
পাবনায় একটি আবাসিক মহিলা মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ ওই মাদরাসার শিক্ষক কাম পরিচালক আবু ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও মাদ্রাসায় ভাংচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভাউডাঙ্গা কালুরপাড়া এলাকার ‘নুরে মদিনা আবাসিক মহিলা মাদ্রাসা’য় ওই ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
গ্রেপ্তার আবু ইউসুফ জেলার আতাইকুলা থানার খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দ। তিনি ৫ বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ইসাই প্রামাণিকের কাছ থেকে ভবনটি ভাড়া নিয়ে ওই মাদরাসাটি পরিচালনা করতেন। মাদ্রাসায় ৬০ ছাত্রীর মধ্যে ৩০ শিক্ষার্থী আবাসিক হিসেবে মাদরাসায় থাকতো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মাদরাসা শিক্ষক কাম পরিচালক আবু ইউসুফ চতুর্থ শ্রেণির ওই কোমলমতি শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক তার নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে যান এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত বাইরে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে ডেকে আনে। পরে স্থানীয়রা এসে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত পরিচালককে আটক করেন।
শুক্রবার সকালে এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিকভাবে মাদরাসায় চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত পরিচালককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এসময় ভুক্তভোগী মেয়েটিকেও থানা হেফাজতে নেয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চাচা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত ইউসুফকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েটিকেও আাদলতে হাজির করে জবানবন্দী নেয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এর আগেও ওই মাদরাসার শিক্ষক কাম পরিচালকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় স্থানীয়ভাবে বিষয়গিুলোকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। এলাকাবাসী এই ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন জঘন্য ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এদিকে এ ঘটনার জেরে মাদ্রাসার সব ছাত্রীকে অভিভাবকদের জিম্মায় দিয়ে মাদ্রাসায় তালা মেরে দেয়া হয়েছে।
আরটিভি/ এসকেডি


