হয় ফরিদপুর পিবিআইকে। মামলাটি তদন্ত করেন উপপরিদর্শক (এসআই) মাজিদুল হক খান। পুলিশ সুপারের ভাষ্যমতে, সারাদেশেই চক্রটির নেটওয়ার্ক রয়েছে। তাদের চক্রে পাঁচজন সদস্য রয়েছেন। যাদের মধ্যে সুমন বিভিন্ন বিকাশ ক্যাশ আউট পয়েন্ট থেকে প্রতারণার টাকা সংগ্রহ করতেন। অন্যরা ভুক্তভোগীদের তথ্য ও মোবাইল নম্বর এবং বিকাশ নম্বরের তথ্য সংগ্রহ করতেন। মামলার তদন্তকালে গোয়েন্দা তথ্য, তথ্য প্রযুক্তি, নির্ভরযোগ্য সোর্সের মাধ্যমে সুমনের তথ্য বেরিয়ে আসে। এরপর তার গতিবিধি লক্ষ্য করা হয় এবং হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের নানামুখী প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। যাদের প্রতারণার কৌশল ছিল বিচিত্র। গ্রেপ্তাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, কখনো ‘জিনের বাদশাহ’ পরিচয়ে গভীর রাতে, বিশেষ করে নারীদের ফোন করত চক্রের সদস্যরা। মোবাইলের পাশে অদ্ভুত শব্দ করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করত। এরপর ভুক্তভোগীর মনে মূল্যবান জিনিসপত্র হারানো কিংবা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করে সেই বিপদ থেকে মুক্তির উপায়ের আশ্বাস দিত। পরে ভয় ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে হাতিয়ে নিত টাকা। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তান্ত্রিক ও স্বনামধন্য কবিরাজ পরিচয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে কঠিন ও গোপন রোগের সমাধান, প্রেমে সফলতা, দাম্পত্য জীবনে সুখসহ নানা সমস্যার সমাধানের প্রলোভন দেখাত বলে পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন। পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার। আরটিভি/এমএ
দুই ‘জিনের বাদশা’ গ্রেপ্তার
ইউনিফর্ম পরে গান গেয়ে বিপাকে এএসআই
সিলেট নগরীর একটি পূজামণ্ডপে পুলিশের পোশাক পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের ঘটনায় জালালাবাদ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) উদয়ন ফারুককে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ইউনিফর্ম পরে গান গেয়ে বিপাকে এএসআই
স্বামী বিদেশ, অন্যের হাত ধরে বেরিয়ে ‘বড় মাশুল’ দিলো জুঁই
গ্রেপ্তারকৃত মাসুদ খাঁন শরণখোলা উপজেলার রতিয়া রাজাপুরের বাসিন্দা। 
স্বামী বিদেশ, অন্যের হাত ধরে বেরিয়ে ‘বড় মাশুল’ দিলো জুঁই
আরও পড়ুন
মিসরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৩, আহত ৩৪
‘জ্ঞান হারানোর পরও রড-স্ট্যাম্প দিয়ে পেটায়, আমার পরিচিত মুখগুলোই আমাকে আঘাত করছিল’
ইশরাকের স্ত্রীর রহস্যজনক পোস্ট
অবশেষে বাঁধের কাজের অর্থ আত্মসাতকারীর পরিচয় মিলল